Header Ads



চিত্ত পাল, (রাজনৈতিক বিশ্লেষক)
নগাঁও, ২১ জানুয়ারি  দল ৮৫টি বিধানসভা কেন্দ্র  প্রক্ষ্যেপ করেছিলো। মাত্র ৯টি আসনে জয়ের মুখ দেখতে পেরেছিলো। পশ্চিমবঙ্গের জনক ডঃ মুখোপাধ্যায় পেয়েছিলেন মাত্র ৫.৫৮ শতাংশ ভোট বিপরীতে, কংগ্রেস পেয়েছিলো ১৫০টি আসন  প্রাপ্ত ভোট ৩৯ শতাংশ। তখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কেন ডঃ মুখোপাধ্যায় কে ব্রাত্য করে রেখেছিলেন, তার অর্থ আজও দুর্বোধ্য!
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেশভাগের আগে ১৯৪৭ সালে বাংলার বিধানসভায় ২২৫ টি বিধানসভা কেন্দ্র ছিলো। তারমধ্যে ১১টি জেলায় হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিলেন। সেখানে বিধানসভা কেন্দ্র ছিলো ৮০ টি। জেলাগুলি হচ্ছে ক্রমে বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর, হুগলি, হাওড়া, ২৪ পরগণা, কলকাতা, খুলনা, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিং। এই ৮০টি কেন্দ্রে ৫৪ জন হিন্দু, ২১ জন মুসলিম, ৪ জন অ্যাংলো ইণ্ডিয়ান ও একজন খ্রীষ্টান বিধায়ক ছিলেন। বাংলার মোট জনসংখ্যার ৫৪ শতাংশ মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে ৪১.৫ শতাংশ তপশিল সম্প্রদায়েরই মানুষ ছিলেন। বর্ধমান ডিভিশনে তপশিলী মানুষ ৭৮.৯৭ শতাংশ ও মুসলিম ১৩.৯ শতাংশ। প্রেসিডেন্সি ডিভিশনে তপশিলী ৫৩.৭ শতাংশ ও মুসলিম ৪৪.৫৬ শতাংশ। রাজশাহী ডিভিশনে তপশিলী ৩০.৫১ শতাংশ ও মুসলিম ৬২.৫২ শতাংশ। ঢাকা ডিভিশনে তপশিলী ২৭.৭ শতাংশ ও মুসলিম ৭১.৬৯ শতাংশ। চট্টগ্রাম ডিভিশনে তপশিলী ২০.৭ শতাংশ ও মুসলিম ৭৫.৪ শতাংশ ছিলেন।
জানা মতে, ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দল কলকাতার সিঙ্ঘী পার্কে
অধিবেশন অনুষ্ঠিত করেছিলো। সেখানে দেশভাগের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিলো। যদিও বাংলাভাগের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে নি।

উল্লেখ্য, ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ১৯৪১ সালে বাংলার প্রধানমন্ত্রী এৎকে ফজলুর হকের লীগ মন্ত্রীসভায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন। যদিও তিনি পরবর্তীতে বাংলার গভর্ণর ফ্র্যাডরিখ বোরোজের সঙ্গে দেখা করে বাংলাভাগের দাবি জানান। ভাইসরয় মাউন্ট ব্যাটেন তখন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল ও আচার্য কৃপালিনী ছাড়াও মুসলিম লীগের মহম্মদ আলী জিন্নাহ, লিয়াকত আলী খান ও আব্দুল নিস্তার সহ শিখ সম্প্রদায়ের বলদেব সিঙের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। অথচ সেখানে বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকর ও যোগেন্দ্র নারায়ণ মণ্ডল কে তপশিলী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের জন্য ডাকা হয় নি। ওই সভায় গণতান্ত্রিক ভাবে বাংলা ভাগের সিদ্ধান্ত নিতে আর্জি জানান উপস্থিত নেতারা। সিদ্ধান্ত মতে, হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলেকায় হিন্দু নেতা ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলেকায় মুসলিম নেতারা নিজ নিজ বিধায়ক দের নিয়ে আলোচনা মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। হিন্দু অধ্যুষিত এগারোটি জেলার সভায় পৌরহিত্য করেন বর্ধমানের মহারাজা উদয়চাঁন্দ মাহতাব এবং  করেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, মুকুন্দ  মল্লিক, রতনলাল ব্রাহ্মণ ও জ্যোতি বসু। মুসলিমের সভায় অংশগ্রহণ করেন এইচ এস সুরাবর্দী, এম এ ইস্পাহনী, আব্দুল হুসেন, আব্দুল রহমান ও মোশারফ হুসেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত মতে মুসলিম বিধায়ক ১৪১ জনের মধ্যে বাংলা ভাগের পক্ষে ৩৫ জন ও বিপক্ষে ১০৬ জন ভোট দিয়েছেন। ওদিকে, হিন্দু বিধায়ক ৭৯ জনের মধ্যে ৫৮ জন বাংলা ভাগের পক্ষে এবং ২১ 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.