মিজোরামের নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোর লড়াই হতে পারে এমএনএফ-এর
ননী গোপাল ঘোষঃ শিলং, ১৬ নভেম্বর- সমতলের মতো নির্বাচনী পোস্টার, বেনার, দেওয়াল লিখনে মুখ ঢাকেনি মিজোরামের রাজধানী শহর আইজলের। নেই মাইকের দাপাদাপিও। নির্বাচনমুখী মিজোরামে দলীয় কেডারদের দাপাদাপিও চোখে পরার মতো নেই। যা আছে তা হল বাড়ি বাড়ি ভোটারদের দোরগোড়ায় গিয়ে প্রচার। বিভিন্ন দল প্রচার অভিযানের জন্য হাতিয়ার হিসাবে বেছে নিয়েছে এসএমএস ও হোয়াটসআপকে। সঙ্গে অবশ্যই প্রচারের আরেক হাতিয়ার ভোটারদের দোরগোড়া।
বিরোধী নেতা মিজো নেশনেল ফ্রন্টের (এমএনএফ) প্রার্থী ভান লাল জোয়মা ও ভোটারদের দড়জায় গিয়ে প্রচারের ওপর সহমত পোষণ করে জানিয়েছেন এতে ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের সঙ্গে কথাবার্তা চালানো যায়। তবে মিজো পিপলস ফোরাম যারা নজর রাখে নির্বাচনের ওপর। পিপলস ফোরাম বরাবরই প্রার্থীদের এক মঞ্চে বসে নিজেদের নির্বাচনী ইস্তেহার নিয়ে আলোচনায় উৎসাহ দিয়েছে।আদতে মিজোরামের শাইহার বাসিন্দা বর্তমানে চাকরিসূত্রে আইজলে থাকা লালডিয়াংলি য়ানি এই প্রতিবেদককে ফোনে জানিয়েছেন নির্বাচন এগিয়ে এলে কিছু কিছু এলাকায় নির্বাচনী সংগীত শোনা যেতে পারে। এ প্রজন্ম নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনায় বেশিরভাগই প্রকাশ্যে উত্তাপহীন। ত্রিপুরা লাগোয়া মামিত জেলায় রয়েছে যথেষ্ট সংখ্যক ব্রু (রিয়াং শরনাৰ্থী) ভোটার। এই ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে ত্রিপুরা থেকে বিজেপির নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। যথেষ্ট সংখ্যক চাকমা ভোটার থাকা এলাকায়ও বিজেপি জোর দিয়েছে। বৰ্তমানে মিজোরামের প্রত্যন্ত এলাকায় ভোট প্রচারে ব্যস্ত মিজোরাম বিজেপি-র সভাপতি অধ্যাপক জে ভি হুলনা। তিনি এই প্ৰতিবেদককে ফোনে জানিয়েছেন, বিজেপি ৬ জন মহিলাকে প্রার্থী করেছে। খ্রিস্টান অধ্যুষিত মিজোরামে ভালই সমর্থন পাচ্ছে দল। তাই বিরোধীরা যতই প্রচার চালাক মিজোরামের প্ৰত্যন্তর এলাকায় বিজেপি নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে পেরেছে বলেও জানালেন তিনি। যদিও বরাবরই কংগ্রেসের বোলবালা দেখা গেছে মিজোরামে। কখনও কখনও আঞ্চলিক দল ‘মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ও দাপট দেখিয়েছে। কিন্তু এবার খ্রিস্টান অধ্যুষিত এই রাজ্যে খাতা খুলতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। বরাবরই মিজোরামের জনজীবনে দেখা গিয়েছে গীর্জার প্রভাব। মিশন ফর ক্রাইষ্ট গীর্জার কার্যবাহী সদস্য ও সর্বসময়ের মিশনারি রেভারেন্ড ডাঃ এলআর কোলনী এবার আইজল পশ্চিম ৩ কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী। তাঁকে গীর্জা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মিশন ফর ক্রাইষ্টের সভাপতি রেভারেন্ড লালচুংনূংগা জানিয়েছেন বহিষ্কারের পেছনে কোন রাজনীতি নেই। কোলনী একজন সর্বসময়ের মিশনারি তাই রাজনীতি করতে পারেন না তিনি। গেরুয়া শিবির একাই ২৮ নভেম্বরের নির্বাচনে মোট ৩৯ টি আসনের সবকটিতে লড়তে চলেছে। লুংলেই পূর্ব কেন্দ্রে বিজেপি-র হয়ে লড়াইয়ে রয়েছেন ইউনাইটেড পেন্টেকোষ্টাল মিশনের সদস্য রেভারেন্ড লালরুয়াতা (REV LALRUATA)। কংগ্রেস অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী লালথানহাওলার কেরিশমার উপর নির্ভর করছে। কংগ্রেস দলের ভাল ভোট ব্যাংকও রয়েছে গোটা মিজোরাম জুড়ে।
ন্যাশনাল পিপলস পার্টিও লড়ছে নির্বাচনে। দল জোর দিয়েছে তরুণ প্রার্থীদের ওপর। তবে মিজোরামের আঞ্চলিক দল মিজো ন্যাশনেল ফ্রন্টের সংগঠনও যথেষ্ট মজবুত সেখানে। এদিকে গেরুয়া শিবিরও এবার চাইছে খাতা খুলতে। কংগ্রেস বর্তমানে উত্তরপূর্বের রাজ্যগুলির মধ্যে একমাত্র মিজোরামেই খ্যাত রয়েছে। বাকি রাজ্যগুলিতে রয়েছে অকংগ্রেসী সরকার। কাজেই মিজোরামের তখ্ত হারালে গোটা উত্তরপূর্ব যে হয়ে পরবে কংগ্রেস শূন্য সেকথা বলাই বাহুল্য।









কোন মন্তব্য নেই