Header Ads

কান্দি তে তৃণমূল কাউন্সিলের বাড়ি আক্রান্ত

¤তৃণমূলের অন্তর্কলহে কান্দীতে আক্রান্ত কাউন্সিলরের বাড়ি¤ নিজস্ব সংবাদ।
  গত বিজয়া দশমীর মধ্যরাতে উচ্ছৃঙ্খল মদ্যপ সমর্থকদের নিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে খড়গ্রামের বাসিন্দা ,খড়গ্রাম পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ, তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা সুপ্রিয় ঘোষ কান্দী থানার আই সি সুভাষ ঘোষের উপস্থিতি উপেক্ষা করে কান্দী মিউনিসিপ্যালিটির ৯ (নয়) নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শ্রী গুরুপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বসতবাড়ির গেট ভেঙে ঢুকে প্রায় ৪৫/৫০জনের দুর্বৃত্তদল নিয়ে ঢুকে পড়েন।আই সি সুভাষ ঘোষকেই ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়ে দুর্বৃত্তদল তছনছ করে দেয় সুসজ্জিত ফুলের বাগান। ভেঙে ফেলে সুদৃশ্য ফুলের টব।উচ্চারণের অযোগ্য নোংরা অশ্লীল ভাষায় শ্রীমুখোপাধ্যায়ের মৃত মা-বাবার উদ্দেশে গালিগালাজ করতে করতেই বড় বড় পাথর ও ইঁটের টুকরো ছুঁড়ে মূল্যবান কাচের জানলা ভেঙে চুরমার করে দেয়।পুলিশের পাশাপাশি কান্দী পুরসভার চেয়ারম্যান শ্রী জয়দেব ঘটককেও দেখা যায় প্রাণপণ চেষ্টায় উচ্ছৃঙ্খল সুপ্রিয় ও তাঁর মাতাল সহযোগীদের প্রতিহত করতে।আই সিকে অবিরত দেখা যায় কানে ফোন লাগিয়ে অসহায় ভাবে কারও সাথে কথা বলে যেতে। একের পর এক ভ্যানের পর ভ্যান পুলিশ, সিভিক ভলান্টিয়ার,ঢাল হাতে রাফ বাহিনী উপস্থিত হলেও অজ্ঞাত  রহস্যময় কারণে তাঁরা অহিংস উপায়েই প্রতিহত করে চললেন উন্মত্ত জনতাকে।একবারই শুধু দেখা গেল লাঠিহাতে দুষ্কৃতীদের তাড়া করতে যখন তারা গৃহবন্দী গুরুপ্রসাদকে ঘরের দরজা ভেঙে আক্রমণে উদ্যত হয়।জানা যায়, শ্রীমুখোপাধ্যায়ের কাছে বৈধ লাইসেন্সের রিভলভার রয়েছে এবং আতঙ্কিত অবস্থায় আত্মরক্ষার তাগিদে সেটির ব্যবহার ঘটে গেলে একাধিক প্রাণহানির সম্ভাবনার কথা ভেবেই আরও মারাত্মক পরিণতি এড়াতেই মরিয়া পুলিশ লাঠি নিয়ে দুষ্কৃতীদের তাড়া করে।দুষ্কৃতীদের কয়েকজনকে শ্রীমুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক নিবাসে তাঁদের কুলদেবতা শ্রীশ্রী বিজয়গোবিন্দ ও শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ জীউর শতাব্দীপ্রাচীন মন্দিরের দিকেও এগোতে দেখা যায় ।পুলিশের তৎপরতায় তা রোখাসম্ভব হয়। রাত্রি প্রায় ১১টা থেকে ভোর সাড়ে তিনটে পর্যন্ত পুলিশের উপস্থিতিতেই তৃণমূলের নেতার লোকজন এলাকায় তাণ্ডব জারি রাখে।
         ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শ্রীমুখোপাধ্যায় তাঁর প্রভূত জনপ্রিয়তার কারণে প্রথমে ১০ নম্বর, তারপর ১৫নম্বর এবং এবারে ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে পর পর তিনবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।প্রথম দু'বার দলীয় মনোনয়ন পেলেও বিগত বিধানসভার নির্বাচনের আগেই দল বদলে বিজেপিতে যান এবং ভোটের পরে দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের হাত ধরে ফিরে এসেই নিজস্ব সাংগঠনিক দক্ষতা ও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই তৃণমূল কংগ্রেসে জেলার  সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। এটাতেই সুপ্রিয় ঘোষ ও তাঁর মদতদাতা দলীয় নেতৃত্বের অনেকেরই চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন গুরুপ্রসাদবাবু। তাই তাঁর জনভিত্তি কমাতেই এই মধ্যরাতে আক্রমণের ষড়যন্ত্র করা হয় বলে তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারণা।একই উদ্দেশ্য নিয়েই তাঁর প্রথম নির্বাচনক্ষেত্র থেকে তাঁকে সরানো হলেও তিনি বিপুল জয়ের মাধ্যমে সেই ষড়যন্ত্রের জবাব দেন।বিগত পুরভোটে তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে একেবারেই নতুন নির্বাচনক্ষেত্র নয়(৯) নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়লাভ করে বিরোধীদের ঈর্ষা বাড়িয়ে দেন বহুগুণ।এছাড়াও একের পর এক শিক্ষক-প্রশিক্ষণ(প্রাথমিক ও মাধ্যমিক),কারিগরী প্রশিক্ষণ কলেজ স্থাপনের মাধ্যমে অপ্রতিহত গতিতে বেকার যুবক যুবতীদের মধ্যে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে এগিয়ে যাওয়ায় বুদ্ধিবলে তাঁকে এঁটে উঠতে না পেরে বাহুবলে জব্দ করার জন্যই মরিয়া হয়ে উঠে আক্রমণের পথ বেছে নেন। 
আক্রমণের সংবাদ সিসিটিভি'র লাইভ ফুটেজসহ ভাইরাল হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারিত হওয়ার ফলে ব্যাকফুটে এখন বিরুদ্ধগোষ্ঠী। এদিকে সেদিন পুলিশ চাপের মুখে অসহায় আচরণ করলেও সুওমোটো অভিযোগ দায়ের করে আই পি সি, সি আর পি সি সহ অন্যান্য দণ্ড ও অপরাধবিধির একাধিক ধারা প্রয়োগ করেন।আজ পর্যন্ত ন্যূনাধিক দশজনকে গ্রেপ্তার ও আদালতে পেশ করলেও মূল অভিযুক্ত সুপ্রিয় ঘোষকে ফুটেজে তাঁকে স্বয়ং লাঠি  সরবরাহ করতে এবং নিজে লাঠিহাতে গুরুপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা সত্বেও কেন এখনও অ্যারেস্ট করা হল না সেই নিয়ে এলাকার সাংসদ তথা সংসদের বিরোধীদের নেতা,কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি অধীর চৌধুরী, বিজেপির জেলা সভাপতি শাখারভ সরকার,স্থানীয় বিজেপি নেত্রী বিনীতা রায়, কংগ্রেসের স্থানীয় প্রাক্তন বিধায়ক  সফিউল আলম  (বনু) খাঁ প্রমুখ জোরালো প্রশ্ন তুলেছেন।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.