অসমের বাঙালিদের সমস্যা জটিল ভয়ংকর গুয়াহাটিতে সি আর পি সি র জরুরি বৈঠকে অভিমত হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরীর
নয়া ঠাহর, গুয়াহাটি সংবাদদাতা :গুয়াহাটি,২৬ অক্টোবর::
"সমস্যা জটিল, পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর অসমের ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য।" -- গুয়াহাটি হাইকোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হাফিজ রশিদ আহমেদ চৌধুরী এ মন্তব্য করেন। আজ গুয়াহাটির আইএনটিইউসি-র প্রেক্ষাগৃহে নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৭ অক্টোবর সুপ্রীমকোর্ট দ্বারা প্রদত্ত রায়ের স্বাগত জানাতেই এই সভা অনুষ্ঠিত করা হয়েছে। বিপ্লব কুমার শর্মা কমিটির সুপারিশ বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, অসমিয়া জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক আইনগত ও প্রশাসনিক সুরক্ষা দিতে একটি কার্যকর পন্থা গ্রহণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।যেখানে এখন পর্যন্ত ভূমিপুত্রের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কে সঙ্গে নিয়েই তা করতে হবে। এন আর সি সুপ্রীমকোর্ট থেকে এখনও আইনি স্বীকৃতি পায় নি। তার জন্য সিআরপিসি যথোচিত ব্যবস্থা গ্রহণ। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্তবিশ্ব শর্মা কে সরিয়ে দেওয়ার জন্য হুঙ্কার দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে চৌধুরী বলেন, একশো জন হিমন্ত এসেও বের করতে পারবেন না। অন্ততঃ আইন এই অনুমতি দেয় না।
সারা অসম বাঙালি যুবছাত্র ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তথা হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট সহদেব দাস বলেন, অসমে ভাষিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা প্রায় দুই কোটি মানুষ রয়েছেন। এদের দাবিয়ে রেখে ক্ষমতা ভোগ করার পাশাপাশি সকল সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার জন্যই বর্তমান সরকার ১৯৫১ সাল ভিত্তিবর্ষ করতে চাইছেন। সিআরপিসি-র সাধারণ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন পাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, ছয় বছর অসম আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সম্পাদিত ঐতিহাসিক "অসম চুক্তি" পেয়েছি। রাজ্যের সকল জনগোষ্ঠীই ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কে ভিত্তিবর্ষ হিসেবে মেনে নিয়েছেন। যদিও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্তবিশ্ব শর্মা ২০১৬ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে যোরহাট শহরে "নিউজ লাইভ" টিভি চ্যানেলের প্রেক্ষাপট অনুষ্ঠানে ১৯৫১ সালকে ভিত্তিবর্ষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বারবার ১৯৫১ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আসা হিন্দু বাঙালিরা অসমে উদ্বাস্তু হিসেবে বসবাস করার পক্ষে মত ব্যক্ত করে আসছেন। ওদিকে, প্রাক্তন বিধায়ক শিলাদিত্য দেবো মুখ্যমন্ত্রীর শ্রুতলিপি অনুসারে ১৯৫১ সালের পক্ষে ওকালতি করে আসছেন। যার পরিণাম হবে ভয়ঙ্কর। প্রায় সত্তর লক্ষ হিন্দু বাঙালি নাগরিকত্ব হারাবেন। আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থিত্ব পাওয়ার জন্যই দেব এমন জাতিদ্রোহী পরিকল্পনার অংশীদার হয়েছেন।
চিত্তরঞ্জন পাল আরও বলেন, বিজেপি মিত্রজোটের সরকার কে উৎখাত করতে সচেষ্ট হতে হবে। ভোটের রাজনীতিতে হিমন্তবিশ্ব ও শিলাদিত্যের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করতে হলে হিন্দু বাঙালিরাই বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
ওদিকে, গুয়াহাটি হাইকোর্টের অন্যতম অ্যাডভোকেট সুভাষ বিশ্বাস বলেন, "কা" হচ্ছে একটি রাজনৈতিক ইস্যু। সারা ভারতে সর্বমোট একশো জন মানুষও নাগরিকত্ব পান নি। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের লাভালাভের জন্য নাগরিকত্ব ইস্যুটিকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
গুয়াহাটি হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট নজরুল হক মাঝারভূঁয়া বলেন, সুপ্রীমকোর্টের ইতিহাসে এটা একটি ঐতিহাসিক রায়। যা সমর্থন যোগ্য। তিনি বলেন, বিপ্লব কুমার শর্মা কমিটির পরামর্শের কোন আইনগত স্বীকৃতি নেই। যদিও মুখ্যমন্ত্রী এই ছুঁতোয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার হনন করতে উদ্যত হয়েছেন। এমন কী, এই কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি হচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অফিসার। তিনি শর্মা কমিটির সুপারিশে স্বাক্ষর করেন নি। দশ দিন নয়াদিল্লি থাকার পরও এই প্রতিবেদন গ্রহণ করে নি। এমন অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী বেআইনী ভাবে সংখ্যালঘুর অধিকার খর্ব করতে উদ্যত হয়েছেন। ১৯৫১ সালের বসুন্ধরা ৩ অনুচ্ছেদে ভূমিপুত্র (খিলঞ্জীয়া) শব্দটি জোর করে অন্তর্ভূক্ত করে দিয়েছেন।
প্রাক্তন বিধায়ক স্বপ্নন কর বলেন, বাঙালি হিন্দু ও মুসলমান মিলে একটি রাজনৈতিক শক্তি তৈরি করতে হবে। স্বপন করের দাদুর নাম ১৯৫১ সালের নাগরিক পঞ্জীতে আছে। যদিও তিনি আবেদন করা সত্ত্বেও একমাত্র বাঙালি হওয়ার অপরাধে বসুন্ধরার অধীনে জমির আবন্টন পান নি।
কাটিগড়া বিধানসভার বিধায়ক খলিলুদ্দিন মজুমদার দু মাস পর পর অসমের বিভিন্ন জেলায় সিআরপিসি-র সভা অনুষ্ঠিত করে সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে পরামর্শ দেন। রিটায়ার্ড আইপিএস প্রদীপ কর বলেন, সরকার চাকরির ক্ষেত্রে যতই স্বচ্ছতার কথা বলুক না কেন, আসলে বাঙালি যুবক যুবতীদের সম্পূর্ণ রূপে বঞ্চিত করে আসছেন।
সভায় শুভ্রাংশু দেব রিটায়ার্ড আই আর এস, সহ বিজয় চক্রবর্তী, জ্যোতির্ময় গুপ্ত ছাড়াও অনেকেই ভাষণ দেন। সভায় হাইকোর্টের তিনজন অ্যাডভোকেট নিয়ে একটি লীগেল সেল গঠন করা হয়েছে। তাছাড়াও অর্থ সংগ্রহ ও সংগঠন কে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য , আজকের সভায় পৌরহিত্য করেন সিআরপিসি-র সভাপতি নৃপেন সাহা। উদ্দেশ্যে ব্যাখ্যা করেন কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল সাধন পুরকায়স্থ। পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হবে হোজাই জেলার হোজাই শহরে।( আজকের বৈঠকে বক্তাদের মতামত নিজস্ব। )








কোন মন্তব্য নেই