Header Ads

পেপার মিলের কর্মচারীদের উচ্ছেদ ১৫ দিনের মধ্যে, কোয়ার্টার ছেড়ে দিতে হবে নতুবা শাস্তি


অমল গুপ্ত : হিন্দুস্থান পেপার করপোরেশনের অধীন  অসমে কাছাড় ও  নওগাঁ পেপার  দুটি বন্ধ,মিলের কর্মচারীরা  ৫ বছরের বেশি সময় থেকে বেতন পাচ্ছেন না। ৯১ জন বিনা বেতনে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। ৪ জন আত্মহত্যা করেছেন। এখন ১৫ দিনের নোটিশে তাদের উচ্ছেদ করার নির্দেশ এল। মিল দুটিতে বয়লার ব্যবহার করলে বিদ্যুত উৎপাদন সম্ভব, মজুত কয়লা  ও অন্যান্য কাঁচা মাল বিক্রি করে কয়েক লাখ টাকা পাওয়া যেত।দুটি পেপার মিলের জমির পরিমাণ কয়েক শো কোটি টাকা, এইচ পি সি-র অধীনে গুয়াহাটি, দিল্লি মুম্বাই প্রভৃতি এলাকায় বিশাল সম্পত্তির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে পেপার মিলের যৌথ ইউনিয়নের হিসাব। অসম, ত্রিপুরা ,মিজোরাম এ যে পরিমান বাঁশ সম্পদ আছে তা ১০০ বছরেও শেষ হবে না। দুটি মিলের হাজার তিনেক কর্মচারিকে তাড়িয়ে না দিয়ে তাদের হাতে যদি এই বিশাল সম্পত্তি তুলে দেওয়া হত সরকার মনিটরিং করতো। তবে অসমের অর্থনীতি চাঙ্গা হত।তাদের  যন্ত্রণাকে বাড়িয়ে চোখের জল  ভিজিয়ে উচ্ছেদ করার প্রয়োজন পড়তো না।  তাদের ১৫ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।এই পাঁচ বছরে  গুয়াহাটি আমিনগাঁও এ  কন্টেনার  স্টেশনে  বাইরের রাষ্ট্র থেকে কত লক্ষ মেট্রিক টন নিউজ প্রিন্ট  এসেছে। তার দাম কত জানেন ? অসমের পেপার মিল দুটি দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো গুণমান সম্পন্ন  নিউজ প্রিন্ট  উৎপাদন করতো। সবচেযে  কম দামে বিক্রি করতো।আর বিদেশ থেকে  আমদানি করা নিউজ প্রিন্ট তিন চার গুণ বেশি টাকা দিয়ে কিনছে ।সরকারের নিযুক্ত   মধ্যভোগী রা বিশাল টাকার   কমিশন নিয়ে  এই নিউজ প্রিন্ট আমদানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।তার তদন্ত করার  সাহস সরকারের আছে কি। অসমের বিশাল বাঁশ সম্পদের সিংহভাগ  ডিমা হাসাও ও কার্বি আংলং জেলাতে উৎপাদিত হয়। এই  সম্পদকে ব্যবহার করলে ভালো নিউজ প্রিন্ট উৎপাদন করে  বিদেশে রপ্তানি করতে পারতো সরকার। "লোকাল  ইজ ভোকাল " বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  বার্তা দিচ্ছেন।তবে অসমের লোকাল কে অবজ্ঞা করে বাইরের রাষ্ট্র থেকে কাগজ আমদানি করা হচ্ছে কেন?এর জবাব নেই।সরকার গত পাঁচ বছর এত মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন তা এক কাট্টা করলে  কয়েক লাখ  সেন্টিমিটার কাগজ উৎপাদন করা যেত।  ন্যাশনাল  কোম্পানি অফ  ল ট্রাইব্যুনাল এর নিযুক্ত লিকুইডেটর  কুলদীপ ভার্মা পেপার মিলের সব কর্মীকে ১৫ দিনের মধ্যে তাদের কোয়ার্টার ছেড়ে দেবার নির্দেশ  দিয়েছেন। না করলে তাদের আইনি   শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে  সতর্ক করে দিয়েছেন। পেপার মিল দুটির শ্রমিক সংগঠন  এই  ঘর ছাড়ার নির্দেশ মানবে না। তাদের সন্দেহ এই মিল দুটির বিশাল সম্পত্তি, এইচ পি সির প্রায় হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি, বিদেশ থেকে  আমদানি করা  নিউজ প্রিন্ট নিয়ে বিশাল দুর্নীতি হয়েছে তা তদন্ত করতে হবে।চালু কারখানা কেন বন্ধ করা হল।সব উপযুক্ত তদন্ত করতে হবে।সুপ্রিমকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত করাতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.