মণিপুরের শান্তি ফিরিয়ে আনার দাবী শিলচর এর 19 টি সংগঠন এর
নয়া ঠাহর গতকাল শিলচরের সার্কিট হাউস রোডের একটি বিবাহ বাসরে সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে মণিপুরে শান্তি, সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানায় কাছাড় জেলার ১৯ টি সংগঠনের যৌথ মঞ্চ। মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক সাধন পুরকায়স্হ শুরুতেই বলেন যে মণিপুরের সর্বস্তরের জনগণের কাছে বরাক উপত্যকার নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনার আবেদন জানানোর জন্যই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন আলাপ, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করতে হবে। সি আর পি সি'র উপদেষ্টা প্রাক্তন উপাচার্য ড. তপোধীর ভট্টাচার্য বলেন মণিপুরের জনগণকে সর্বাবস্তায় শান্তি, সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিদিন ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষের শিকার হবেন জনগণ তা সভ্য সমাজের মানুষ মেনে নিতে পারে না। আজ মণিপুরের মায়েরা সন্তানহারা, সন্তানেরা পিতৃ মাতৃ হারা, স্ত্রীরা স্মামীহারা হচ্ছেন। আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে শুধু আর্তনাদ, কান্না। এভাবে দিনের পর দিন চলবে কেন? যুক্তরাষ্টীয় পরিকাঠামোর সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতার মধ্যে থেকেই কেন্দ্র সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরি। তিনি বলেন একটি সভ্য রাষ্ট্রের শাসকরা মানবতা ভূলুন্ঠিত হতে দেখেও চুপ থাকতে পারে না। তপোধীর ভট্টাচার্য শান্তি ফিরে আসার পর সমস্ত ঘটনার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে দিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করানোর দাবি জানান। বিডিএফ এর আহ্বায়ক প্রদীপ দত্ত রায় বলেন মণিপুরের সংঘর্ষের পেছনে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত জড়িত থাকতে পারে। তাই এন আই এ দিয়ে তদন্ত করা দরকার। তবে সর্বাবস্তায় শান্তি, সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে হবে। সি আর পি সি সি'র উপদেষ্টা প্রাক্তন অধ্যাপক নিরঞ্জন দত্ত বলেন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান হয়। নিরীহ মানুষের হত্যা সমাধানের পথ নয়। তাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমাধানের পথ কেন্দ্র সরকারকে খুঁজতে হবে এবং মনিপুরে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রাক্তন বিধায়ক আতাউর রহমান মাঝারভূঁইয়া বলেন মণিপুরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা খুব জরুরি। কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের যৌথ উদ্যোগে তা করতে হবে। বিনা বিচারে হত্যা সুস্থ স্বাভাবিক সমাজের পরিপন্থী। পূর্বাঞ্চল সুরক্ষা মঞ্চের আহ্বায়ক ঋষিকেশ দে বলেন মণিপুরের শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকার ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ জরুরি হয়ে পড়বে। কিন্তু কোন অবস্থায় নরহত্যা চলতে পারে না। হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন এর সভাপতি সিহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন মণিপুরের শান্তি ফিরিয়ে আনতে মানবিক আবেদন জানানো খুব জরুরি। পাশাপাশি আশ্রয় শিবিরে থাকা মণিপুরের জনগণের সাহায্যে এগিয়ে আসা উচিত সবার। সাধন পুরকায়স্হ সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে জানান ১৯ টি সংগঠনের যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে ভারতের রাষ্ট্রপতির নিকট মণিপুরের শান্তি ফিরিয়ে আনতে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্ৰহণের দাবি জানিয়ে স্মারকপত্র প্রদান করা হবে। পাশাপাশি শান্তির বার্তা পাঠাতে একটি শান্তি মিছিল করা যায় কি না তা নিয়েও ভাবনা চলছে। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জনজাগরণ মঞ্চের সভাপতি মৃন্ময় নাথ, শিলচর নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রাক্তন পৌরকমিশনার অতনু ভট্টাচার্য, আনন্দধারার সহ সভাপতি তপন রায় বর্মন, ১৯ শে মে উদযাপন কমিটির সভাপতি নিশা শর্মা, ইন্টারন্যাশনেল হিউম্যান রাইটস অ্যাসোসিয়েশন'র আহ্বায়ক আজমল হুসেন চৌধুরী, ভাষা আইন সুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল ভট্টাচার্য, এবসো'র কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র দাস, বরাক উপত্যকার আহ্বায়ক অজিত দাস, কাছাড় জেলা সম্পাদক রাজীব দাস, বিডিওয়াইএফ এর আহ্বায়ক কল্পার্ণব গুপ্ত, জয়দীপ ভট্টাচার্য ও সমাজকর্মী গোপাল ভট্টাচার্য, হিন্দি ভাষী ছাত্র পরিষদের দিলীপ সিং প্রমুখ।
সংবাদদাতা
সাধন পুরকায়স্হ








কোন মন্তব্য নেই