আরও ৮ নারীশক্তি মমতার মন্ত্রিসভায়
কলকাতাঃ গত বিধানসভা নির্বাচনের পরে অর্থাত্ ২০১৬ সালে
মাত্র দু'জন মহিলা মন্ত্রী শপথ নিয়েছিলেন মমতার মন্ত্রিসভায়। শশী পাঁজা ও
সন্ধ্যারানি টুডু। মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যে এই সংখ্যা খানিক কমই
ঠেকেছিল অনেকের কাছে। পাঁচ বছর পরে কিন্তু এই সংখ্যা অনেকটা বেড়ে গেল। আজ, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ৪৪ সদস্যের
রাজ্য মন্ত্রিসভায় মহিলার সংখ্যা হল ৯। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম থেকেই
আলোচনায় ছিল, মহিলা ভোটারদের সংখ্যা। অেকেই অনুমান করেছিলেন, মহিলা ভোটারদের সিদ্ধান্ত কী হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে
ফলাফলে। হয়েছেও তাই। তৃণমূলের বিপুর জয়ের পিছনে এই মহিলা ভোটারদের যে বড় ভূমিকা
রয়েছে, তা বলেছে একাধিক সমীক্ষা। ভোটের প্রচারেও মুখ্যমন্ত্রী বারবারই সামনে তুলে
ধরেছেন মহিলা প্রার্থীদের মুখ এবং জোরগলায় ভোট দাবি করেছেন 'মা-বোন'দের কাছে। সমর্থনও পেয়েছেন। এর
পরে ভোটের ফল প্রকাশের পরে যখন নয়া মন্ত্রিসভা গঠন হল, তাতেও সেই সমর্থনের প্রতিফলন দেখা গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিন শপথ নেওয়া ৪৩ জনের মন্ত্রিসভার ৮ জন মহিলা মন্ত্রীর মধ্যে ১ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ৪ জন প্রতিমন্ত্রী
রয়েছেন। নারী ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের পূর্ণমন্ত্রী শশী পাঁজা এর আগের
দু'টি তৃণমূল সরকারেও মন্ত্রী ছিলেন। শ্যমপুকুরের বিধায়ক এ বারও
তাঁর পুরনো দফতরই পেয়েছেন। শশী পাঁজা ছাড়াও স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী
হিসেবে শপথ নিয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। পুর ও নগরোন্নয়নের স্বাধীন দায়িত্বের
পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং
শরণার্থী ও পুনর্বাসন দফতর পেয়েছেন তিনি। রত্না দে নাগ এবং সন্ধ্যারানিও আছেন এই
তালিকায়। হুগলির প্রাক্তন সাংসদ রত্না এবার হুগলির পান্ডুয়া থেকে জিতেছেন। পেশায়
চিকিত্সক রত্নার হাতে রয়েছে পরিবেশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং জৈব
প্রযুক্তি বিষয়ক দফতর। আবার ২০১১-য় পুরুলিয়ার মানবাজার কেন্দ্রে জিতেছিলেন
সন্ধ্যারানি। ২০১৬-য় ফের জেতার পরে প্রতিমন্ত্রী করেছিলেন মমতা। এ বার পশ্চিমাঞ্চল
উন্নয়নের স্বাধীন দায়িত্বের পাশাপাশি পরিষদীয় প্রতিমন্ত্রীও হয়েছেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর পদ পেয়েছেন শিউলি সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, বীরবাহা হাঁসদা এবং জ্যোত্স্না মান্ডি। কেশপুরের দ্বিতীয়বারের
বিধায়ক শিউলি হয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী। ঝাড়গ্রাম থেকে এবারই
প্রথম বিধায়ক হয়েছেন সাঁওতালি চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী বীরবাহা। বন প্রতিমন্ত্রী
হয়েছেন তিনি। খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে জ্যোত্স্না মাণ্ডিকে।
আবার মালদহের মোথাবাড়ির তৃণমূল বিধায়ক সাবিনা ২০১১-য় জোট মন্ত্রিসভায় শ্রম দফতরের
প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। এ বার হয়েছেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন এবং সেচ ও জলপথ
প্রতিমন্ত্রী।









কোন মন্তব্য নেই