চা জনগোষ্ঠি সঙ্গে বাঙালি সম্পর্ক নষ্ট করার অভিযোগ জাতীয়তাবাদী
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
০৯/০২/২০২৪
চা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় বাঙালিদের মধ্যে শত্রুতা এবং সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেবার অভিযোগে শিলচর থানায় ঈশ্বর ভাই উবাদিয়া ও দিলীপ কুমার এর বিরুদ্ধে এজাহার জমা দিল বিডিএফ।
বরাক উপত্যকা অবৈধ বাংলাদেশীতে ভরে গেছে এবং তাঁরা চা বাগানের জমি জবরদখল করছেন এই মন্তব্য করেছিলেন সুরমা ভ্যালি টি এসোসিয়েশনের সভাপতি তথা রোজকান্দি বাগানের ম্যানেজার ঈশ্বর ভাই উবাদিয়া, যদিও এই বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তিনি ইতিমধ্যে লিখিত ভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। এবার রাস্ট্রভাষী চা উন্নয়ন পরিষদ নামের এক ভুঁইফোড় সংগঠনের কর্মকর্তা জনৈক দিলীপ কুমার আবার তার বক্তব্যকে সমর্থন করে বরাক বাসীকে বাংলাদেশীদের সমর্থক বলে উল্লেখ করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে পথে নামার হুমকি দিয়েছেন। সমগ্র ঘটনাক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে আজ ঈশর ভাই উবাদিয়া এবং দিলীপ কুমারের বিরুদ্ধে শিলচর সদর থানায় এজাহার জমা দিল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
এদিন থানার সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিডিএফ আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে বলেন যে তাঁরা মনে করেন এসবের মাধ্যমে সুপরিকল্পিতভাবে বরাকের চা জনগোষ্ঠী ও বাংলাভাষীদের মধ্যে শত্রুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং সেটাই তাঁরা আজকের অভিযোগনামায় উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন যে তাঁরা আশাবাদী যে পুলিশ প্রশাসন তাঁদের এই এজাহারের ভিত্তিতে অবিলম্বে বিহিত ব্যাবস্থা নেবেন এবং তাদের অবহিত করবেন। তিনি বলেন যদি তা নাহয় তাহলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্নচিহ্ন দেখা দেবে ।
হৃষীকেশ দে এদিন বলেন যে তাঁরা হিন্দি বা অসমিয়া কোন ভাষিক গোষ্ঠী বা ভাষাভাষী মানুষের বিপক্ষে নন। কারণ ভূমিপুত্র বলে কিছু হয়না যারা এই ভূমিকে প্রকৃত ভালোবাসেন তাঁরাই ভূমিপুত্র। তিনি বলেন বিহার, উত্তরপ্রদেশে থেকে আগত প্রচুর হিন্দিভাষী নাগরিক বরাকে রয়েছেন যারা এই উপত্যকাকে অন্যান্য সবার মতো আপন করে নিয়েছেন, তাঁদের অবদানে নিয়ত সমৃদ্ধ হচ্ছে এই উপত্যকা। কিন্তু বিডিএফ সমস্ত ভাষিক আগ্রাসনবাদের বিরুদ্ধে । তিনি বলেন এই উপত্যকা শান্তির দ্বীপ। এখানে চা শ্রমিক এবং স্থানীয় বাংলাভাষী সহ সব জনগোষ্ঠীর পারস্পরিক সম্প্রীতির দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে। তাই কেউ যদি নিজ স্বার্থে তা বিনষ্ট করার কোন উদ্যোগ নেয় তবে সেটা বিডিএফ কোন অবস্থায় মেনে নেবে না। এবং তেমন হলে পাল্টা প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন যে বিডিএফ পৃথকীকরণের পক্ষে যে আন্দোলন করছে তা বাঙালি প্রধান রাজ্য গঠনের আন্দোলন নয়। বরাকের সমস্ত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও কৃষ্টি সংস্কৃতির সমোন্নয়নই তাঁদের অভীষ্ট। তিনি বলেন অনুন্নয়ন,বেকারত্ব, নাগরিক পরিষেবার দুরবস্থা, যোগাযোগের অপ্রতুলতা, নাগরিকত্ব ইত্যাদি যে সমস্ত সমস্যার জন্য পৃথকীকরণের ডাক দেওয়া হয়েছে তারজন্য ভুক্তভোগী এখানকার চা শ্রমিক সহ বরাকের সমস্ত জনগোষ্ঠীভুক্ত নাগরিকরা। তাই এই দাবির সপক্ষে ইতিমধ্যে চা বাগান থেকে অনেকেই তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন এবং সমর্থনের অঙ্গীকার করেছেন। হৃষীকেশ বলেন বরাকের চা শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্যে , চা বাগানগুলির দুরবস্থা,ডলু বাগানের চা গাছ ও শ্রমিকদের উচ্ছেদ নিয়ে এর আগে বারবার সরব হয়েছে বিডিএফ। কিন্তু এইসব স্বঘোষিত শ্রমিক প্রেমী নেতাদের এসব নিয়ে কখনো কথা শোনা যায়নি। তাই তাঁরা প্রশাসনকে অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবার আহবান জানাচ্ছেন তারা। অন্যথা যৌথ প্রতিবাদী মঞ্চ থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে পা বাড়াবেন তাঁরা।
বিডিএফ এর পক্ষ থেকে দেবায়ন দেব এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।








কোন মন্তব্য নেই