শৃঙ্খল চালিয়া সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর মনো ভাব পক্ষপাত দোষে দুষ্ট: বি ডি এফ
শিলচর :শৃঙ্খল চালিহা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর মনোভাব পক্ষপাত দোষে দুষ্ট,রাজ্যের এক কোটি বাঙালি বাকিটা বিচার করবেন - এই বক্তব্য বিডিএফের।
গতকাল শৃঙ্খল চালিহা সম্বন্ধে সাংবাদিক দের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যকে গুরুত্ব না দিতে বলেছেন এবং গীতার উদ্ধৃতি দিয়েছেন। এই ব্যাপারে আজ প্রতিক্রিয়া জানাল বরাক ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট।
এক প্রেসবার্তায় ফ্রন্টের মূখ্য আহ্বায়ক প্রদীপ দত্তরায় বলেন যে শৃঙ্খল চালিহা ও আরো কিছু সহযোগী সংগঠন গত কয়েকদিন ধরে যেসব মন্তব্য করেছেন তা শুধু বাঙালিদের পক্ষে চূড়ান্ত অপমানজনকই নয় এসব জাতিবিদ্বেষপ্রসূত ও সাম্প্রদায়িক । তাদের গুরুত্ব না দেওয়া অবশ্যই উচিত , কিন্তু সরকারি তরফে তাকে গ্রেফতার করা অবশ্যকর্তব্য ছিল। কিন্তু দেখা গেল তিনি অনায়াসে জামিন পেয়ে গেলেন। তিনি বলেন মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারছেন না যে এভাবে যে 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' কে তৈরি করা হচ্ছে সে ভবিষ্যতে রাজ্যে আরো সংঘাতের কারণ হতে পারে ও এদের দ্বারা ভবিষ্যতেও রাজ্যের শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। তিনি বলেন যে এদের কর্মকাণ্ডকে যদি পাত্তা নাই দিতে হয় তবে গতবছর তাকে কেন গ্রেফতার করা হল ? কেনই বা নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে আন্দোলনের সময় অখিল গগৈকে গ্রেফতার করে একবছর ধরে জেলে আটকে রাখা হল ? তাঁকেও তো সরকার গুরুত্ব না দিলেই পারতেন।
প্রদীপ বাবু এদিন বলেন যে আমি অসমিয়া বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে রাজ্যের পুরো অসমিয়া সমাজকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি যে তাঁরা এসব সাম্প্রদায়িক মন্তব্যে প্ররোচিত না হয়ে রাজ্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বাতাবরণকে অটুট রেখেছেন,এমনকি কেউ কেউ প্রকাশ্যে এইসব উগ্র মন্তব্যের বিরোধীতা করে বাঙালিদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এর ফলে এইসব যুবকদের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।এর থেকে একটা কথা প্রমানিত - যে উগ্র জাতীয়তাবাদকে পুঁজি করে এতদিন ধরে আসামের রাজনীতি চালিত হয়েছে তার প্রভাব এখন অনেকটাই স্তিমিত।এখনো যতটা আছে ধীরে ধীরে তাও অন্তর্হিত হবে কারণ মানুষ এখন এসব থেকে উন্নয়নকে অনেক বেশি গুরুত্ব দেন ।প্রদীপ বাবু বলেন এই রাজ্যের সাধারণ অসমিয়া ও বাঙালিদের মধ্যে কোন বিভেদ নেই, উভয় সম্প্রদায়ের অনেকেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। শিবসাগরের 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' এর জ্ঞাতার্থে তিনি বলেন যে পশ্চিমবঙ্গে 'ক্যালকাটা অসমিয়া সমাজ ' নামে একটি অসমিয়া সংগঠন বহুদিন ধরে কাজ করে আসছেন। কোলকাতার নিউটাউনে ৩০০০ অসমিয়াভাষী একসাথে বসবাস করছেন,কোলকাতায় চুটিয়ে ব্যাবসা করছেন প্রায় একশ অসমিয়া ব্যাবসায়ী। প্রদীপবাবুর প্রশ্ন যারা এইসব বাঙালি বিদ্বেষী মন্তব্য করছেন তাঁরা কি এমন একটি উদাহরণ দেখাতে পারবেন যে শুধু অসমিয়া হবার দায়ে পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের কোথাও তেমন একজনকেও হেনস্থা করা হয়েছে ?
বিডিএফ মুখ্য আহ্বায়ক এদিন আরো বলেন যে সংবাদ মাধ্যম সূত্রে আমরা জানতে পারলাম যে বিজেপির বরাকের বিধায়ক ও সাংসদরা এই সব উগ্র জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন বিডিএফ তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার জন্যই তারা দেরীতে হলেও এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং সেই অর্থে বিডিএফ এর এই আন্দোলন সফল।
প্রদীপ বাবু বলেন যে এই ইস্যুতে বরাক ব্রহ্মপুত্র নির্বিশেষে যেভাবে বাঙালিরা একজোট হয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তা অভিনন্দন যোগ্য। তিনি বলেন যে এইসব অর্বাচীনদের আর গুরুত্ব দিয়ে 'হিরো' বানাবার কোন মানে হয়না তবে সরকারি অবস্থান থেকে রাজ্যের বাঙালিরা মোটেই সন্তষ্ঠ নন। তিনি বলেন আগামীতে এন আর সি,খিলঞ্জিয়াদের জন্য ভূমি আইন সহ বিভিন্ন বঞ্চনার প্রতিবাদে রাজ্যের বাঙালিদের একইভাবে প্রতিবাদ করতে হবে। তারজন্য এখন থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া ও শক্তি সঞ্চয় করা অবশ্যকর্তব্য।
বিডিএফ মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এক প্রেসবার্তায় এই খবর জানিয়েছেন আহ্বায়ক হৃষীকেশ দে ও জয়দীপ ভট্টাচার্য।









কোন মন্তব্য নেই