চিরনিদ্রায় সবার প্রিয় পার্থ সারথী চন্দ 'স্যার'
নয়া ঠাহর প্রতিবেদন, শিলচর: বুধবার রাতে চিরনিদ্রায় হঠাৎ চলে গেলেন পার্থ সারথী চন্দ 'স্যার'। কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ থাকা সত্বেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরপারে চিরদিনের মত চলে যেতে হলো। বরাকের সুপরিচিত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রাক্তন অধ্যক্ষ গুরুচরণ কলেজ ও বিজেপি নেতা মালুগ্রাম স্টিমারঘাটের রোড়ের বাড়িতে মারা যান বলে জানা যায়। বিজেপি কার্য্যলয়ে এই প্রিয় নেতাকে আর খুঁজে পাবেন না।মৃত্যুকালে বয়স ছিল ৭২ বছর। শেষকৃত্য সম্পন্ন করার আগে শিলচর বিজেপি কার্যালয় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে দলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, এমনটাই বিজেপি সমর্থকসহ অনেকেই বলতে দেখা গেছে। প্রজ্ঞা এবং বিশাল হৃদয়যুক্ত ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ছাত্রদের প্রচুর ভালোবাসতেন। সত্যিকার অর্থে একজন প্রকৃত শিক্ষক ছিলেন।
দীর্ঘ তিন দশক অধ্যাপনার কাজে যুক্ত ছিলেন শিলচর গুরুচরণ কলেজে, সামলেছেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দীর্ঘদিন বিভাগীয় প্রধান হিসাবে কাজ করার পর ২০০৭ সালে গুরুচরণ কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্তি পান। তিনি ভারতীয় জনতা পার্টির রাষ্ট্রীয় কার্যকারিণীর সদস্য ছিলেন এবং ভারতীয় জনতা পার্টির জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রয়াত পার্থ সারথি চন্দ গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম,এ পাশ করেন এবং গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালযয়ের হয়ে অনেক তর্ক-বির্তক প্রতিয়োগিতায় অংশগ্রহণ করেন ও অনেক পুরুষ্কার লাভ করেন।
পার্থ সারথি চন্দের মৃত্যুতে বরাক উপত্যকার বৌদ্ধিক মহলে এক বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। উনার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন শিলচরের সাংসদ ডাঃ রাজদ্বীপ রায়, লক্ষীপুরের বিধায়ক কৌশিক রায়, শিক্ষয়িত্রী জোনাকি স্বামী, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত চন্দ্রজীত নুনিয়া প্রমূখ। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক রত্নজ্যোতি দত্ত দিল্লি থেকে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। চিকিৎসক ডাঃ অনন্য দাসও সুদূর আমেরিকা থেকে 'স্যারের' প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।শোক ব্যক্ত করেন বদরপুর টাউন কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান চন্দন পাল, কাছাড় বিজেপির কার্যকারি সদস্য কালাইনের বিপ্লব পাল। "আমি হারালাম একজন গুরু যার কাছ থেকে শিখেছি বিতর্ক সভায় কিভাবে যুক্তি সঙ্গতভাবে কথা বলতে হয়ে," বলেন অধ্যাপক বাহারুল ইসলাম উত্তরাখণ্ডের কাশিপুর থেকে। "আমি আমার পুরানো বন্ধুকে হারিয়েছি" এই বার্তা জানিয়ে কলকাতা থেকে শোক প্রকাশ করেন দৈনিক যুগশঙ্খ গোষ্ঠীর কর্ণধার বিজয় কৃষ্ণ নাথ।









কোন মন্তব্য নেই