বাঙালির দাবিপত্র নিয়ে সর্ব ভারতীয় বাংলা ভাষা মঞ্চের সম্পাদক নীতীশ বিশ্বাসের আবেদন
গুয়াহাটিঃ লোকসভার ভোট আসন্ন । আমরা সমস্ত রাজনৈতিক দলের সামনে আমাদের সংক্ষিপ্ত দাবিপত্র রেখে এ বিষয়ে তাদের কথা মানুষের কাছে বলার আবেদন জানাই। ভারতে বাঙালির মতো আত্ম ধ্বংসী ভাষা গোষ্ঠী আর নেই। তারা ভাষা প্রশ্নে অনেকেই আগে থেকেই যেন হেরে বসেই আছে। তাদের ধারণা ভারতের রাষ্ট্রভাষা হিন্দি। ভারতের রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে আমাদের প্রথমে জানা চাই, নানা চক্রান্তের পরও, এখন পর্যন্ত সংবিধানে এ প্রসঙ্গে কি লেখা আছে। আর সে সব অধিকার কেন্দ্রীয় সরকার, তাদের বাংলা বিরোধী আমলা ও রাজনৈতিক শক্তি কি ভাবে পদদলিত করছে। যেমন NCERT-র বইয়ে রাজ ভাষার ছদ্মবেশে তরুণ ছাত্র -ছাত্রীদের শেখানো হচ্ছে হিন্দি রাষ্ট্র ভাষা। এই সব অপচেষ্টায় প্রভাবিত হয়ে মানুষের দ্বন্দ্ব হাইকোর্ট পর্যন্ত যায়। গুজরাট হাইকোর্ট তাদের ১৩ অক্টোবর, ২০১০তারিখের রায়ে জানায়, ‘there is nothing on the record to suggest that any porvision has been made or order issued declaring Hindi as a national language of the country.’ (- সংবিধান ও বাংলা ভাষা- ৩য় সং-৯পাতা )। এরপরও কি ভাবে পশ্চিমা শাসক শ্রেণী বিবেকানন্দ-সুভাষ চন্দ্রের-নজরুল-রবীন্দ্রনাথের ভাষাকে নানা ভাবে শেষ করে দেবার ফেসিষ্ট সুলভ আগ্রাসন চালাচ্ছে তার প্রমাণ কেন্দ্রীয় বাজেটে ভারতের ২য় প্রধান ভাষিক জনসংখ্যার ভাষা হওয়া সত্ত্বেও গত ৭০বছরে তার জন্য একটি টাকাও বরাদ্দ করা হয়নি। আরও বিস্ময় কোন দলের কোন বাঙালি সাংসদেরা এনিয়ে কোন প্রতিবাদ অথবা ওয়াক আউট করেছেন তার কোন সংবাদ আমরা বাংলা সংবাদ পত্রেও দেখিনি। মাতৃভাষার অধিকার ও ভাষা গণতন্ত্রের আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মতো ভূমিকায় আমাদের অগনিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সু-গনিত শিক্ষক কূলের দু-একজনকেও দেখিনি। --এই নির্বাক বন্ধুদের সরব হবার আবেদন জানাই। আমরা জানতে চাই-- গত ২০১৭র মে মাসে ঘোষণা কোরে আজও পর্যন্ত কেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সব স্কুলে আবশ্যিক বাংলা পাঠ্যের আদেশ নামা জারি করলেন না ? --আসন্ন নির্বাচনের মাতৃভাষা প্রেমী ভোটার হিসেবে আপনার প্রার্থীকে জিজ্ঞেস করুন ভারতে বাংলা ভাষার অধিকারের প্রশ্নে কি তার পার্টি কি করেছে আর কি তারা করবেন ? এই প্রশ্ন দিকে দিকে ধ্বনিত হোক। সময়ের প্রেক্ষিতে
আসন্ন নির্বাচনে বাংলা ভাষা মঞ্চের সংক্ষিপ্ত দাবি পত্রঃ
১। অসমে এনআরসি-র নামে অনাসমিয়া নাগরিকদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করা হোক।
২। ‘বাংলাভাষী মানে বাংলাদেশী’ এই জঘন্য চক্রান্ত অসমসহ সারা ভারতে বন্ধ হোক। ৩। অসমের তিনসুকিয়া ও ডুমডুমায় গণহত্যাকারীদের অবিলম্বে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।
৪। ত্রিভাষাসূত্রানুসারে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়সহ সর্বত্র বাংলা পড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
৫। ভারতে সব রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গের সব স্কুলে বাংলা আবশ্যিক করতে হবে। -এ বিষয়ে রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর (১৬-৫-২০১৭র) ঘোষণার আদেশনামা জারী ও অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। ৬। বাংলাকে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজের ভাষা ও বাঙালি অঞ্চলের কেন্দ্রীয় অফিসের কাজের সহযোগী ভাষা করে তুলতে হবে। এ সব দাবি কেন্দ্রীয় ভাবে আদায় করার জন্য রাজ্য সরকারকে উপযুক্ত ভূমিকা পালন করতে হবে।








কোন মন্তব্য নেই