Header Ads

রাজ্যের ৫০ লাখ বাঙালি হিন্দুদের স্বার্থে কিছু করুন

প্রতি
ডঃ হিমন্তবিশ্ব শর্মা,
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, অসম।

আপনাকে সশ্রদ্ধ নমষ্কার জানাই। 
আপনি অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপ নিয়ে বরাক উপত্যকার হিন্দু বাঙালির জন্য স্বর্ণযুগ এনে উপহার দিয়েছেন। নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে, আপনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গঠিত "বরাক উপত্যকা উন্নয়ন মন্ত্রণালয়" হচ্ছে এই শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সাক্ষী। আমরা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার হিন্দু বাঙালিরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি। আমরা মোটেও ঈর্ষাপরায়ণ নই। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার একজন হিন্দু বাঙালি সচেতন নাগরিক হিসেবে কষ্ট পাচ্ছি এই ভেবে যে আমরা কী পেলাম ? আমাদের উপত্যকার একজনও মন্ত্রী নেই। সত্যি বলতে কী, একমাত্র গৌতম রায় ও প্রয়াত কর্ণেন্দু ভট্টাচার্য ছাড়া বরাকের কোনো মন্ত্রীই এই উপত্যকার হিন্দু বাঙালির দুঃসহ যন্ত্রণার কথা চিন্তা করেন নি। আপনি তো জানেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত হিতেশ্বর শইকীয়ার আমলে প্রয়াত ডঃ অর্ধেন্দু কুমার দে মন্ত্রী থাকার পাশাপাশি প্রয়াত দেবেশ চক্রবর্তী অসম বিধানসভার অধ্যক্ষ ছিলেন। শিলচর ও করিমগঞ্জে দুজন হিন্দু বাঙালি সাংসদ ছিলেন। তারমধ্যে প্রয়াত সন্তোষ মোহন দেব ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এছাড়াও প্রয়াত কর্ণেন্দু ভট্টাচার্য রাজ্যসভা সাংসদ ছিলেন। ওদিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত তরুণ গগৈর আমলেও তিন জন হিন্দু বাঙালি মন্ত্রী ছিলেন। বরাকের ২২/২৫ লক্ষ হিন্দু বাঙালির প্রতিনিধিত্বের জন্য মাত্র একজন হিন্দু বাঙালি মন্ত্রী অন্তর্ভুক্ত করেছেন। সাকুল্যে বরাকের মাত্র দুজন মন্ত্রী। অথচ, তখন বিজেপি দলের জনপ্রিয়তা হিন্দু বাঙালির মধ্যে তুঙ্গে। বিপরীতে, কংগ্রেস হিন্দু বাঙালির নগণ্য সংখ্যক ভোট পেতো।
স্যার, ১৯৯৩ সালের জানুয়ারি মাসে আমি সারা অসম বাঙালি যুবছাত্র পরিষদের এক প্রতিনিধি দল নিয়ে নয়াদিল্লি গিয়েছিলাম। সেখানে ১৫, অশোকা রোড, সন্তোষ মোহন দেবের সরকারি বাসভবনে একটা কাজে গিয়েছিলাম। একটি কাগজ খুঁজতে গিয়ে D.O. Letter এর ফাইলে দেখি অসংখ্য চিঠি। কারো চাকরি, কারো ট্রান্সফার ইত্যাদি অনেক বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে লেখা সুপারিশ। আবেদনকারী  সবাই বরাক উপত্যকার মানুষ। আমার মনে পড়ে না, তিনি ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার হিন্দু বাঙালির জন্য এমন কোন কাজ করেছেন কী না? তাঁর কাছে গেলে সব সময় বলতে শোনা যেতো, "তোমরা সবাই এক হও" গোছের উপদেশ। অবশ্য, অসম ভাষিক সংখ্যালঘু উন্নয়ন বোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হলো বরাকের এম সি ঘোষকে। আমরা খুব দুঃখ পেয়েছিলাম তখন। এমন আত্মকেন্দ্রিক চিন্তার শত শত দুঃখ, বেদনা, অন্তর্জ্বালা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার হিন্দু বাঙালির  মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। আপনি এই বেদনা আরও দ্বিগুন বাড়িয়ে দিয়েছেন। এখন এই বঞ্চনার জ্বালা, হীনমন্যতার অন্তর্দাহ নীরবে নিভৃতে জ্বলছে! অথচ পঞ্চাশ লক্ষেরও বেশি এই জনগোষ্ঠীর মানুষ ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় বসবাস করেন। এঁদের দেখার কোনো স্বগোষ্ঠীয় মন্ত্রী নেই। অভাব- অনটন, হরেক রকমের অসুবিধা কার কাছে গিয়ে বলবেন তাঁরা? আপনার বিধানসভা কেন্দ্র জালুকবাড়ির আমিনগাঁও, মালিগাঁও ও পাণ্ডুর ক'জন হিন্দু বাঙালি যুবক যুবতী চাকরি পেয়েছে? ক'জন হিন্দু বাঙালি কন্ট্রাক্টর কন্ট্রাক্ট পেয়েছে? আপনার বিধানসভা কেন্দ্রে সম্ভবতঃ মোট ভোটারের চল্লিশ শতাংশই হিন্দু বাঙালি। গোটা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় এমন নিদারুণ অবস্থা বিদ্যমান। সেক্ষেত্রে, কৃষ্ণেন্দু পাল? কোনো লাভ হবে না। সেই আত্মীয়তাবোধ তো তাঁর মধ্যে দেখি নি। আমার দৃষ্টিতে গৌতম রায় ও কর্ণেন্দু ভট্টাচার্য ছাড়া কারো মধ্যেই ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার হিন্দু বাঙালির সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মানসিকতা আছে বলে জানা নেই। তবে বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের মধ্যে বরাক-ব্রহ্মপুত্রের মানসিক দূরত্ব ও বৈষম্য নেই বললেই চলে। অবশ্য উপলব্ধি ও মনস্তত্ব পর্যবেক্ষণে আমার ভুলও হতে পারে।
সুতরাং, এমন বাস্তব পরিস্থিতি সু্স্থ ও স্বাভাবিক করার জন্য ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার হিন্দু বাঙালির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক আশা-আকাঙ্খা পূরণের স্বার্থে এই উপত্যকা থেকে একজন বাঙালি মন্ত্রী ও "ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা বাঙালি স্যাটেলাইট অটোনোমাস কাউন্সিল" গঠন করার উদ্যোগ হাতে নিলে সুফল পাওয়া যাবে। এই জনগোষ্ঠীর মানুষেরা আর পরনির্ভরশীল হয়ে থাকতে চান না। চাতক পাখীর মতো একফোঁটা বৃষ্টির জলের জন্য হাঁ করে এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। 
স্যার, আমি জানি, আপনি অনেক বড় কমিটেড লীডার।  প্রয়াত হিতেশ্বর শইকীয়ার প্রতিচ্ছবি আপনার কাজে কর্মে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে প্রতিফলিত হয়। আশা করবো, আপনি বিষয়টি নিয়ে একটু ভাবনার চিন্তা করবেন। তা না হলে, আগামি বিধানসভা নির্বাচনে এই উপত্যকার হিন্দু বাঙালির মনে এই দাবিগুলো অসংখ্য প্রশ্নের জন্ম দেবে।

স্যার, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় পঞ্চাশ লক্ষ হিন্দু বাঙালি বসবাস করলেও আমাদের মুরোদ নেই একটি বাংলা সংবাদপত্র বের করার। তাই আমাদের নির্ভর করতে হয় বরাকের বাংলা সংবাদপত্র গুলির ওপর। আমার বক্তব্য আকছার প্রকাশ হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। আমাদের প্রতি কৃত বঞ্চনা তুলে ধরার একমাত্র মাধ্যম। আমার মনেহচ্ছে, যদি বরাকের মন্ত্রী অসন্তুষ্ট হয়ে আমার বক্তব্য প্রকাশে বাধা দেন, তাহলে সেটা বীরোচিত কার্য হবে না। সমালোচনা সহ্য করার ক্ষমতা থাকতে হয়। তাই আমি চাইবো, আলেকজান্ডার ও রাজা পুরুর কথোপকথনের মতো। রাজার প্রতি রাজার আচরণ। 
স্যার, কয়েক মাস আগে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে আপনি বলেছেন, "বরাক উপত্যকার মানুষ যদি আলাদা রাজ্যের দাবি তোলেন, তাহলে আমার সরকার সমর্থন করবে।" তাছাড়া, আলাদা বরাক রাজ্যের দাবি স্যোশাল মিডিয়ায় সব সময় ঘুরে ফিরছে। আমি এটাও জানি, বরাকের মানুষের প্রধান সমস্যা হচ্ছে যাতায়ত ব্যবস্থা। যেন একটা অভিশাপ। তার ওপর বেকার যুবক যুবতীদের চাকরির বঞ্চনা মারাত্মক ব্যধি হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়ন শ্লথ গতিতে চলছে। তবে একদিন না একদিন যে বরাক উপত্যকা আলাদা রাজ্য হবে, সেটা আন্দাজ করতে মানুষের মনে কোনও সংশয় নেই। বরাক উপত্যকায় আমার অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিক বন্ধু ছাড়াও ভালোলাগা মানুষ রয়েছেন। তাঁরা আহত বোধ না করে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার হিন্দু বাঙালির সমস্যা গুলোর প্রতি সমর্থন করতে অনুরোধ জানাই।
মুখ্যমন্ত্রী মহোদয়, আমার লেখার ওপর একটু নজর দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করবেন।

বিনীত,
চিত্তরঞ্জন পাল।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.