মদিরা উৎসবে মজবে শিলং
ননী গোপাল ঘোষ, শিলং- ৯ নভেম্বর জম্পেশ করে শীত এখনও জাঁকিয়ে বসত গাড়েনি শিলঙে। হাড় কাঁপানো ভাবটা না থাকলেওে শীতের শিরশিরানি আমেজ যথেষ্টই মালুম হচ্ছে শিলঙে। রাতের দিকে টুপটাপ ঝরছে শিশিরও। পারদ যথেষ্টই নেমে গেছে। আলোর রোশনাইয়ের উৎসবের জের কেটে খোয়াড় ভাঙতে না ভাঙতেই শনিবার একদিনের জন্য রয়েছে ১৬ তম শিলং মদিরা উৎসব। মদিরা প্রেমিরা সাধারণত এই উৎসবের জন্য অপেক্ষা করেন সারাবছর। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকেই শুধু মদিরা প্রেমিরা হাজির হন না, মেঘালয়ার আশপাশের রাজ্য থেকেও হাজির হন মদিরা প্রেমিরা। শুধু চাখতেই নয়, অনেকেই বাড়িতে নিজেদের প্রস্তুত করা মদিরা নিয়ে উৎসবে সামিল হন। উৎসবে হাজির প্রস্তুতকারীরা নিজেদের বাড়িতে বানানো মদিরা প্রণালী নিয়েও মতবিনিময় করেন।
মদিরা প্রস্তুতকারীদের কেউই বাণিজ্যিক প্রস্তুতকারী নন। সবারই ভালবাসা জড়িয়ে থাকে মদিরার পরতে পরতে। অনেকের কাছেই এটা নিছকই শখ। খুব যত্ন নিয়ে কাজটা করতে হয় শখের মদিরা প্রস্তুতকারীদের। সৌখিন ব্যক্তিরা সাধারণত স্থানীয় ফলমূল দিয়েই প্রস্তুত করেন মদিরা। কলা, স্ট্রবেরি, ব্লাক বেরি, কমলালেবু সহ স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত বিভিন্ন ফল থেকে মদিরা তৈরি করেন মদিরা প্রস্তুতকারীরা। কাঁঠাল থেকে প্রস্তুত মদিরা নিয়েও একবছর হাজির হয়েছিলেন এক প্রস্তুতকারী। মদিরা প্রেমিরা ভাল মদিরার তল্লাশে প্রতিবছরই হাজির হন। চেখে দেখে মদিরা কেনার সুযোগও রয়েছে উৎসবে। শনিবার দুপুর থেকেই শুরু মদিরা উৎসব শিলঙের ষ্টেট সেন্ট্রাল লাইব্রেরি প্রাংগনে। চলবে সূর্য ডোবার পালা অবধি। গড়িয়ে যেতে পারে সন্ধ্যা রাতও।
সারাদিন ধরেই চলে চাখা আর কেনাকাটা। কিভাবে মদিরাকে সংরক্ষণ করতে হবে বাড়িতে তাও বাতলে দেন প্রস্তুতকারী। কোন মদিরার কাঁচের আধারকে উল্টো করে রাখতে হয়। কোনটা আবার বাড়ির ফ্রিজের ভেতর রাখলে তার গুনমান ও স্বাদে কোনও পরিবর্তন ঘটে না। এসব সবই গ্রাহকদের বাতলে দেন প্রস্তুতকারী। বিগত বছরগুলিতে বহুদিন বাড়িতে সংরক্ষণ করা মদিরা নিয়েও হাজির হতে দেখা গেছে কোনও কোন মদিরা প্রস্তুতকারীদের।
এই উৎসবের বরাবরই অবাণিজ্যিক উৎসব। অন্য অনেক শখের মতোই অনেকেরই শখ মদিরা প্রস্তুত করা। কাজেই বরাবরই দেখা গেছে শুধু বিক্রিবাট্টাই মুখ্য নয়। ফর এভার ইয়ং বরাবরই আয়োজন করে এই উৎসবের। প্রচুর ভীড়ও হয় উৎসব ঘিরে।









কোন মন্তব্য নেই