বরাকে বাঙালিদের জন্য বরাদ্দ একটি আসন ছিনিয়ে নিল বিজেপি এই মন্তব্য কংগ্ৰেস নেতা চিত্তরঞ্জন পালের
নয়া ঠাহর প্ৰতিবেদন, নগাঁওঃ গণতন্ত্রের মূল্যবোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয় বিজেপি দল৷ এমন কি, সংবিধান প্রদত্ত বাক্ স্বাধীনতারও কন্ঠরোধ করতে সিদ্ধহস্ত এই গেরুয়া দল৷ তাঁদের ব্যর্থতা দেখিয়ে দিলে সঠিক উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে বিজেপি নেতারা পাকিস্তানী সমর্থক, দেশদ্রোহী বলার পাশাপাশি হিন্দু-মুসলমানে ভাগাভাগি করার নিকৃষ্ট খেলায় উদ্যত হন৷ এই অপসংস্কৃতিকে ইংরাজি ভাষায় ‘স্ট্র ম্যান ল ফেলাসি’ বলা হয়৷ অসম ইণ্ডাষ্ট্রিয়েল ডেভেলপম্যান্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান তথা দু'বারের প্রাক্তন বিধায়ক মিশন রঞ্জন দাস শালীনতার সকল সীমা ছাড়িয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করাটা অত্যন্ত অশোভনীয় বলে অভিহিত করেছেন অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন পাল৷ তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ২০১৫ সালের সাত সেপ্টেম্বর তারিখে হিন্দু বাঙালি যাঁরা ১৯৭১ সালের পর এসেছেন, তাঁদের যাতে গ্রেপ্তার করতে না পারে, সেজন্য নোটিফিকেশন জারি করেছে ৷ এই নোটিফিকেশনের আওতায় একজন হিন্দু বাঙালিকে ডিটেনশান ক্যাম্পে নিতে পারবে না কিংবা পুলিশ গ্রেপ্তারও করতে পারে না৷ অসম মন্ত্রীসভার একমাত্র মন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য ও মন্ত্রীর সম মর্যাদা ভোগ করা মিশন রঞ্জন দাস কোনওদিন মুখ্যমন্ত্রী সোনোয়ালকে প্রশ্ন করেন নি৷ ফলশ্রুতিতে ৪১ জনের মধ্যে ৩৫ জন বাঙালি হিন্দু আত্মহত্যা করেছেন৷ এতেও তাঁদের বিবেক কেঁপে ওঠে নি! করিমগঞ্জ (সংরক্ষিত) লোকসভায় বিজেপি কেন অবাঙালি প্রার্থী দিয়েছে, সে প্রশ্ন উত্থাপন করার প্রেক্ষিতে মিশনবাবু এণ্ড কোম্পানি ‘চিত্তরঞ্জন পাল আপাদমস্তক দালাল’ বলে আক্রমণ করেছেন, যা অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য বলে অসমের জনগনের কাছে বিবেচিত হচ্ছে৷ গত বিধানসভা নির্বাচনে ঢেকিয়াজুলি কেন্দ্রে একজন হিন্দিভাষী নেতা অশোক সিংঘালকে জিতিয়েছে৷ ওই কেন্দ্রে হাবুল চক্রবর্তী কংগ্রেস বিধায়ক ছিলেন৷ করিমগঞ্জ কেন্দ্রে যদি জনপ্রিয়তা ও অন্যান্য গুণের জন্যই এক অবাঙালিকে প্রার্থিত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে নগাঁও লোকসভা কেন্দ্রে কেন রূপক শর্মার পরিবর্তে শিলাদিত্য দেবকে প্রার্থিত্ব দেয় নি? ওদিকে, সম্প্রতি সুপ্রিমকোর্টে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এক হলফনামা দিয়ে অসমে চল্লিশ লক্ষ বিদেশি শনাক্ত করার কথা বলেছে৷ গতমাসে নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে অনুষ্ঠিত বিজেপির এক জনসভায় ডঃ হিমন্তবিশ্ব শর্মা অমিত শাহের সুরে সুর মিলিয়ে অসমে নাগরিকপঞ্জি নবায়ণের মাধ্যমে চল্লিশ লক্ষ বিদেশি চিহ্নিত করার কথা বলেছেন৷ কংগ্রেস অসম চুক্তির প্রতি দায়বদ্ধ৷ অসম চুক্তি হচ্ছে এক রাজনৈতিক সমাধান, কিন্তু সংসদে প্রণীত আইন নয়৷ অথচ, বিজেপি সরকার ২০০৩ সালে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে অসম চুক্তির ৬ (ক) নং ধারাটি সংসদে পাশ করিয়ে আইনে পরিণত করার দরুণই বর্তমানে নাগরিকপঞ্জি নবায়ণ করা হচ্ছে৷ এই প্রক্রিয়ায় হিন্দু বাঙালিদেরই বলির পাঠা সাজানো হয়েছে৷ তখন বিজেপি সরকার কেন নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের জন্য জেপিসি গঠন করে নি ? আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বরাকের হিন্দু বাঙালি কেন্দ্রগুলি কি সুরক্ষিত থাকবে ? মেরুদণ্ডহীন একাংশ নেতার ভূমিকা দেখে অন্তত তাই মনে হচ্ছে, বিজেপি হিন্দু বাঙালি ও মুসলিম বাঙালি ভাগ করেও ক্ষান্ত হয়নি ৷ বাঙালির অস্তিত্ব সম্পূৰ্ণ নিঃশেষ করতে এই গেরুয়া দল উঠেপড়ে লেগেছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন কংগ্রেস নেতা চিত্তরঞ্জন পাল৷ যদি মিশনবাবুদের ক্ষমতা থেকে থাকে, তাহলে ডিটেনশান ক্যাম্প থেকে হিন্দু বাঙালিদের মুক্ত করে দেওয়ার পাশাপাশি ডি ভোটারের সন্ত্রাস বন্ধ করুক৷








কোন মন্তব্য নেই