লামডিং এর প্রয়োজন স্বপন কর কে ,স্বপন তাই প্রাথী মহাজোটের
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটিঃ মধ্য অসমের লামডিং নির্বাচন কেন্দ্র, খুবই স্পর্শ কাতর, রাজ্যের বাঙালিদের আবেগের কেন্দ্র বিন্দু, সেই আবেগকে বিজেপি কোনো দিন গুরুত্ব দেয় নি। বাংলা ভাষা সংস্কৃতিকে মর্যাদা দেয় নি। লামডিং-এর জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে দিসপুর কোনো দিন ভাবে নি, এই অভিযোগ লামডিং-এর মানুষের। বিধান সভার অধ্যক্ষ দেবেশ চক্রবর্তীর পর তার যোগ্য শিষ্য স্বপন কর লামডিং-এর বিধায়ক পদে জিতে কিছু মৌলিক সমস্যা নিয়ে দিসপুর এবং রেল কর্তৃপক্ষর গোচরে আনতে সমর্থ হয়ে ছিলেন। তিনি এবার কংগ্রেস ইউ ডি এফ, বামপন্থী মহাজোটের প্রাথী হলেন। সেই জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে সরব হবেন এবং জিতবেন ও। লামডিঙে ২ লাখ ৯ হাজার ভোটার, ১ লাখ ৭ হাজার হিন্দু এবং ৬৪ হাজার মুসলিম ভোটার, এই ভোটারদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মুসলিম ভোটার ভূমিহীন, সরকার পাট্টা দেয় নি। ৬০/৭০
বছর বাস করেও ভূমিপুত্র হতে পারলো না। লামডিং
শহরের প্রায় ৪০ হাজার
বাসিন্দার নিজস্ব জমি নেই, অধিকাংশ রেল জমিতে
নিজ দেশে পরবাসীর মত বস বাস করে। তাদের স্থায়ী জমির
ব্যবস্থা নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ কোনোদিন ভাবে নি। ভাববার
প্রয়োজনবোধ ও করেনি। স্বপন কর এই জটিল সমস্যা নিয়ে কয়েক রাউন্ড রেল কর্তৃপক্ষর
সঙ্গে বৈঠকে বসে ছিলেন। রেল যে ভাবে বেসরকারিকরণ হচ্ছে, সবটাই
বিক্রি করে দেবে, প্রাইভেট কোম্পানি
রেল হাতে পেলে সব উচ্ছেদ করবে। লামডিং-এর
বাঙালি স্বাভিমান ও বিক্রি হয়ে যাবে। সে কথা বিজেপি
নেতাদের মাথায় আছে কি? স্বপন কর সেকথা আগেই ভেবেছেন। আর ভূমিহীন লক্ষাধিক
গ্রামের মানুষের জমির পাট্টা নিয়েও স্বপন কর রাজস্ব
বিভাগের কর্তাদের সঙ্গে আগেও কথা বলে ছিলেন। বিধায়ক পদে
আবার জিতবেন আবার আলোচনা চালাবেন। এছাড়া,
রাজ্য পরিকল্পনা নিয়ে আর্থিক বরাদ্দ থেকে লামডিং কেন্দ্রকে বাদ
দেওয়া হয়ে থাকে। লামডিং মানে রেল নয়, ৭৫ শতাংশ
এলাকা দারিদ্র মানুষের বাস, সবাই কৃষক শ্রমজীবী
মানুষ, সবাই জানে,
উপজাতি ভাষায় লুম মানে জল, ডিং মানে নেই, এই লামডিং জল হীন শহরে কৃষকরা
কৃষি কাজে জল পায় না। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা খাতে অর্থ
বরাদ্দ হয় না। প্রচুর সবুজ শাকসব্জি উৎপাদিত হয়। কিন্ত বাজার
নেই, হাজার হাজার বিঘাতে আখ চাষ হয়,
সব গুড় মদ তৈরির জন্যে নাগাল্যান্ডে চলে যায়। লামডিং রাজস্ব পায় না।
লামডিংর শিক্ষিত ছেলে মেয়েরা কর্ম
বিনিয়োগ কেন্দ্রে নাম তুলেও ডাক পান
না এরকম ভুঁড়ি ভুঁড়ি অভিযোগ আছে। এই সব
জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে গত 5বছর দিসপুর ভেবেছে
কি? স্বপন কর টেলিফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন
লামডিং মানুষের উন্নয়নের
জন্যে যত দূর যেতে হয় যাবেন। বেশ মনে আছে অর্থ মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা
চিলড্রেন পার্কের এক সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন
লামডিং বাঙালিদের গোলাপের বাগিচা
শোভা বর্ধন করে সুগন্ধ ছড়ায়। সত্যিই কি তাই? লামডিং
শুকিয়ে যাচ্ছে না কি, ফুলের সৌরভ কোথায়?









কোন মন্তব্য নেই