Header Ads

‘ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা..আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা..’কৰ্মব্যস্ততার জীবনে এখনও হারিয়ে যায়নি সবকিছু


 রিংকি মজুমদার
‘দ্বিতীয়াতে দিয়া ফোঁটা। ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা। যমদুয়ারে পড়লো কাঁটা। আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা...’ ভাই-বোনের মধুর সম্পৰ্কের উৎসব ভাইফোঁটা। তবে বৰ্তমানে কৰ্মব্যস্ততার জীবনে এবং পারিবারিক নানান কারণে বেশিরভাগ ভাইবোনেদেরই এই উৎসব পালনের সময় হয়ে উঠছে না। আর তাই বৰ্তমানে অনলাইন ভাইফোঁটা, রাখি দেওয়া এসবের ক্ৰেজ খুব দেখা যাচ্ছে। ভাইকে কাছাকাছি পাওয়া না গেলেও অনলাইনে অথবা ফোনে ভাইফোঁটার শুভেচ্ছা পাঠিয়ে দিচ্ছেন শহরের কৰ্মব্যস্ত দিদি এবং বোনেরা। বিনিময়ে ভাইয়েরাও অনলাইন অথবা হোমশপ থেকে বোনেদের ঠিকানায় উপহার পাঠিয়ে দিচ্ছেন। এব্যপারে জনৈক এক প্ৰবীণা নাম প্ৰকাশে অনিচ্ছুক ছোটবেলার স্মৃতি রোমন্থণ করলে বললেন, ‘আগে কালীপুজোর দুদিন পর ভাইফোঁটার দিন খুব ভোরে উঠতাম। উঠে শিউলি তলা থেকে ফুল জরো করে ফুল রাখতাম। শিশিরের জল সংগ্ৰহ করতাম। দুৰ্বা থেকে কয়েক ফোটা শিশিরের জল দিয়ে চন্দন বেটে রাখতাম। কলাপাতার মাঝখানে প্ৰদীপের শীষ দিয়ে কাজল তৈরি করে রাখতাম। সেই চন্দন আর কাজল দিয়ে ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিতাম। প্ৰদীপের শীষ হাতের বুড়ো আঙুলে নিয়ে গরম গরম ভাইয়ের কপালে আঁচ দিতাম। তবে এখন আর সেসব করার সময় হয়ে ওঠে না। বেশ কয়েক বছর ধরে ভআইফোঁটা অনিয়মিত হয়ে গেছে। ভাইবোনের এই বিশেষ দিনটিতে মোবাইলেই এক অপরকে শুভেচ্ছা জানানো হয়।’ তবে বাঙালি মানেই তো ভোজন রসিক। বোনেরা ভাইদের এই উৎসবে বাড়িতে তৈরি করা বিভিন্ন ধরনের খাওয়ার পদ খাওয়াবে। তার বিনিময়ে দাদা এবং ভাইরা বোনদের উপহার দেবে। এই উৎসবের মধ্যেই যেন গোটা পরিবারকে একসূত্ৰে বেঁধে রাখার একটা আনন্দ লুকিয়ে থাকে। তবে এখনও সবকিছু হারিয়ে যায়নি। কৰ্মব্যস্ততার জীবনে এখনও একাংশ বিবাহিতা বোন দিব্যি ভাইদের নিমন্ত্ৰণ করে ভাইফোঁটার নিয়ম পালন করছেন। শুধু তাই নয়, ভাই বোনের এই মধুর সম্পৰ্কে বয়স এবং দূরত্বও বাধ সাধে না। সত্তুর উৰ্দ্ধ দিদিও গুয়াহাটি থেকে ভাইফোঁটা দিতে আলিপুরদুয়ারে যাওয়ার নজিরও মিলেছে। ভাইফোঁটা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার শহরের সবকটি সব্জি বাজারে গ্ৰাহকদের ভিড়ও অন্যান্য দিনের তুলনায় বেশি দেখা গেছে। এদিন সকাল আটটা না বাজতেই শহরের গণেশগুড়ি, পল্টনবাজার, নুনমাটি, বামুনিমৈদাম, শিলপুখুরি, উজানবাজারের মাছের বাজারগুলিতে গ্ৰাহকদের ভিড় ছিল। আর হবে নাই বা কেন! ভাইফোঁটা বলে কথা। ভাইয়ের পছন্দের ইলিশ মাছটা হাজার-বারোশ টাকা কেজি হলেও খাবারের পাতে অন্তত এক টুকরো হলেও তো দিতে হবে। এদিন নারাঙ্গি বাজারে চাপলা মাছ, কই, পুঁটি, রুই, মোটামুটি সবই চারশো থেকে পাঁচশো টাকায় বিকোয়। মহানগরের নামিদামী মিষ্টির দোকান তো ভিড় ছিলই। তবে লাচিত নগরের ‘অশোক সুইট্স’, চাঁদমারির ‘ভারতীয় মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’, ফ্যান্সি বাজারের ‘জেবিজ’, পানবাজারের ‘গৌহাটি ডেয়ারি’, পাণ্ডু মালিগাঁওয়ের ‘অযাচক’ সবখানেই মিষ্টি নিতে সকালের দিকে প্ৰচুর ভিড় দেখা যায়। দুৰ্গাপুজো শেষ, কালীপুজো, দেওয়ালি শেষ, ইংরেজি বছরের শেষের দিকে উৎসবের মরসুমের শেষ পাতে ভাইফোঁটাকে কেন্দ্ৰ করে গোটা দেশ সহ গুয়াহাটি মহানগরের নামিদামী রেস্টুরেন্টগুলিতেও শুক্ৰবার গ্ৰাহকদের ভিড় দেখা গিয়েছে। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.