জনসংখ্যা নিয়ন্ত্ৰণে পুরুষ বন্ধ্যাকরণ জরুরি-- ডঃ ইলিয়াস আলী
গুয়াহাটি, ১৬ নভেম্বর- জনসংখ্যা নিয়ন্ত্ৰণে পুরুষ বন্ধ্যাকরণ দরকার। ষষ্ঠ বিশ্ব পুরুষ বন্ধ্যাকরণ দিবসে এই মন্তব্য করেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ও অধ্যাপক ডঃ ইলিয়াস আলী। প্ৰসঙ্গত, প্রত্যেক বছর সমগ্র বিশ্বে ১৬ নভেম্বর বিশ্ব পুরুষ বন্ধ্যাকরণ দিবস হিসাবে পালন করা হয়। পুরুষ বন্ধ্যাকরণকে জনপ্রিয় করে তোলার উদ্দেশ্যে সমগ্র দেশে এই দিবস পালন করা হয়। সাধারণত পুরুষেরা জন্ম নিয়ন্ত্রনের প্রতি আগ্রহী থাকে না। ফলে জন্ম নিয়ন্ত্রণের সিংহভাগই মহিলাদের বহন করতে হয়। প্ৰসঙ্গত, পুরুষের বন্ধ্যাকরণের ইতিহাস একশো বছরেরও বেশি পুরনো। ১৮৯৯ সালে আমেরিকায় এক কারাবন্দি যুবককে প্রথম বন্ধ্যাকরণ করা হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই পদ্ধতি শুরু হয়। চিন দেশে পুরুষ বন্ধ্যাকরণে অত্যাধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। এনএসভী পদ্ধতিতে একটি মাত্র ছিদ্রের সাহায্যে পুরুষ বন্ধ্যাকরণ অতি কম সময়ে করা যেতে পারে এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এই পদ্ধতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে পড়েছে। ভারতেও ১৯৯২ সাল থেকে এনএসভি পদ্ধতিকে পরিবার পরিকল্পনা প্রকল্পে পুরুষ বন্ধ্যাকরণের অন্যতম পদ্ধতি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মহিলার তুলনায় এই ব্যবস্থা যদিও হতাশজনক তথাপিও এই পদ্ধতিকে বিশ্ববাসীর কাছে জনপ্রিয় করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াতে পুরুষদের অংশগ্রহণ করে মহিলাদের কাছ থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণের বোঝা কিছু পরিমাণে হলেও কম করা যেতে পারে। সেইসঙ্গে বিশ্বের জনসংখ্যাও কম করা যায়। প্ৰসঙ্গত, ভারতের জনসংখ্যা বৰ্তমানে ১৩৪ কোটি এবং ২০৩০ সালে ১৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে। রাষ্ট্রসংঘের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে ভারতবর্ষ ২০২৪ সালের ভিতরে জনসংখ্যার দিক থেকে চিন দেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে ও বিশ্বের জনবহুল দেশ হিসেবে প্রথম স্থান রপ্ত করবে। একদিকে পাৰ্শ্ববৰ্তী দেশ চিন তাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের জনসংখ্যা দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। ২০৫০ সালে ভারতের জনসংখ্যা হবে ১৬৬ কোটি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই দুর্বার গতির জন্য ভারতবর্ষ আর্থিক, সামাজিক তথা রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রত্যাহ্বানের সম্মুখীন হচ্ছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ভারতবর্ষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত ও সমৃদ্ধশালী করে তুলবে। উল্লেখ্য, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও অধ্যাপক ডঃ ইলিয়াস আলী এ সম্পৰ্কে জানান, বিশ্ব পুরুষ বন্ধ্যাকরণ দিবস উপলক্ষে অসমেও পুরুষ বন্ধ্যাকরণ দিবস পালন করা হবে। আগামী ২১ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত পালন করা হবে পুরুষ বন্ধ্যাকরণ। রাজ্যের প্রত্যেকটি শহরে, গ্রামে-গঞ্জে প্রচার অভিযান চালানো হবে। এছাড়াও বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এনএসভির চিকিৎসাও দেওয়া হবে।









কোন মন্তব্য নেই