অসম নাগরিক মঞ্চের প্রধানমন্ত্রী কে খোলা চিঠি
ভারতবর্ষের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রীযুত নরেন্দ্র মোদির , নিম্নে প্রকাশিত সংবাদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য খোলা চিঠি।
মাননীয় মহাশয়,
আমাদের অহংকার আমরা বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতবর্ষের জন্ম সূত্রে নাগরিক।"দিবে আর নিবে/ মিলাবে মিলিবে যাবেনা ফিরে /এই ভারতের মহামানবের সাগর তীরে।"এই বাণী দেশ মাতৃকার অন্তরের আহ্বান।এই পবিত্র মাটিতে"শক হুন পাঠান মোগল এক দেহে হলো লীন।" "নানা জাতি উপ জাতি রহনিয়া এই কৃষ্টি"ই ভারতীয় কৃষ্টি।আসামকে যদি বলা হয় "সূর্য উঠার দেশ"তাহলে মনিপুর হলো সূর্যের ঘুম ভাঙিয়ে জাগিয়ে দেবার দেশ।মহাভারতে এই দেশের শৌর্য্ বীর্যের গুণগাথা স্বর্ণাক্ষরে গ্রন্থিত আছে।
হে পূজ্যপাদ,
সৌন্দর্যের রম্য ভূমি মনিপুরে সদা ধ্বনিত হয় বৈষ্ণব আন্দোলনের সুমধুর ধ্বনি "হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।" ভারতবর্ষের পূর্বসীমান্তের অন্তিম রাজ্য মনিপুর আজ অশান্ত।ভাই ভাইয়ের রক্তে আদিম যুগের মতো রক্ত হোলিতে মত্ত।মাসাধিককাল যাবত জ্বলছে মনিপুর।আপনার সরকারের তথ্য বলছে বৈষ্ণব ধর্মীয় মনিপুর রাজ্যে এই গ্রহের অন্যতম প্রাণী,জীবশ্রেষ্ঠ মানুষ শতাধিক হত, আহত শত শত।গৃহহীন হাজার হাজার, আছেন অন্যের আশ্রয়ে ,শরণার্থী।বাঁচার আশায়, শান্তির আশায় আপনার মুখাপেক্ষী।গতকাল আপনি আপনার "মন কি বাত" বেতারে শোনালেন।মণিপুরীরা ভেবেছিল অগ্নিবর্ষিত ও লোহিতস্নাত ,অহর্নিশ অশান্তিতে জর্জরিত মণিপুরিদের কান্না থামাতে ,ক্ষত স্থানে আপনার মন কি বাত শান্তির প্রলেপ লাগাবে।কিন্তু, দুঃখের বিষয় আপনার মন কি বাতে মনিপুর উপেক্ষিত।যা মণিপুরীরা মেনে নিতে পারলো না।তাইত তাঁরা ক্ষেপে গিয়ে শুধু যে মন কি বাত অনুষ্ঠান লণ্ডভণ্ড করল তা নয়, বাক ময় নির্বাক যন্ত্রটিও ভেঙ্গে চুরমার করলো,রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ জানালো, আমাদের মনেও লাগলো।আপনার শক্তিশালী গোয়েন্দা বিভাগ কি সে খবর আপনকে দিয়েছে?সত্যি কি তাঁদের কান্না আপনি শুনতে পান নি, না কি হিংসার উন্মত্ততা আপনার হৃদয় কে স্পর্শ করতে পারে নি?আপনি কি পাষাণ?
মহাশয়,
শুনেছি, রোম নগর যখন জ্বলছিল তখন রোমের প্রশাসক নীরু একাগ্র মনে পিয়ানো বাজাচ্ছিলেন।আপনি নিশ্চয় নীরুর আধুনিক সংস্করন নন?না হলে কেন মণিপুরের কান্নায় আপনি নির্বাক? মনিপুর রাজ্যে আপনার আদর্শে বিশ্বাসী, অনুগত জনেরাইতো রাজপাটে বিরাজমান।
মহাশয়,
রাজনীতি/শাসন কার্যে আবেগ যদি অগ্রাধিকার পায় তাহলে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।উত্তর পূর্বাঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী, হিংসাত্মক কার্যকলাপ নতুন কিছু নয় , স্বাধীনতা প্রাপ্তির অঙ্গের ভূষণ হয়েই তারা এসেছে।তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে জনগণকে উন্নয়নের স্বাদ-স্বাধীনতার অমৃত পরিবেশন গণতান্ত্রিক শাসকের কর্তব্য।এই কর্তব্য সুচারুভাবে পালন করতেই জন্ম দেয়া হয়েছিল ASPA।প্রয়োগ হয়েছিল মনিপুর সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যে ।সেদিন পর্যন্ত মণিপুরে প্রচলিত ছিল।বিজেপি কে প্রথম ক্ষমতার স্বাদ পাইয়ে দেয়া ,সর্বজন শ্রদ্ধেয় জননেতা, বিজেপির প্রাণ প্ৰতিষ্ঠাপক ,ভারতরত্ন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী মহাশয়ও আইনটি প্রত্যাহার করেন নি।জন্মলগ্ন থেকেই আইনটির তীব্র বিরোধিতা চলছিল সমগ্র দেশে, বিশেষ করে উত্তর পূর্বাঞ্চলে।কিন্তু আবেগ ও দলীয় রাজনীতির উর্দ্ধে দেশ দেশের অখণ্ডতা এবং একে রক্ষার সাংবিধানিক শপথকে সম্মান প্রদর্শন করতে আপনার অগ্রজ কেউই এই আইনটি প্রত্যাহার করেন নি।এমনকি বাজপেয়ী মহাশয়ও না।আইনটির প্ৰয়োজনীয়তা নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাননীয় অমিত শাহ উপলব্ধি করতে না পারলেও আপনি নিশ্চয় উপলব্ধি করছেন।মনিপুর থেকেই দাবী উঠছে যে স্থায়ী শান্তির জন্য বেসামরিক সরকারের জায়গায় সামরিক শাসন বলবৎ হো'ক।কারন, মানুষ মাত্রই শান্তির পূজারি।
তাই, আমার অনুরোধ অশান্ত মণিপুরে রক্তের হোলি, অগ্নিসংযোগ বন্ধ করে শান্তির সলিল ধরা বইয়ে দিতে বিবাদমান গোষ্ঠী গুলোর সাথে কথা বলুন।আবেগ, রাজনীতির ক্ষুদ্র স্বার্থকে ত্যাগ করুন। মনে রাখবেন দেশের চেয়ে রাজনীতি বড় নয়।আসাম গৌরব লাচিতের উক্তি,"দেশতকৈ মোমাই ডাঙৰ নহয়। "এই উক্তি কে পাথেয় করে এগিয়ে আসুন মণিপুরে।মনিপুর চায় আপনার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ।মনে রাখবেন সফলতার ভাগ সকলেই দাবি করে কিন্তু ব্যর্থতার দায়-শুধু রাজার,তাই নয় কি?
জয় হিন্দ।
ইতি
বিজয় চক্রবর্তী।
সাধারন সম্পাদক
অসম নাগরিক মঞ্চ।








কোন মন্তব্য নেই