পশ্চিমবঙ্গের চার দফা নির্বাচনেও হিংসা, রক্ত, গুলি, মৃত্যু
অসমে ম্যাজিক ফিগার পেয়ে গেছি : সর্বানন্দ
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : অসমে বিজেপি জোট কংগ্রেস- ইউ ডি এফ মহাজোটের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সন্মুখীন হবে।সহজে জিততে পারবে না। ১০/১৫ টি আসন কম পাবে, বিজেপি ঘোড়া কেনা-বেচা করে সরকার গড়বে এই, আশঙ্কার প্রেক্ষিতে এ আই ইউ ডি এফ তাদের প্রার্থীদের দূরে সরিয়ে দিল। সুদূর রাজস্থানে পাঠিয়ে দিল। এত হাড্ডাহাড্ডির পর অসমের ১২৬ টি আসনে নির্বাচনে রাজনৈতিক হিংসা হয়নি, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন ময়দানে রক্ত ঝরছে দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল স্পষ্ট বলে দেন বিজেপি ম্যাজিক ফিগার ইতিমধ্যে পেয়ে গেছে। কেরল, তামিলনাড়ু, পদুচেরিতে নির্বাচন হয়ে গেল কেউ টেরই পেলো না। আর পশ্চিমবঙ্গে প্রথম থেকে রাজনৈতিক হিংসা চলছে। আজ ৪৪ টি আসনে ৪ দফা নির্বাচনে পাঁচ জনের রক্ত ঝড়লো, নিরীহ ভোটার মারা গেলেন। চারজন গুরুতর আহত হলেন। বিজেপি প্রার্থী বৈশালি ডালমিয়া, পাপিয়া অধিকারী ও লকেট চট্টপাধ্যায়ের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন এলাকায় তাজা বোমা উদ্ধার হল। প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতিতে শিলিগুড়ি ও কৃষ্ণনগরে বিশাল জনসভাকে সম্বোধন করলেন। কুচবিহার জেলার শীতল কুচির জোট পাট রির ১২৬ নম্বর বুথে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছিল। বিভিন্ন সূত্র জানায় গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয় ভোটের লাইনে দাঁড়ানো এক কিশোরকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জোয়ান মারধর করছে। সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছুটে আসে, হুলস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাদের হাত থেকে বন্দুক ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে দেখে বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ১৫ রাউন্ড গুলি চালায়। তাতে চার জন নিহত হয়। ৪ জন আহত হয়। বাহিনীর তিন জন আক্রমণের ফলে আহত হয়। কুচবিহারের ডি আই জি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে জানান, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছিল দেখে কেন্দ্রীয় বাহিনী আত্মরক্ষা করার জন্যে গুলি চালাতে বাধ্য হয়। নির্বাচন কমিশন এক ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এই উত্তরবঙ্গে শিলিগুড়িতে এই ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানান। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করে বলেন, তার ষড়যন্ত্রের বলি হলেন ৫ জন। তিনি তার অভিযোগকে জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে বানচাল করতে কেন্দ্রীয় সরকার কি ধরণের দমনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তা দেশেবাসী জানুক। আগামীকাল মুখ্যমন্ত্রী সেখানে যাবেন। প্রতি জেলাতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আজ ওই কেন্দ্রে এক কিশোর ভোট দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সে বিজেপির সমর্থক ছিল। আজ মোট ৫ জন মারা যান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিলিগুড়িতে, কুচবিহারের গুলি চালানোর ঘটনায় তীব্র নিন্দা করে তৃণমূলদের দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন, দিদি নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ই ভি এম-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর দেখছে, এরপরও জনতা বিজেপির পাশে আছে আশীর্বাদ দিচ্ছে তখন পুরোনো খেলা হিংসার রাজনীতি শুরু করে দিল। তারই পরিণতি আজকের হিংসার ঘটনা। তিনি বলেন, তৃণমূলের হিংসার রাজ নীতি ২ মের পর শেষ হবে। বিজেপি তৃণমূলের পুরনো খেলা খতম করবে। সব দুর্নীতির ফাইল খোলা হবে। কেউ নিস্তার পাবে না।তিনি আবার আগের সম্ভনার কথা প্রকাশ করে বলেন, দিদি সম্ভবত অন্য রাজ্য থেকে সাংসদ পদে লড়বেন। বারাণসীর নাম শোনা গিয়েছিল, ভাইপকে দায়িত্ব দিয়ে রাজ্য ছেড়ে জাতীয় রাজনীতির অঙ্গনে পা রাখতে চান দিদি। প্রধানমন্ত্রী আজ অসমের মত ডাবল ইঞ্জিন সরকারের কথা বলেন। ডাবল ইঞ্জিন সরকার বাংলার খোল নোলছে বদলিয়ে দেবে সোনার বাংলা গড়ে তুলবে। আজ নির্বাচন কমিশন ৭২ ঘন্টা আগে কুচবিহার যাওয়ার উপর রাজনৈতিক দলগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। কাল মুখ্যমন্ত্রীর শীতলকুচি যেতেন।









কোন মন্তব্য নেই