Header Ads

সৰ্বানন্দ ভালো কাজ করছেন, বিজেপি ৮০ শতাংশ আসনেই জয়লাভ করবেঃ আর পি শৰ্মা

বিজেপি চাইলেও অগপ পঞ্চয়েতে সমঝোতা করবেনা, রমেন্দ্ৰ, পবিন্দ্ৰরা  তাই বলছেন

গুয়াহাটিঃ আগামী ৫ ও ৯ ডিসেম্বর দুই পৰ্যায়ে অসমে পঞ্চায়েত নিৰ্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যের ২৬ টি জেলায় এবং ১৪ টি মহকুমায় এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যের ১ কোটি ৫৬ লক্ষ ৪১ হাজার ৪৫৬ জন ভোটাররা ভোট দান করবেন। অসম পঞ্চায়েত আইনে(সংশোধনী) ২০১৮, নতুন করে অন্তৰ্ভুক্ত হওয়া ১১১ (২) ধারা, এবং অসম পঞ্চায়েত (গঠন) (সংশোধনী) ৬২ নং বিধি অনুযায়ী আসন্ন পঞ্চায়েত নিৰ্বাচনে অবতীৰ্ণ হতে ইচ্ছুক প্ৰাৰ্থীদের সন্তানের সংখ্যা নিদিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এক জন প্ৰাৰ্থী এক বা ততোধিক পত্নীর দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে নিৰ্বাচনে প্ৰতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না। তবে আইনটি বলবৎ হওয়ার ২০১৮ সালের ১৯ মাৰ্চের আগে জন্মানো দুই বা ততোধিক সন্তানের ক্ষেত্ৰে আইনটি শৰ্ত প্ৰযোজ্য হবেনা। আইনটি বলবৎয়ের পরে যদি অতিরিক্ত কোনও সন্তানের জন্ম হয় সেই ক্ষেত্ৰেও প্ৰাৰ্থীকে অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। অসম রাজ্যিক নিৰ্বাচন কমিশন আজ নতুন এক বিজ্ঞপ্তি জারি এ কথা জানিয়েছে। পঞ্চায়েতের নতুন সংশোধনী বিধি অনুযায়ী দুই বা ততোধিক সন্তানের অভিভাবক নিৰ্বাচনে প্ৰতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না। প্ৰাৰ্থীদের ক্ষেত্ৰে শিক্ষকতাযোগ্যতাও নিৰ্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত শৰ্ত হিসাবে প্ৰতিজন প্ৰাৰ্থীর বাড়িতে স্বাস্থ্য সন্মত শৌচালয় থাকতে লাগবে। সন্তান-সন্তুতির সংখ্যার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ করে নিম্ন অসম এবং প্ৰত্যন্ত গ্ৰামাঞ্চলে অনিশ্চিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্ৰেস রাজত্বে গত ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নিৰ্বাচনে কংগ্ৰেস দল এককভাবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অৰ্জন করেছিল। ৪২০ টি জেলা পরিষদের মধ্যে ৪০৬টিতে নিৰ্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কংগ্ৰেস দল এককভাবে ২৬৬ টি আসনে জয়লাভ করে। দ্বিতীয় স্থানে ছিল এআইইউডিএফ তারা ৭০ টি আসনে, অগপ– ৩০টি আসনে এবং বৰ্তমান শাসক দল বিজেপি মাত্ৰ ১৫টি জেলা পরিষদ আসনে জয়লাভ করেছিল। বৰ্তমান পরিস্থিতি অনেক পাল্টিয়েছে। বিজেপি সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর অগপ, বিপিএফকে পাশে নিয়ে সরকার করেছে। রাজ্যের ভাষিক এবং ধৰ্মীয় সংখ্যালঘু বাঙালিদের অধিকাংশ বিজেপিকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে ছিল। কিন্তু এন আর সি উদ্ভ²ত পরিস্থিতির পর রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষ বিশেষ করে বাঙালি হিন্দুরা বিজেপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। রাজ্যের বৃহৎ সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠীর মানুষও আর এআইইউডিএফ কে সমৰ্থন করছে না। অগপর পাশেও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী নেই। আজ বিজেপি এবং অগপর নিৰ্বাচনী কৌশল নিয়ে বৈঠকে এই ধরণের বিভিন্ন আশংঙ্খা পোষণ করে রণকৌশল প্ৰস্তুত করা হয়েছে। আজ গুয়াহাটির পিডব্লিওডির প্ৰশিক্ষণ কেন্দ্ৰের প্ৰেক্ষাগৃহে বিজেপির জেলা সভাপতি এবং অন্যান্য পৰ্যায়ের নেতাদের সঙ্গে পঞ্চায়েত রণকৌশল নিয়ে পৰ্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অপরদিকে অগপর নিৰ্বাচনী পৰ্যালোচনা বৈঠক অনুুষ্ঠিত হয়। বিজেপি সাংসদ আর পি শৰ্মা দাবি করেছেন, তারা ৮০ শতাংশ আসনে জয়লাভ করবে। অগপর মতো আঞ্চলিক দলের সঙ্গে সমঝোতা করা ঠিক হবে না। তিনি দাবি করেছেন, সৰ্বানন্দ সনোয়াল নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যে উন্নয়নমূলক কাজ করছে, ভূমিহীনদের পাট্টা দিচ্ছে। এলপিজি গ্যাস দিচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্ব অগপর সঙ্গে সমঝোতা না চাইলেও তৃণমূল পৰ্যায়ের বিজেপি নেতারা কিন্তু গ্ৰাম অসমের পরিস্থিতি আর বিজেপির অনুকুলে নেই, বেশ বুঝতে পারছে। তাই তারা অগপকে পাশে চাইছে। এন আর সির পর প্ৰস্তাবিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে ঘিরে রাজ্যের জাতীয়তাবাদী মহল সরকারের বিরুদ্ধে চলে গেছে। বিমুদ্ৰাকরণ, জি এস টি, মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গরিব শ্ৰমজীবি মানুষ বিজেপির প্ৰতি মোহভংগ হয়েছে বলে বিজেপির তৃণমূল পৰ্যায়ের কৰ্মীরা অভিমত পোষণ করেছে। অপরদিকে অগপর ৩ মন্ত্ৰী অতুল বরা, কেশব মহন্ত, ফণীভূষণ চৌধুরী ছাড়া বাকিরা সবাই বিজেপিকে বাদ দিয়ে একক ভাবে পঞ্চায়েতে প্ৰতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাইছে। অগপর রমেন্দ্ৰ নারায়ণ কলিতা, পবিন্দ্ৰ ডেকা প্ৰমুখ আজ দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন বিজেপি চাইলেও অগপ সমঝোতা করবে না। প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্ৰী প্ৰফুল্ল কুমার মহন্ত বারবার বলছেন বিজেপিকে বাদ দিয়ে আঞ্চলিক দল হিসাবে নিজেদেরকে প্ৰতিষ্ঠা করার সময় এসেছে। অগপ এককভাবে পঞ্চায়েত নিৰ্বাচনে লড়াই করে শক্তি পরীক্ষা দেবে। অগপর তৃণমূল পৰ্যায়ের নেতাদের অভিমত মন্ত্ৰীর মোহ ছেড়ে অতুল, কেশব, ফণীভূষণ এখনই মন্ত্ৰী পদ ছেড়ে দেয় তবে অগপর ভাবমূৰ্তি বহুগুণ বেড়ে যাবে। পঞ্চায়েত নিৰ্বাচনে অগপ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠাতা অৰ্জন করবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.