তিপ্রামাথার প্রধান বাঙালি বিরোধী উস্কানি মূলক বক্তব্য "আমরা বাঙালি "নিন্দা করে
আবুল কালাম বাহার,শিলচর: অসমের জাতীয় পরিষদের আমন্ত্রণে গুয়াহাটি এসে ত্রিপুরার তিপ্রামথার প্রধান প্রদ্যোৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মার উস্কানি ও প্ররোচনা মূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন এবং বিরোধিতা জানায় আমরা বাঙালী দল ।
দলের অসম রাজ্য কমিটির সচিব সাধন পুরকায়স্থ এক প্রেস বিবৃতিতে জানান, কে প্রদ্যোৎ বিক্রম দেববর্মা ? অসমের গুয়াহাটিতে এসে অসমের বসবাসকারী মানুষদের মধ্যে সঙ্ঘাত তৈরী করতে উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখলেন। উনি বলেছেন, ত্রিপুরা নাকি বাঙালীরা দখল করে নিয়েছে! অসমের ভূমিপুত্ররা ঐক্যবদ্ধ না হলে অসম ত্রিপুরা হয়ে যাবে ।
দেববর্মার ইতিহাস সম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই । ত্রিপুরার নাম একদিন শ্রীভূমি ছিল । এটি চিরকাল বাঙলার অঞ্চলের ,বাঙালীদের আদি বাসভূমি । আজ থেকে পাঁচশত বছর পূর্বে মুচাংফার নেতৃত্বে ব্রহ্মদেশ থেকে ত্রিপ্রারা বর্তমান ত্রিপুরার পাহাড়ী অঞ্চলে বসবাস শুরু করেছিল । তাতে কি তারা এই অঞ্চলের আদি বাসিন্দা হয়ে গেল ? আর বাঙালী যারা এই ভারতবর্ষের ভূমিপুত্র। তারা তাদের ঘোষণা মতে বহিরাগত হয়ে গেল ? অসমে এসে বাঙালী বিদ্বেষী "সারা অসম ছাত্র সংস্থা" (আসু) র দ্বারা গঠিত রাজনৈতিক দল অসম জাতীয় পরিষদের সঙ্গে মিতালী করে বাঙালী বিদ্বেষী কার্যকলাপকে উস্কানি দিয়ে গেলেন । "আমরা বাঙালী" অসম রাজ্য কমিটি তার তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাচ্ছে ।
আসলে উত্তর পূর্ব ভারতের সাত রাজ্য থেকে বাঙালীদের উৎখাত করার ইহা এক সুগভীর ষড়যন্ত্র । আজ যারা ভূমিপুত্র স্লোগান দিচ্ছেন , তাদের কাছে আমার প্রশ্ন- তবে কেন অসম ভেঙে মিজোরাম, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ তৈরী হল। তখন তাদের খিলঞ্জিয়া ঐক্য কোথায় গেল ? আজ কেন ঐসব রাজ্যের সঙ্গে অসমের সীমা বিরোধ চলছে ?
আজ যারা উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বাঙালীদের তাড়িয়ে দিতে চাইছে । তাদের জানা উচিৎ বাঙালীরা বহিরাগত নয়,বাঙালীরা এই মাটির সন্তান । ইতিহাস ঘাঁটলেই জানা যায় ত্রিপুরার রাজ ইতিকথা 'রাজমালা' বাংলা ভাষার রচিত । যারা নিজেদের ভূমিপুত্র বলছেন, তারা তাদের জনগোষ্ঠীর অতীতের ইতিহাস জানলেই বুঝতে পারবে কারা ভূমিপুত্র ।
বাঙালী উত্তর-পূর্ব ভারতের ব্রিটিশের তৈরী অসম প্রদেশ। পরবর্তী কালে মেঘালয় ও ত্রিপুরা রাজ্যের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে । সেই অবদানের কথা ঐসব জাতীয়তাবাদীদের স্বীকার করা উচিৎ । তা না করে শুধু বিদ্বেষ ছড়িয়ে সঙ্ঘাত তৈরী করা যায় । প্রকৃত অর্থে কোন জনগোষ্ঠীর কল্যাণ হবে না । এদিকে প্রদ্যোৎ দেববর্মা ত্রিপুরায় ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের শ্রষ্ঠা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিবেকানন্দ ও ক্ষুদিরামের মূর্তি নিয়ে কটাক্ষ করেছেন । তার এই জাতীয়তা ও দেশ বিরোধী বক্তব্যের তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি । যারা জাতীয় নেতৃত্বের অবমূল্যায়ন করে তারা দেশ বিরোধী এবং দেশ বিরোধী শক্তির সাথে তাদের যোগসাজশ আছে বলে আমরা মনে করি। তাই তিপ্রাল্যান্ডের দাবীদার প্রদ্যোৎ দেববর্মা বা অসম জাতীয় পরিষদ ও তাদের দোসররা বিদ্বেষ পরিহার করুন । তা না হলে উত্তর পূর্বে বসবাসকারী বাঙালীরাও নীরব দর্শক হয়ে বসে থাকবে না । যোগ্য জবাব দিতে যে ধরনের আন্দোলন প্রয়োজন তা করতে "আমরা বাঙালী" পিছপা হবে না । দেববর্মা বলছেন আসুর সঙ্গে মিলিত ভাবে "ক্যা" বিরোধী আন্দোলন করবে । এই ক্যা বিরোধী আন্দোলন আসলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য গুলি থেকে বাঙালী উৎখাতের আন্দোলনে পরিণত হয়ে যাবে। "আমরা বাঙালী " দল উত্তর পূর্বে বসবাসকারী আপামর বাঙালী সমাজকে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাখছে।








কোন মন্তব্য নেই