আজ থেকে পুরীর জগন্নাথ দেব ১৪ দিনের ক্যরেন্টিনে, জ্বর হয়েছে তাই, কামাখ্যা মা ও অন্তরালে আছেন
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : পুরীর জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা ছিল আজ। ১০৮ কলসি মাথায় জল ঢালা হয়েছে। স্নান যাত্রার পর দেবতা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এখন একশোর বেশি পদ, পায়েস, মিষ্টি দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। আজ থেকে তা বন্ধ প্রথম চারদিন শুধুই ফল, তারপর দুদিন পাঁচন, শেষ সাতদিন "অগগোরা" অর্থাৎ অন্ন পথ্য। এই সব পথ্যে সুস্থ হয়ে উঠবেন জগন্নাথ দেব। তারপর দর্শন দেবেন রথ যাত্রায়। আজ থেকে পুরিতে উৎসবের মেজাজ শুরু হয়ে গেছে। করোনা অতিমারি পৃথিবীর অসুখ চলছে বছর দুয়েক থেকে। এর মধ্যে জগন্নাথ দেবও আজ থেকে ১৪ দিনের জন্য অসুস্থ হয়ে পড়লেন। মাথায় কলসি দুধ, জল ঢালাই ঠান্ডা লেগে গেছে। ডাক্তারদের পরামর্শে ১৪ দিন একা থাকবেন কোন ভক্ত দর্শন করতে পারবেন না। সুপ্রাচীন কালের প্রথা মেনে জগন্নাথ দেব আজ থেকে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন আর কবিরাজি পাঁচন খাবেন। এদিকে অসমেও কামাখ্যা দেবীও ঋতুমতী হয়ে মন্দিরের অন্তরালে চলে গেছেন। কোন ভক্ত মাকে দর্শন করতে পারবেন না। ২২ তারিখ থেকে অন্তরালে আছেন। মন্দিরের দ্বার বন্ধ। ২৬ তারিখ ভোর রাতে দরজা খুলবে। তবে সাধারণ দর্শকদের ঢোকার অনুমতি নেই। এবার অম্বুবাচি মেলা হল না। ৩০ জুন পর্যন্ত মন্দিরের দরজা বন্ধ, তারপর সাধারণ দর্শকরা মাকে দর্শন করতে পারবেন। করোনা উদ্ভুত জটিল পরিস্থিতির জন্যে কামখ্যা মন্দির বন্ধ করা হয়েছে। মন্দিরে পরিচালনা সমিতি দলই সমাজের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাইরের ভক্তরা চাইলে অনলাইনে মায়ের প্রসাদ ও রক্ত বস্ত্র পেতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ
করে উত্তর বঙ্গের লক্ষাধিক হিন্দু বিধবা মহিলা প্রতি বছর হাজার কষ্ট করেও অম্বুবাচী মেলাতে আসেন। এক বৃদ্ধা জানিয়েছিলেন, "জৈষ্ঠ মাসে আকাশের দিকে চেয়ে থাকি মেঘ জমেছে কি-না, মাথায় টিপ টিপ বৃষ্টি পড়লেই মন উথাল পাথাল করে, কামাখ্যা ধামের জন্য মন খারাপ করে। কবে যাবো, কি করেই বা যাবো, হাতে তো টাকা পয়সা নেই। রেল বাবুদের দয়া দক্ষিণ্যে বিনা টিকিটে, মানুষের লাঠি ঝাঁটা খেয়ে এক সময় কামাখ্যা মায়ের চরণে পৌঁছিয়ে যাই। এখানে পরম শান্তি, নতুন করে জীবন খুঁজে পাই। টাকা-পয়সা বিষয় সম্পত্তি সবই মিথ্যা মনে হয়। আর ফিরে যেতে ইচ্ছা হয় না।"










কোন মন্তব্য নেই