Header Ads

আমার নাম নার্গিস মুহাম্মদী ঠাঁই ,অন্ধ কুঠুরি ,আকাশ দেখতে চাই আমাকে কি কেউ দেখাতে পারবে

নাম নার্গীস মুহাম্মদী । বয়স ৫১ বছর । নিবাস ইরান। তবে জীবনের ৩১টি বছর জেলের ভিতরেই কাটাতে হয়েছে তাঁকে । বর্তমানে ঠিকানা তেহরানের কুখ্যাত ইবন কারাগারের এক ছোট্ট কুঠরীতে । সেখানে আলো বাতাস কিছুই পৌঁছায় না । দম বন্ধ করা পরিবেশ । এই ইবন কারাগারে বেশ কয়েক বছর ধরে বন্দি আছেন নার্গীস মুহাম্মদী । আগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন। বর্তমানে সাজা "কমে" ৩৫ বছর জেল ও তারপরও বেঁচে থাকলে ১৫৬ ঘা প্রকাশ্যে চাবুক। 

কিন্তু কি ছিল তার অপরাধ ?
অপরাধ গুরুতর । ইরানে নারীদের উপর হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তিনি । মানবাধিকার ও স্বাধীনতার স্বপক্ষে করেছেন আন্দোলন । প্রকাশ্যে তিনি হিজাব বা বোরখা না পরে বেরিয়েছিলেন। তারপর আরও ভয়াবহ অপরাধ, নারীদের হিজাব বোরখা বাধ্যতামূলক পরার আইন রদ। নারীর শিক্ষার অধিকার, পুরুষের সমান অধিকার দাবী। এছাড়া নিজের গর্ভের অধিকার। অর্থাৎ নারী নিজে না চাইলে গর্ভবতী হবেন না, তিনি জন্ম নিয়ন্ত্রনের পদ্ধতি ব্যবহার করবেন স্বেচ্ছায়। নারীরও অধিকার থাকবে তালাক দেবার। নারী চিকিৎসক না পেলে পুরুষ চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করার অধিকার। ইত্যাদি। শুনে মনে হতেই পারে এসব আবার আন্দোলনের বিষয় নাকি? কিন্তু হ্যাঁ। ইরান, সিরিয়া, লিবিয়া, বর্তমান ইরাক এসব জায়গায় সময় থমকে গেছে শতাধিক বছর আগে। 

উনি কিন্তু ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করেননি । বরং উনি রীতিমতন ইসলাম ধর্ম পড়াশুনা করেই প্রমাণ করেছিলেন যে কোনও দাবীই ইসলাম বিরোধী নয়। উনি নিজেও সাধারণত হিজাব পরেন বেশীরভাগ সময়, ধর্মও পালন করেন নিয়ম অনুযায়ী। কিন্তু কোনওরকম জোর জবরদস্তির বিরোধী। সবার আগে নারীর শিক্ষা, চাকরি এসবের অধিকার দাবী করেন। ইরানের জেলে রাজনৈতিক বন্দিদের উপর, বিশেষ করে মহিলা বন্দিদের উপর হওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছেন তিনি। 

১৯৭২ সালে উত্তর-পশ্চিম ইরানের জ়ানজানে জন্ম৷ ফিজিক্স নিয়ে পড়াশোনা ৷ পরে ইঞ্জিনিয়ারিংও পড়েন ৷ কিন্তু, বেশিদিন সেই পেশায় থাকেননি৷ যোগ দেন সাংবাদিকতার কাজে৷ তবে সেন্টার ফর হউমান রাইটস ডিফেন্ডারের সদস্য হিসাবে তাঁর কাজ সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে মানুষের ৷ ইরানের মহিলাদের পড়াশোনা থেকে পোশাক, সার্বিক স্বাধীনতার প্রশ্নে বারবার সরব হন৷ চলে ক্ষমতাশীলের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই ৷ সেই লড়াইয়ে মানসিক, শারীরিক সব দিক থেকেই একাধিক বার ক্ষতবিক্ষত হতে হয়েছে তাঁকে ৷ তবে কখনও থেমে যাননি ৷ ২০১৮ সালে আন্দ্রেই শাখারোভ পুরস্কার (Andrei Sakharov Prize) পেয়েছিলেন তিনি।

ইরানে নারীমুক্তি আন্দোলনের পুরোধা, নির্ভীক সাংবাদিক সেই নার্গিস মুহাম্মদী-ই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন এই বছর ৷ ২০২৩ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপক হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণা করেছে নরওয়ের নোবেল কমিটি ৷ জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে বসে তিনি নিজের নোবেল জয়ের খবর পেয়েছেন কিনা আমাদের জানা নেই । 

Collected

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.