Header Ads

শেষ পৰ্যন্ত বিজেপি-অগপ নিৰ্বাচনী সমঝোতা হল না, কংগ্ৰেসকে হারাতে এই দুই দলের গোপন বোঝাপড়া থাকবে


গুয়াহাটিঃ সৰ্বানন্দ সনোয়াল নেতৃত্বাধীন বিজেপি জোট সরকারের অন্যতম শরিক দল অসম গণ পরিষদ (অগপ)। এই দলের তিন তিন জন মন্ত্ৰী এই সরকারে আছেন। এই তিন মন্ত্ৰীর স্বাভাবিকভাবেই সরকারের প্ৰতি দুৰ্বলতা আছে। কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে কেন্দ্ৰ করে অগপর বিজেপির সম্পৰ্কে চিড় ধরেছে। আসন্ন পঞ্চায়েত নিৰ্বাচনে সেই চিড় আরও বাড়বে বলে আশংঙ্খা করা হচ্ছে। অগপ গত ১৫ দিন আগে তাদের ষ্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিজেপির সঙ্গে তারা সমঝোতায় যাবে না। বৰ্তমানে বিজেপির জনপ্ৰিয়তায় ভাটা পড়েছে। রাজ্যের বিজেপির নেতৃত্ব সে কথা জেনে অগপকে পাশে রেখেই নিৰ্বাচনী বৈতরণী পার হতে চেয়েছিল। কিন্তু অগপর জেলা পৰ্যায়ের নেতাদের প্ৰবল আপত্তির পরেও বিজেপি সভাপতি রঞ্জিত দাস অগপর জন্য দরজা খোলা বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু শেষ পৰ্যন্ত তা হল না। নাডার চেয়ারম্যান তথা মন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মার সঙ্গে মঙ্গলবার অগপ নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সব ভেস্তে গেল। শেষ পৰ্যন্ত হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মা এদিন ঘোষণা করে দিলেন অগপ বিজেপি পৃথক পৃথক ভাবে পঞ্চায়েত নিৰ্বাচনে প্ৰতিদ্বন্দ্বিতা করবে। মুখ রক্ষার জন্য বললেন, বিজেপি জেলা কমিটিগুলি অগপর সঙ্গে সমঝোতা চাইছে না। তিনি জানান, গণ শক্তি, রাভা ঐক্যমঞ্চ, তিওয়া ঐক্যমঞ্চ প্ৰভৃতি দলের সংগঠনের সঙ্গে বিজেপির নিৰ্বাচনী সমঝোতা হবে। মুখ্যমন্ত্ৰীর সরকারী বাসভবনে এদিন হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মার সঙ্গে অগপর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই  রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অন্য এক সিদ্ধান্তের কথা দলীয় সূত্ৰে জানা গেছে, আসন্ন নিৰ্বাচনে কংগ্ৰেস দলকে পরাভূত করার জন্য জেলা পৰ্যায়ে বিজেপি এবং অগপর মধ্যে গোপন এক বোঝাপড়া থাকবে। এআইইউডিএফ সভাপতি বদরুদ্দিন আজমল বলেছেন, নিৰ্বাচনে এআইইউডিএফ কোনও দলের সঙ্গে সমঝোতা করবে না। কিন্তু প্ৰাক্তন মুখ্যমন্ত্ৰী তরুণ গগৈ তা বিশ্বাস করছেন না। তিনি বলেন, এআইইউডিএফ-এর সঙ্গে বিজেপির এক গোপন বোঝাপড়া আছে। বিগত নিৰ্বাচনগুলিতে কংগ্ৰেসকে হারাবার জন্য বিজেপির সঙ্গে এআইইউডিএফ সমঝোতা করেছিল। এই নিৰ্বাচনেও কংগ্ৰেসকে হারাতে বিজেপির সঙ্গে গোপনে হাত মেলাবে। বিজেপির জেলা এবং তৃণমূল পৰ্যায়ের নেতা কৰ্মীদের আশঙ্কা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের ফলে রাজ্যের জাতীয়তাবাদী মহল থেকে শুরু করে আম জনতা সরকারের ওপর বেজায় অসন্তুষ্ট। তাছাড়া ব্যাপক হারে মূল্যবৃদ্ধি আম জনতাকে স্বস্তি দিতে পারেনি। মন্ত্ৰী হিমন্ত বিশ্ব শৰ্মা এদিনও আশা প্ৰকাশ করেন, বিজেপি আগামী পঞ্চায়েত নিৰ্বাচনে ভাল ফল করবে। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের কোনও বিরূপ প্ৰভাব পড়বে না। কেন্দ্ৰের তিন মন্ত্ৰক বৈদেশিক, গৃহ এবং আইন মন্ত্ৰক প্ৰস্তাবিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলকে সমৰ্থন করছে না। অনিশ্চিত এই বিলকে কেন্দ্ৰ করে রাজ্যে জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলি রাজ্যে জুড়ে প্ৰবল আন্দোলন গড়ে তুলেছে। কৃষক মুক্তি সংগ্ৰাম সমিতির নেতৃত্বে ‘সংকল্প যাত্ৰা' নামে এক যাত্ৰা শদিয়া থেকে ধুবড়ি বাইক মিছিল শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ নভেম্বর ৭০ টি সংগঠন দিশপুর ঘেরাও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্ৰতিবাদ করে উজান অসমে আলফার জনপ্ৰিয়তা ক্ৰমশ বেড়েই চলেছে। সেনা বাহিনীর সঙ্গে রাজ্য সরকারের এক উচ্চ পৰ্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিমন্ত অস্বীকার করলেও বিজেপি নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে পঞ্চায়েত নিৰ্বাচনে প্ৰস্তাবিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরূপ প্ৰভাব পরবে বলে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.