ত্রিপুরায় আক্রান্ত মানিক সরকার সহ বাম বিধায়করা, নিন্দার ঝড়
বিপ্লব বৈদ্য, আগরতলা : আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের খোঁজখবর নিতে গিয়ে দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজারে বিজেপি কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হলেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার সহ বাম বিধায়করা। ত্রিপুরার গনতান্ত্রিক ইতিহাসে রচিত হল কালো দিন। এই ঘটনার খবর সঙ্গে সঙ্গেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃস্টি হয়। নিন্দার ঝড় উঠে বিভিন্ন মহলে। ঘটনা চলাকালীন সময়েই বাজারে আসা মানুষজন হামলাকারীদের গালিগালাজ শুরু করে। মানিক সরকার, বাদল চৌধুরীদের উপর আক্রমণের ঘটনায় লজ্জিত দলমত নির্বিশেষে শান্তিরবাজারের মানুষ। শান্তিরবাজারে মহকুমা সদর, জেলা হাসপাতাল করা সহ নানান উন্নয়নের কাজে মানিক বাদলদের অবদানের কথা তুলে মানুষ আক্রমণকারীদের নাম ধরে গালিগালাজ করছেন। সোমবার দুপুরে বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার, বিধায়ক বাদল চৌধুরী, সুধন দাস, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নারায়ণ কর, বাসুদেব মজুমদার, পরীক্ষিত মুড়াসিং সিপিআই নেতা সত্যজিত রিয়াং সহ বাম নেতা কর্মীরা খোঁজখবর নিতে যান আহত বাম কর্মীদের। গত ৫ মে বুধবার শান্তিরবাজারে কার্ল মার্কসের জন্মদিন ও তপশিলি জাতি সমন্বয় সমিতির প্রতিষ্ঠা দিবসের কর্মসূচীতে অংশ নেওয়ায় স্হানীয় সিপিআইএম নেতা সুকুমার মল্ল ও নরেন্দ্র দাসের হামলা ও ভাঙচুর চালায় স্হানীয় পরিচিত বিজেপও কর্মীরা। এদিন বাম পরিষদীয় দলের আসার খবর আগাম পেয়েই সকাল দশটার পর থেকে বিজেপির কিষাণ মোর্চার নেতা সত্যব্রত সাহা ও যুব মোর্চার নেতা সুমন দেবনাথের নেতৃত্বে শান্তিরবাজার মন্ডল অফিস ও শান্তিরবাজার কমিউনিটি হলে জড়ো হয় বিজেপি কর্মীরা । মানিক সরকার, বাদল চৌধুরীরা শান্তিরবাজার ঢোকার মুখে সুগার মিলে কালো পতাকা ও নানান প্লেকার্ড হাতে নিয়ে মানিক সরকার গো ব্যাক শ্লোগান তুলেন। বাম বিধায়কদের কনভয় বাম কর্মী নরেন্দ্র দাসের বাড়ির সামনে এসে থামে বেলা ১২টার পর। সেখানেও আগে থেকে জড়ো হওয়া বিজেপি কর্মীরা, মানিক সরকার গো ব্যাক শ্লোগান তুলেন। পুলিশ শ্লোগানরত বিজেপি কর্মীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। বিরোধী দলনেতা সহ বাম বিধায়ক ও নেতারা ঢুকেন নরেন্দ্র দাসের বাড়িতে। রাস্তায় উত্তেজিত বিজেপি কর্মীরাও নরেন্দ্র দাসের বাড়িতে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই শান্তিরবাজার
থানার ওসি সুব্রত চক্রবর্তী বিরোধী দলনেতা সহ বাম বিধায়কদের অন্য কোন বাড়িতে না গিয়ে ফিরে যেতে হাতজোড় করে অনুরোধ করেন। বাম নেতারা তাদের কর্মসূচিতে অনড় থাকতে চাইলেও পুলিশের অনুরোধে পরবর্তী কর্মসূচি বাতিল করে ফিরে আাসার সিদ্ধান্ত নেন। বিরোধী দলনেতা সহ বাম নেতারা বাড়ি থেকে রাস্তার দিকে আসতেই শুরু হয় ইট পাটকেল জলের বোতল, ডিম লাঠি ছোঁড়া। মানিক সরকার, বাদল চৌধুরী, নারায়ণ কর সহ সব বাম নেতা কর্মীরাই অল্পবিস্তর আহত হন। ভাঙচুর করা হয় পরীক্ষিত মুড়াসিং 'র ভাড়া গাড়িটিও। মারধর করা হয় গাড়ি চালক ভবতোষ ভৌমিককেও। দুস্কৃতিদের ছোঁড়া ডিম আর জলে ভিজে যায় মানিক বাবুর সারা শরীর। মাথায় আঘাত পান বাদল চৌধুরী ও। পরীক্ষিত মুড়াসিং ও সিপিআই কর্মী ক্ষুদিরাম রিয়াং ইটের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পুলিশকে লক্ষ্য করেও ইট পাটকেল ছুড়তে দেখে বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার চিৎকার করে বলে উঠেন মারলে আমাদের মারুন পুলিশকে নয়। এদিন ঘটনাস্থলে পুলিশের সংখ্যা ছিল একেবারে নগন্য। পুলিশ সাধ্যমত আক্রমণকারীদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। শান্তিরবাজারের মত অতি স্পর্শকাতর জায়গায় বিরোধী দলনেতা সহ বাম বিধায়কদের সফর সূচিতে কেন এত কম পুলিশ মোতায়েন করা হল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নানা মহল থেকে। বাম নেতাদের উপর আক্রমণের ঘটনার নিন্দা জানানো হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে।তীব্র প্রতিরোধের স্পৃহা তৈরি হয়েছে মহকুমার বাম যুবদের মধ্যে। আর পিছু হটতে না চাওয়া বাম যুবদের বক্তব্য, শুধুমাত্র পুলিশের উপর ভরসা করে কেন এলেন বাম নেতারা। বিরোধী দলনেতা সহ বাম বিধায়কদের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মন্ডলী, উপজাতি গণমুক্তি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি, সিপিআই এম - এল ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি ও সিপিআই রাজ্য পরিষদ সহ বহু ব্যাক্তি ও সংগঠন।










কোন মন্তব্য নেই