অসত্য উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকুন ত্রিপুরার তিপ্রা দল নেতাকে সতর্ক করল বরাক ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট
অসত্য ও উস্কানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকতে তিপ্রা দলনেতা প্রদ্যোত বিক্রমকে সতর্ক করল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
সম্প্রতি আসাম জাতীয় পরিষদের কর্মীসভায় তিপ্রা দলনেতা প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য বলেছেন যে অসমিয়াদের অবিলম্বে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে অন্যথা আসাম দ্বিতীয় ত্রিপুরা হবে। তার এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আগামীতে এই ধরণের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
এক প্রেস বার্তায় বিডিএফ এর মূখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে প্রদ্যোত বিক্রমের বক্তব্য সম্পূর্ণ অসত্য ও উত্তরপূর্বের উপজাতিদের বাঙালিদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে দেবার চক্রান্তে নিয়োজিত। তিনি বলেন যে প্রদ্যোত যে পূর্বপুরুষের বংশধর সেই রাধা কিশোর মানিক্য,বীরেন্দ্র কিশোর মানিক্য,বীর বিক্রম মানিক্য সবাই কিন্তু বাঙালিদের অন্তর দিয়ে ভালোবাসতেন। ত্রিপুরার এই মহারাজারাই বাংলাকে ত্রিপুরার সরকারি ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্যের পিতামহ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথকে 'ভারত ভাস্কর' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন এবং বিশিষ্ট বিজ্ঞানী আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র বসুকে গবেষনার স্বার্থে অর্থসাহায্য করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের সাথে ত্রিপুরার আত্মিক সম্পর্ক ছিল। ত্রিপুরার নীরমহল, কুঞ্জবন,মালঞ্চনিবাস ইত্যাদি নামকরণ কবিসৃষ্ট। তাদের আমলে বাঙালি ও ত্রিপুরার উপজাতিদের মধ্যে কোন বিভেদ সৃষ্টি হয়নি।একই পরিবারের ছেলে হয়ে প্রদ্যোত যেভাবে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেছেন তা দুর্ভাগ্যজনক।
প্রদীপ বাবু বলেন যে প্রদ্যোত একটু ইতিহাস ঘাঁটলে বুঝতে পারবেন যে স্বাধীনতার আগে ত্রিপুরার আয়তন শুধু বর্তমান ত্রিপুরার পার্বত্য অঞ্চলে সীমাবদ্ধ ছিলনা। 'চাকলা রোশানাবাদ' নামক এক বিস্তীর্ণ সমতল অঞ্চলও ত্রিপুরা রাজার অধীন ছিল যার মূল অধিবাসীরা ছিলেন বঙ্গভাষী কারণ তৎকালীন ত্রিপুরার শাসকরা কৃষিকর্মের উন্নতির জন্য বাঙালি মুসলমান ও আমলাতন্ত্র চালানোর জন্য বাঙালি হিন্দুদের এই অঞ্চলে আমন্ত্রণ করে প্রতিস্থাপন করেছিলেন। পরে সমৃদ্ধ অঞ্চল বলে বৃটিশরা এটি দখল করে 'তিপ্পেরা'জেলা গঠন করে এবং দেশভাগের সময় নিঃশব্দে এই সমগ্র অঞ্চল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে দিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু একমাত্র ত্রিপুরার রাজার প্রতি আনুগত্যের জন্যই এই অঞ্চলের বাঙালিরা বর্তমান পার্বত্য ত্রিপুরায় আশ্রয় নেন যার পৃষ্ঠপোষকতা করেছিলেন প্রদ্যোত বিক্রমের পুর্বপুরুষ ত্রিপুরার রাজপরিবার। কাজেই বাঙালিরা মোটেই ত্রিপুরায় উড়ে এসে জুড়ে বসেননি তাঁরা প্রথম থেকেই এই রাজ্যের নাগরিক ছিলেন এবং ত্রিপুরায় প্রথম থেকেই উপজাতিরা সংখ্যালঘু ছিল।
প্রদীপ বাবু আরো বলেন যে ত্রিপুরায় তিপ্রা উপজাতি ও বাঙ্গালি এই দুটিই প্রধান ভাষিক গোষ্ঠী রয়েছেন যেখানে আসামে অহোম, কছারী,বড়ো,ডিমাসা,কোচ,রাজবংশী সহ বিভিন্ন উপজাতি রয়েছেন ও রাজ্যের এককোটি বাঙালাভাষীদের সাথে কয়েক দশক ধরে মিলেমিশে বসবাস করছেন। কখনোই তাদের মধ্যে সেরকম সংঘাত হয়নি। প্রদ্যোত এইসব মন্তব্য করে উপজাতি ও বাঙালিদের মধ্যে চূড়ান্ত বিভেদের বীজ বপন করতে উদ্যোগ নিচ্ছেন যা কোন অবস্থায় মেনে নেবেনা বিডিএফ।
বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক আরো বলেন যে প্রদ্যোত বিক্রম মানিক্য একদিকে যেমন আসামে এসে উস্কানি দিচ্ছেন তেমনি ত্রিপুরায়ও উপজাতি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘাত বাঁধিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন। প্রদীপ বাবু এদিন ত্রিপুরার উপজাতিভুক্ত সাধারন নাগরিকদের তার ফাঁদে পা না দিয়ে ত্রিপুরার উন্নয়ন ও শান্তিকে প্রাধান্য দেবার অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রদীপ বাবু এই প্রসঙ্গে আরো বলেন যে প্রদ্যোত একদিকে বাঙালি বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন ,অন্যদিকে তৃনমূল কংগ্রেসের সাথে জোট করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে দলটির জন্ম পশ্চিম বঙ্গে এবং যার অধিকাংশ সদস্যই বঙ্গভাষী। এর থেকেই প্রদ্যোতের দ্বিচারিতার প্রমান পাওয়া যায় এবং এটা জলের মতো পরিস্কার যে তার এইসব মন্তব্যে কোন গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধিই তার একমাত্র উদ্দেশ্য। তাই এসব থেকে আগামীতে বিরত থাকতে তাকে সতর্ক করছে বিডিএফ।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে ও জয়দীপ ভট্টাচার্য।








কোন মন্তব্য নেই