আড়াই হাজারের বেশী কর্মচারীর ১০ মাসের বকেয়া বেতন শুক্রবার মিটিয়ে দিল পার্বত্য পরিষদ কর্তৃপক্ষ
বিপ্লব দেবঃ হাফলং
উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের নর্মাল সেক্টরের আড়াই হাজারের বেশী কর্মচারীর বকেয়া দশ মাসের বেতন শুক্রবার মিটিয়ে দেয় পার্বত্য পরিষদ কর্তৃপক্ষ। আজ পরিষদ সচিবালয় প্রাঙ্গনে এক অনুষ্ঠানে পার্বত্য পরিষদের অধীনে থাকা নর্মাল সেক্টরের বিভিন্ন বিভাগীয় আধিকারিকের হাতে দশ মাসের বকেয়া বেতনের চেক তোলে দেন উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের সিইএম দেবোলাল গার্লোসা চেয়ারপার্সন রানু লাংথাসা বিধায়ক বীরভদ্র হাগজার সহ পরিষদের ইএমরা। এদিকে বকেয়া দশ মাসের বকেয়া বেতন পেয়ে পার্বত্য পরিষদের কর্মীরা আবেগিক হয়ে উঠেন। দীর্ঘদিন বেতন মেলায় অনেক কর্মচারীর পরিবার বিভিন্ন সমস্যা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারবেন বলে কর্মচারীরা মন্তব্য করেন। এদিকে অনুষ্ঠানে পার্বত্য পরিষদের সিইএম ভাষন প্রসঙ্গে পার্বত্য পরিষদের কর্মচারীরা আমার পরিবারের মত তাই আজ এই কর্মচারীদের বেতন মিটিয়ে দিতে পারা এক বিশেষ অনুভুতি। কারন পার্বত্য পরিষদে ক্ষমতায় থাকা আগের সরকার পরিষদ কর্মচারীদের বেতন মিটিয়ে দিতে তেমন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। সিইএম বলেন তার নেতৃত্বে ২০১৬ সালে বিজেপি পরিষদে ক্ষমতা দখল করার পর পরিষদের কর্মচারীদের বেতন প্রতি মাসে মিটিয়ে দিলে ও পূর্বতন সরকারের আমলের দশ মাসের বেতন মিটিয়ে দেওয়া হয়। সিইএম আরো বলেন বিজেপি পরিষদে ক্ষমতা দখলের পার্বত্য পরিষদের রাজস্ব বাড়িয়ে বছরে ৪২ কোটি টাকা করে। পূর্বতন সরকারের আমলে রাজস্ব সংগ্রহের মাত্রা ছিল বছরে ১৭ কোটি টাকা। দেবোলাল গার্লোসা বলেন পূর্বতন কংগ্রেস সরকারের আমলে ৬৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নিয়ে বেতন মিটিয়ে দিতে বছরে ৪৫ কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল কিন্তু পরিষদে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর পরিষদ কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বাড়িয়ে ১১৯ শতাংশ করা হয় এরই পরিপ্রেক্ষিতে এখন কর্মচারীদের বেতন মিটিয়ে দিতে বছরে ৮৪ কোটি টাকা দরকার এই অবস্থায় রাজ্যসরকার থেকে আসা ৭৭ কোটি টাকার এককালীন আর্থিক অনুদান পেয়ে কর্মচারীদের ১০ মাসের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া হয় আজ। সিইএম বলেন পরিষদ কর্মচারীদের বেতনের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে নিপকো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ও লঙ্কু জল বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে এপিজিসিএল এর সঙ্গে রাজস্ব নিয়ে এক সমঝোতা পত্র সাক্ষরিত হয়। তাই বেতন সমস্যার স্থায়ী সমাধান এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সিইএম নিজের বক্তব্যে বলেন তিনি পরিষদ কর্মচারীর সব সমস্যায় পাশে থাকবেন বলে মন্তব্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এদিকে পরিষদ কর্মচারীদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সানোয়াল ও অর্থমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ধন্যবাদ জানান পরিষদের সিইএম দেবোলাল গার্লোসা।









কোন মন্তব্য নেই