কড়া ব্যাবস্থা নিলে করোনার তৃতীয় ওয়েভ আটকানো সম্ভব : বিজ্ঞানী বিজয় রাঘবন
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : দেশে একদিনে নতুন করে ৪ লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশে আজ পর্যন্ত করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজারের বেশি। দেশে এক্টিভ কেস ৩,৬৪৫,১৫৪ জন, আরোগ্যের পথে ১৭,৬১২,৩৫ জন। ভ্যাকসিন নিয়েছে প্রায় ১৭ কোটি মানুষ। ভারত সরকারের বিজ্ঞান উপদেষ্টা বিজয় রাঘবন বলেছেন, সরকার যদি কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে মানুষ যদি কোভিড বিধি ভালোভাবে মেনে চলে তবে করোনার তৃতীয় ওয়েভ আটকানো সম্ভব। কোভ্যাক্সিন ও কোভিশিল্ড ছাড়াও রাশিয়ার স্পুটনিক লাইট সিঙ্গল ডোজ ভ্যাকসিন আসতে পারে। জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানি পূর্ব ভারতে সিঙ্গল ডোজ ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি পেয়েছে কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হবে বলে সংবাদসূত্রে জানা গেছে। এক ডোজেই কাজ হবে। জুনের প্রথম সপ্তাহে তা এসে যাবে। কেন্দ্রীয় সরকার বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন আমদানির সবুজ সংকেত দিয়েছে। দেশে আজও অক্সিজেন, আই সি ইউ বেড, করোনা বেড, রেমডিসিভির তীব্র আকাল চলছে। মৃত্যু মিছিল বন্ধ হয়নি। শ্মশানের চিতা দেশকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিদিন বৈঠক করে করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঘন ঘন বৈঠক করছেন। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল অসমে ২০টি রেল কোচকে ৩০০টি কোভিড অক্সিজেন বেড করে উপহার দিয়েছেন। তিনসুকিয়াতে তা রেডি করা হয়েছে।সুপ্রিমকোর্ট আজ আবার কড়া নির্দেশ দিয়ে দিল্লি সরকারকে ৭০০ মেট্রিক টন লিকুইড অক্সিজেন সরবরাহ করতে বলেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে এক জরুরি পত্র দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদিন ৫৫০ মেট্রিক টন অক্সিজেন দেবার জোরালো আর্জি জানিয়েছেন। দেশের সব রাজ্যকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেবার দাবি জানিয়েছে সুপ্রিমকোটের কাছে। অসমের রাজধানী নগরী গুয়াহাটি আজ হটবেডে পরিণত হয়েছে। চারটি জোনে কন্টেন্ট মেন্ট ঘোষণা করা হয়েছে। গত ৬ দিনে গুয়াহাটিতে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুয়াহাটি সহ মেট্রো জেলাতে ১৩০০০ আক্রান্ত হয়েছে। প্রতি ঘন্টায় ২
জনের প্রাণ যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা আজ গুয়াহাটিতে কোভিড সেন্টারগুলো ঘুরে দেখেন। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। কোভিড বিধি মানুন নতুবা লকডাউন আটকানো যাবে না। গুয়াহাটির পর ডিব্রুগরের অবস্থা জটিল হচ্ছে। জালানি ও মায়াজান চা বাগানের ৩০০ শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছে। নগাঁও জেলার পুরনিগুদাম চলচলি রঙ্গিয়ার প্রত্যন্তর গ্রামেও করোনা গ্রাস করেছে, কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষণা করতে হয়েছে। রাজ্যের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে, আজ থেকে ৩৮ থেকে ৪৪ বছর পর্যন্ত ভ্যাকসিন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন তা নিয়ে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তা চলছে। কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল না স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। শর্মার দক্ষতা বিচক্ষণ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না তার দিকে পাল্লা ভারি। সর্বানন্দ সনোওয়ালকে যদি বঞ্চিত করা হয় তার কারণ হবে সনোয়ালের মত সৎ ভাবমূর্তির মানুষ আর হয় না। দুর্নীতিমুক্ত এক ভদ্রলোক। নীতিহীন রাজনীতিতে, মূল্যবোধহীন রাজনীতির অঙ্গনে সর্বানন্দ বেমানান। এই ভালো মানুষের জন্যে হয় তো বা তাকে বাদ দেওয়া হতে পারে। তাকে কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সভায় এক পদ দেওয়ার গুঞ্জন চলছে। আর কয়েক ঘন্টার মধ্যে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।










কোন মন্তব্য নেই