Header Ads

মেঘালয়ার বৃহত্তম নদীদ্বীপ নংখুন্ ম (Nongkhnum) পর্যটকদের কাছে আজও ব্রাত্য


ননীগোপাল ঘোষ, শিলং- অসমের মাজুলি নদীদ্বীপের পর মেঘের রাজ্য মেঘালয়ার নংখুন্ ম নদীদ্বীপকেই গোটা এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম নদীদ্বীপ হিসাবে ধরা হয়। মাজুলির মতো বিশাল না হলেও প্রায় ১০ স্কোয়ার কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে নংখুন্ ম নদীদ্বীপ। সোনালি বালুকারাশি ঘিরে থাকা এই নদী দ্বীপে ভিড়ভাট্টার বাড়বাড়ন্ত নেই। নেই শহুরে হইহুল্লোড়ও। দ্বীপের চারদিকে নির্জন প্রশান্তি পরিবেশ। দ্বীপ জুড়ে এক স্বর্গীয় অনুভূতি। প্রকৃতি এখানে শহুরে কেতায় সেজেগুজে বসে নেই। সেজেছে আপন খেয়ালে। আদিম রূপেই যে অনন্যা হয় প্রকৃতি এটা হাড়েহাড়ে ঠাহর করায় প্রকৃতি নিজেই। পর্যটকদের এই প্রকৃতির রাজ্যে আনাগোনার কমতির মোদ্দা কারণ যাতায়াতের সুবিধার অভাব। ভরপুর ইচেছ থাকলেও দুরূহ ভাঙাচোরা সড়কের জেরে অনেকেই অনীহা দেখান নংখুন্ ম যেতে। অথচ মেঘালয়ার পশ্চিম খাসি পাহাড় জেলার সদর নংষ্টইন থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরেই নংখুন্ ম। নৌকাবিহার বিলাসীদের জন্য ও আদর্শ প্রাকৃতিক এই নদীদ্বীপ। নংষ্টইন থেকে নংখুন্ ম পৌঁছাতে প্রায় ঘন্টা আড়াই লাগে পযদল মার্চে।ছোট মাছের চারণভূমি নংখুন্ ম। এককথায় রূপোলি শস্যের অফুরন্ত ভাণ্ডার। মৎস শিকারিদের লোভ বাড়ানোর যথেষ্ট উপাদান রযেছে এখানে। নদী এখানে পাগল বেগে আপন পারা। পাহাড়ী উচ্ছলতায় সাজিয়েছে নদী নিজেকে। মাছেরা, পাখিরা মাঝেমাঝেই জানান দিতে পারে এই প্রকৃতি রাজ্যে আপনি একা নন। আদতে দুই ভাই পিযস (PIUS) ও হিরো (HERO) নংসিযেজ(NONGSIEJ) এই এক টুকরো স্বর্গের মালিক। ২০১২ সালে মেঘালয়ার পর্যটন দপ্তর এবং পিযস ও হিরো নংসিযেজের সংগে পর্যটনের জন্য ২৫ বছরের এক চুক্তি হয়। কিন্তু প্রায় আনকোরা এই নদীদ্বীপ ঘিরে পর্যটকদের জন্য এখন ও অবধি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা অধরাই। কয়েকটি কটেজ গড়ে উঠলেও তা এখনও অবধি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়নি। গড়ে ওঠেনি রসনার তৃপ্তির জন্য তেমন কোনও হেঁসেল। তাই যেসব পর্যটক পাথুড়ে পথ পেরিয়ে যান নংখুন্ মে তারা দিনান্তে নিরে ফেরাটাই শ্রেয় মনে করেন। নংখুন্ মের শ্বাসরুদ্ধকারি থুম (THUM)জলপ্রপাতও পর্যটকদের জন্য অধরাই প্রায়। থুমের যাওয়ার পথ ঘেরাও লম্বা ঘাসের আস্তরণে। ঘাসের আস্তরণ সরিয়ে রোমাঞ্চকর দৃশ্য দেখাটা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। পর্যটন দপ্তরের তরফে কোনও ভিউ পয়েন্ট না থাকার জেরে কাক স্নানের মতোই সারতে হয জলপ্রপাত দর্শন নমো নমো করে। আরও দুটো জলপ্রপাত রযেছে নংখুন্ মেরে আশপাশ ঘিরে। এগুলো হল ওযেনিয়া( WEINIA) ও লাইনসিয়াং।(LYNSHIANG)। একটি ঝুলন্ত সাঁকো পেরিয়ে ঢুকতে হয় নদী দ্বীপে। যাত্রাপথে পরবে শান্ত সৌন্দর্য জড়ানো পাহাড়ি গ্রাম লাউসে (LAWSE), মাউডু(MAWDOH) ও মাউথার( MAWTHAR)। স্থানীয়দের বক্তব্য পর্যাপ্ত  সুযোগ-সুবিধা না থাকার জেরে বর্ষা ও শীতের সময় পর্যটকের সংখ্যা নগণ্য। স্থানীয় বিধায়কের উদ্যোগে বর্তমানে রাজ্য সরকার ঐ সড়কে সহজে যাতায়াতের উদ্যোগ নিয়েছে।এর জেরে আগামীতে নংখুন্ ম হয়ে উঠতে পারে পর্যটকদের আকৰ্ষণীয় জায়গা।

No comments

Powered by Blogger.