Header Ads

ব্রিগেডে 'ফিউচার সিটি'র মডেল দেখালেন প্রধানমন্ত্রী

 


প্রধানমন্ত্রীর মুখেও খেলা হবে স্লোগান! চুপচাপ, পদ্মে ছাপ : প্রধানমন্ত্রী

কলকাতা : ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তত্‍কালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএম তথা বামেদের পরাস্ত করার ডাক দিয়ে স্লোগান দেন, হয় এবার, নয় নেভার। কিন্তু তৃণমূল সেবার হেরে যায়। দশ বছর পর তৃণমূলের নতুন স্লোগান হয়, পরিবর্তন চাই। বদলা নয়, বদল চাই। সেবার বিপুল আসনে জয়ী হয়ে প্রথমবারের জন্য বাংলায় ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। এরপর কেটে গিয়েছে আরও দশটা বছর। একুশের মেগা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের স্লোগান খেলা হবে। সেই সঙ্গে মমতা বলছেন, খেলা হবে, দেখা হবে, জেতা হবে। আর এই খেলা হবে স্লোগানকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজনীতির ময়দানে কিসের খেলাএই প্রশ্নে তৃণমূলকে নিয়মিত আক্রমণ করছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতিতে রবিবার ব্রিগেড সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তৃণমূলকে আক্রমণ করে যে দীর্ঘ বক্তব্য রাখেন, তার শেষদিকে এল খেলা হবে প্রসঙ্গ। তিনি বলেন," চারদিকে লুট হচ্ছে। কাটমানি, সিন্ডিকেট রাজ চলছে। এটা খেলা? আপনারা অনেক বড় বড় খেলোয়ার দেখছি! বলছেন খেলা হবে। এই খেলা বন্ধ করতে হবে। এই খেলা খতম করতে হবে দিদি। বাংলার মানুষের আওয়াজ শুনুন দিদি। তৃণমূলের খেলা শেষ। খেল খতম, বিকাশ শুরু। কেউ ভয় পাবেন না। নির্ভয়ে ভোট দিন। কুশাসন দূর করে বাংলাকে ভয়মুক্ত করতে হবে। বিজেপিকে ভোট দিয়ে সেটা করুন আপনারা।" তৃণমূলের খেলা হবে স্লোগানকে এভাবেই আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

খেলা হবে স্লোগান নিয়ে গান তৈরি হয়েছে। সেই ডিজে সং বাজছে তৃণমূলের সভা, মিছিলে। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার নাম না করে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলছেন, দেখি তোমরা কত খেলতে পারো। এই খেলায় আমি গোলকিপার। দেখি তোমরা কটা গোল করতে পারো। পারবে না, তোমাদের বল বারপোষ্টের ওপর দিয়ে চলে যাবে। বাংলা ফুটবলের মক্কা বলে পরিচিত। তাই বাংলার সঙ্গে খেলার একটা সুন্দর মেলবন্ধন আছে। কিন্তু রাজ্য রাজনীতির সঙ্গে যেভাবে খেলা হবে বিষয়টি মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। রবিবার ব্রিগেড সমাবেশে বক্তব্য রাখতে এসে এই বিষয়টি নিয়ে দল তথা কর্মী-সমর্থকদের বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রীতিমতো তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বললেন, তাদের খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই এদিন মোদিকে বলতে শোনা গিয়েছে," বাংলায় কেন পদ্মফুল ফুটছে জানেন? এখানে লুট হচ্ছে, গরিবের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, তোলাবাজি হচ্ছে, তাই পদ্ম ফুটছে। তৃণমূল উনিশে হাফ হয়েছে, একুশে সাফ করে দিন। চুপচাপ, পদ্মে ছাপ।" গেরুয়া শিবিরের সমর্থকদের এমন বার্তাই দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে এদিন খেলা হবে প্রসঙ্গ নিয়ে তৃণমূলকে বিঁধেছেন, তাতে স্পষ্টতই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে গেরুয়া শিবির।

অপরদিকে, অনেকদিন থেকেই কাটমানি সিন্ডিকেট নিয়ে তৃণমূলের সমালোচনায় অবতীর্ণ বিজেপি। ইদানীং নতুন সংযোজন বলতে 'ভাইপো' প্রসঙ্গ। তাও এখন বহু ব্যবহারে জীর্ণ হচ্ছে ক্রমশ। উল্টে এ প্রশ্নও উঠছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই বা নতুন কী হবে বাংলায়!

রবিবাসরীয় ব্রিগেডে সেই নতুনেরই খোঁজ দিতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বহু লক্ষাধিক কর্মী সমর্থকের জমায়েতে দাঁড়িয়ে বোঝাতে চাইলেন, দিদির শাসন ব্যবস্থার স্রেফ সমালোচনা করা নয়, বাংলার উন্নয়নের বিকল্প ভাবনাও রয়েছে তাঁর। কী সেই ভাবনা?

এদিন ব্রিগেডের ভিড় দেখে অভিভূত হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এত বড় সভা জীবনে দেখিনি। আজকের ব্রিগেড ঐতিহাসিক। তবে কিনা এই ব্রিগেডের ইতিহাসও দীর্ঘ। বাংলার উন্নয়নে বাধা দেওয়ার সাক্ষীও এই গ্রাউন্ড। কিন্তু দেখতে পাচ্ছি, এ বার আড়াআড়ি বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস এবং তাদের উন্নয়ন বিরোধী অ্যাজেন্ডা। অন্যদিকে জনতা। যারা বাংলার উন্নতি চাইছে, শান্তি চাইছে।'

এর পরই তাঁর বিকল্প মডেলের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এই ব্রিগেড গ্রাউন্ড থেকেই বাংলার পুননির্মাণের আশ্বাস দিতে চাই আমি। এমন পরিবেশ গড়ে তুলব যেখানে বাংলার সংস্কৃতিকে রক্ষা করা হবে, উন্নয়ন হবে, বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এখানকার ছেলেমেয়েদের জন্য, শিল্পের জন্য, বাংলার জন্য ২৪ ঘন্টা লড়াই করব'

'বাংলায় আসল পরিবর্তন আনাই বিজেপির পরিশ্রমের আধার হবে। আসল পরিবর্তনের মানে, এমন বাংলা যেখানে যুবকদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া যাবে, এমন বাংলা যেখানে মানুষকে রাজ্য ছেড়ে যেতে হবে না, আসল পরিবর্তন মানে এমন বাংলা যেখানে শিল্প বাণিজ্যের উন্নতি হবে, বিনিয়োগ আসবে, এমন বাংলা যেখানে একুশ শতকের আধুনিক পরিকাঠামো হবে, যেখানে গরিবদের অগ্রসর হওয়ার সুযোগ থাকবে, যেখানে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের সমান ভাগিদারি থাকবে'

'উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে কোনও পার্থক্য করা হবে না। সবাই গুরুত্ব পাবে। সবার কল্যাণ করাই প্রশাসনের মন্ত্র হবে। কারও তুষ্টিকরণ হবে না'

'স্বাধীনতার পর গত ৭৫ বছরে বাংলা থেকে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা আমার থেকে আপনারা ভাল জানেন। বাংলা থেকে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা ফেরত দেব। আমার কথা লিখে রাখুন'

'গোটা দেশের মতো আগামী ২৫ বছর বাংলার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এবারের ভোটের পৃথক মাহাত্ম্য রয়েছে। কারণ, আগামী পাঁচ বছরে সেই বৃহত্তর উন্নয়নের আধার তৈরি হবে। যাতে ২০৪৭ সালে দেশ যখন স্বাধীনতার শতবর্ষ পালন করবে, তখন যাতে বাংলা দেশের পয়লা নম্বর স্থানে'

কলকাতাকে 'সিটি অব জয়' বলা হয়। কিন্তু শহর কলকাতায় আধুনিক পরিকাঠামো কতটা গড়ে উঠেছে? কেন তাকে 'সিটি অব ফিউচার' বানানো যাবে না? কদিন আগে একটা সমীক্ষা হয়েছে। তাতে বাংলার মানুষ বলেছে, কলকাতাকে তারা ভবিষ্যতের শহর হিসাবে দেখতে চায়।

বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় আরও স্মার্ট সিটি হবে। সেখানে পড়াই কামাই এবং মানুষের চিকিত্‍সার জন্য দাওয়াইয়ের ব্যবস্থা থাকবে। পরিকাঠামো উন্নতি হবে। গ্রাম ও শহরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও সংস্কার করা হবে।

বাংলায় পঞ্চায়েত ও পুর ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক কাঠামোকে তছনছ করা হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তা ঠিক করবে। পুলিশ ব্যবস্থায় মানুষের আস্থা ফেরাবে।

বাংলায় চাকরির পরীক্ষা স্বচ্ছতার সঙ্গে হবে। স্কিল ডেভেলপমেন্ট স্বচ্ছতার সঙ্গে হবে। কারিগরী, চিকিত্‍সার মতো বিষয়ে পঠনপাঠন যাতে বাংলায় হয়, তার ব্যবস্থাও করা হবে। ইংরেজি না জানলেও গরিবের ছেলেমেয়েরা যাতে ডাক্তারি পড়তে পারে, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে পারে, সেই ব্যবস্থাও করব আমরা।

বস্তুত তাঁর এই বিকল্প ভাবনা তুলে ধরতেই প্রধানমন্ত্রী এদিন দীর্ঘ সময় নেন। সেই সঙ্গে ব্যক্তি আক্রমণ না করেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে আম ধারণাতেই জোরদার আঘাত হানেন মোদী। বারবার বোঝাতে চান, বাংলায় যে সরকার চলেছে তা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিয়েছে, তাত জাতপাতের রাজনীতি করে সমাজকে ভেঙেছে, তা স্বজনপোষণও করেছে নির্লজ্জভাবে। এমন ব্যবস্থায় আর যাই হোক, আধুনিক বাংলা গঠন সম্ভব নয়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.