উমরাংশু অসমের মধ্যে এক আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে
বিপ্লব দেবঃ হাফলং
গলফ কোর্স কপিলি হ্রদ ও আমুর ফ্যালকন পাখির জন্য উমরাংশুর টুংবুং গ্রাম এখন বিখ্যাত। পর্যটকদের জন্য এখন পরিচিত নাম টুংবুং গ্রাম। প্রতিদিনই আমুর ফ্যালকন পাখি আসার দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন অনেকে এই গ্রামে। নভেম্বর মাস চলে আসায় ঝাঁকে ঝাঁকে ওই পরিযায়ী পাখি উমরাংশুতে আসছে। গত কয়েকদিন থেকে এই আমুর ফ্যালকন পাখি আসার সংখ্যা আরো বেড়ে গেছে। ডিমা হাসাও জেলার বনবিভাগ সুত্রে জানা গেছে দীর্ঘদিন থেকেই উমরাংশুতে আমুর ফ্যালকন পাখি আসছে। কিন্তু প্রথমে সংখ্যায় ছিল কম গত দুই তিন বছর থেকে ওই পাখি আসার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। বনবিভাগ ও উমরাংশুর বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমুর ফ্যালকন পাখি শিকার বন্ধ করতে এগিয়ে এসেছে। পাখি শিকার বন্ধ করতে টুংবুং গ্রামে বনরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয় প্রতি বছর যাতে কোন চোরাশিকারী ওই পরিযায়ী অতিথিদের শিকার করতে না পারে। জেলাপ্রশাসন ও বনবিভাগের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কেউ ওই এলাকায় এয়ারগান কেটিবল বা কোন ধরনের অস্ত্র নিয়ে যেতে পারবেনা। বনরক্ষী বাহিনী আমুর ফ্যালকন পাখির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাখি শিকার বন্ধ হয়েছে। বনবিভাগ সুত্রে আরো জানা গিয়েছে ২২ হাজার কিলোমিটার অতিক্রম করে সাইবেরিয়া থেকে আমুর ফ্যালকন পাখি প্রতিবছর উমরাংশুতে আসে এবং ৪৫ থেকে ৫০ দিন ওই পাখির দল এখানে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশ্যে ফিরে যায়। আসলে ঠান্ডার খোঁজেই আমুর ফ্যালকন পাখি উমরাংশুতে আসে। এদিকে রাজ্যের পর্যটন বিভাগ উমরাংশুর টুংবুং পানিমর হাফলং জাটিঙ্গা ও মাইবাংকে নিয়ে এক পর্যটন সার্কিট গড়ে তুলেছে। যদি পর্যটকদের থাকার জন্য তেমন ভালো অতিথিশালা উমরাংশুতে নেই তবে পার্বত্য পরিষদ ও জেলার পর্যটন বিভাগ বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকা অতিথিশালা গুলিকে নতুন করে তৈরি করার পাশাপাশি ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পানিমরে নতুন একটি অতিথিশালা নির্মান করা হচ্ছে। এদিকে বলিউডের জন্য পানিমর বিখ্যাত হয়ে গেছে শহিদ কাপুর ও কঙ্গনা রানাওয়াত রেঙ্গুন ছবির শুটিং করে যাবার পর পানিমরে বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। ওই ছবির শুটিংয়ের পরই পানিমর নিয়ে দেশ বিদেশের পর্যটকদের মধ্যে উৎসাহ বেড়ে গেছে। এদিকে রাজ্য সরকার ডিমা হাসাও জেলাকে রাজ্যের মধ্যে এক অন্যতম আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদকে সবধরনের সহযোগিতা করে চলছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য পরিষদের সিইএম দেবোলাল গার্লোসা।









কোন মন্তব্য নেই