ধলার ঘটনায় অসমের বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তার আঁচ লক্ষ্য করা গেল প্ৰতিবেশী রাজ্য মেঘালয়ের শৈলনগরী শিলংয়ে
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ
তিনসুকিয়া জেলার ধলার দারিদ্ৰপীড়িত বিসনিমুখ খেরবাড়ি গ্ৰামের আদিবাসিন্দা বিশ্বাস পরিবার পাঁচ দশকের বেশি সময় থেকে ঐ অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। অসমিয়া ভাষা সংস্কৃতি তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। ভালো করে বাংলায় কথা বলতেও জানেন না। অথচ একমাত্ৰ বাঙালি হওয়ার অপরাধে তাঁদের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হল। এই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে বাঙালিদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, তার আঁচ লক্ষ্য করা গেল প্ৰতিবেশী রাজ্য মেঘালয়ের শৈলনগরী শিলংয়ে। শহরে ততটা শীতের প্ৰকোপ নেই, তবে তার কিছুটা উত্তাপ বাঙালি নেতাদের মধ্যে ছিল। প্ৰতিবাদের ভাষা কড়া হলেও প্ৰতিরোধ করার ভবিষ্যৎ কৰ্মপন্থা গ্ৰহণের ক্ষেত্ৰে শিথিলতা, দৃঢ়তা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্ৰে ছিল জড়তা। শিলংয়ের রিলবং কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় ৮০জন বাঙালি প্ৰতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। কারণ ৮০তম স্বাক্ষরটি করেন, স্থানীয় সাংবাদিক ননী গোপাল ঘোষ। উত্তর পূৰ্ব ভারত বাংলা সাহিত্য সভার শিলং অধিবেশনকে খুবই সফল অধিবেশন বলা যাবেনা। তবে প্ৰধান উদ্যোক্তা মেঘালয়ের প্ৰাক্তন শিক্ষা মন্ত্ৰী তথা শিলং টাইমস-এর কৰ্ণধার পদ্মশ্ৰী মানস চৌধুরীর আন্তরিকতার কোনও অভাব ছিল না। তার ব্যক্তিগত আগ্ৰহেই এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অসমের বাঙালিদের বিপৰ্যয় নিয়ে বক্তাদের মধ্যে নিৰ্দিষ্ট কোনও বাৰ্তা ছিলনা। উত্তর করিমগঞ্জের বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ কেবল বাঙালিদের দুৰ্দশা নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবেই প্ৰতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিলেন। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ৰাক্তন উপাচাৰ্য ড০ জে বি ভট্টাচাৰ্য একমাত্ৰ প্ৰতিনিধি যিনি বাঙালি হিন্দুরা যে পরদেশি নয়, এই দেশেরই এই রাজ্যের আদি বাসিন্দা, তা বিভিন্ন ইতিহাসের তথ্য তুলে ধরে সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেন। সাংবাদিক রত্ন জ্যোতি দত্ত বলেন, বাংলা ভাষা বিপন্ন নয়, পৃথিবীতে ২৪ কোটি লোক এই ভাষায় কথা বলেন। শুভদীপ দত্ত, ড০ তিমির দে, ড০ এস কে চট্টোপাধ্যায়, রত্ন জ্যোতি দত্ত, শেখ নওয়াজ, সঞ্জয় সাহা, মিহির নন্দী, সুদীপ শৰ্মা চৌধুরী, অসীম বসাক, চন্দ্ৰশেখর বসাক, রফিকুল ইসলাম, রিতা ঘোষ, আবু হেনা, তপন বিশ্বাস প্ৰমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থেকে ধলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের প্ৰতি শ্ৰদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য ১ মিনিট মৌনব্ৰত অবলম্বন করা হয়। সুদীপ শৰ্মা চৌধুরী জনান, উত্তর পূৰ্ব ভারত বাংলা সাহিত্য সভার শাখা বিস্তার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবং পরবৰ্তিতে বরাক উপত্যকায় এক বড় আকারের সন্মেলন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বরাক উপত্যকাকে পৃথক কেন্দ্ৰীয় শাসিত অঞ্চলের দাবিতে পরিতোষ পাল চৌধুরী বরাক উপত্যকায় নিরবিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে গেছেন। বৰ্তমানে বরাকে শুভদীপ দত্ত ওরফে মলয় দত্ত লাগাতারভাবে একই দাবি জানিয়ে আসছেন। তিনি বিচিত্ৰ পোষাক পড়ে থাকেন, পণ করেছেন পৃথক বরাক বাস্তবায়িত না হওয়া পৰ্যন্ত সেই পোষাকের কোনও পরিবৰ্তন করবেন না। সেই মলয় দত্ত উপস্থিত থাকলেও পৃথক বরাকের নৈতিক সমৰ্থন টুকু জোটাতে পারলেন না। মনোরম নৈসৰ্গিক পরিবেশে শিলং শহরের গাছে গাছে চেরি ফুল, বেগুনি রঙের এই ফুলকে কেন্দ্ৰ করে আন্তৰ্জাতিক উৎসবের প্ৰস্তুতি চলছে। বাঙালিদের আরাধ্য দেবতা রবীন্দ্ৰনাথ তাঁর রিলবংয়ের বাসগৃহে নীরবে দাঁড়িয়ে আছেন। বাঙালিদের বিপৰ্যয় কবিগুরুর প্ৰতিমূৰ্তিকে স্পৰ্শ করেনি।










কোন মন্তব্য নেই