বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যা

এবারের বিধানসভা নির্বাচন সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে গত লোকসভা নির্বাচনকে প্রসঙ্গতঃ টানতেই হবে। তখন কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। লোকসভা নির্বাচনের বেশ কিছুদিন আগে থেকেই রবিবাবুর সৌজন্যে লোকসভার উপনির্বাচনে জিতে সাংসদ হওয়া পার্থপ্রতিম রায়ের সঙ্গে রবিবাবুর সম্পর্ক একেবারে তলানিতে গিয়ে পৌঁছে যায়। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও অন্তর্ঘাতের রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা কোচবিহারে তখন কার বা কাদের প্ররোচনায় যুব মিছিলগুলো থেকে ‘রবি ঘোষের চামড়া গুটিয়ে নেব আমরা’ ধ্বনি উঠতো তা জেলারাজনীতির খবরাখবর রাখা মানুষমাত্রেই জানতেন। সেই রবি ঘোষ যখন পার্থ’র প্রার্থীপদের প্রশ্নে পুরোপুরি বেঁকে বসলেন এবং সদ্য ফরোয়ার্ড ব্লক থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া মেখলিগঞ্জের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং দীর্ঘদিনের বিধায়ক পরেশচন্দ্র অধিকারীর পাশে দাঁড়ালেন তখন জেলা রাজনীতিতে রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল সন্দেহ নেই ! যে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা বুকে চাপড় মেরে দাবি করেন--প্রতিটি কেন্দ্রেই আমাদের প্রার্থী একজনই--তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়--সেই নেতা-কর্মীদের একাংশকে দেখা গেল তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়তে। মমতার ঘোষিত প্রার্থী পরেশচন্দ্র অধিকারী মারাত্মক রকমের অন্তর্ঘাতের শিকার হলেন। আসল ক্ষোভটা পরেশেবাবুর বিরুদ্ধে ছিল না--ছিল রবিবাবুর বিরুদ্ধে--তাঁকে জব্দ করা এবং নেত্রীর বিশ্বাসযোগ্যতা থেকে রবিবাবুকে সরিয়ে দেওয়ার যুদ্ধ ছিল গত লোকসভার নির্বাচনটি। মমতাই যেখানে সমস্ত কেন্দ্রের একমাত্র প্রার্থী সেখানে কোচবিহারের মতো তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্যে থাকা জেলায় মমতার ঘোষিত প্রার্থী বিপুল ভোটে সদ্য তৃণমূলত্যাগী এক যুবনেতার কাছে পরাজিত হন কি করে--এ প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায় নি। গত লোকসভা নির্বাচনের মুহূর্তে জেলায় এমন কিছু ঘটে নি বা বিজেপি’র সাংগঠনিক শক্তি চোখে পড়ার মতো হয়ে ওঠে নি যে তৃণমূল প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত ছিল। প্রার্থী হিসেবে ‘অপছন্দ’-এর অভিযোগ ছাড়া তো কিছু ছিল না ! তাও এই অপছন্দ ইস্যুটি জোরদার হওয়ার কথা ছিল জেলায় প্রায় অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া বিরোধী দলের কাছে--তৃণমূলের ভেতরে এটাই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠলো কেন? তৃণমূলে অপছন্দের প্রার্থীরা কি কোথাও টিকিট পান না--বরং তৃণমূলেই অপছন্দের প্রার্থীরা বেশি বেশি টিকিট পেয়ে আসছেন। একটু তালিকাগুলো নাড়াচাড়া করলেই বহু নাম বেরিয়ে আসবে--যাদের সিংহভাগই কিন্তু জিতে সংসদে বেকার সময় কাটিয়ে এসেছেন টানা পাঁচ বছর ! তাহলে কোচবিহারের মতো তৃণমূলের জবরদস্ত দুর্গ থেকে মমতার মনোনীত প্রার্থী বিপুল ভোটে হারেন কি করে? হেরেছেন--কারণ, রবিবাবু এবং তাঁর পছন্দের প্রার্থী অন্তর্ঘাতের যুদ্ধে হার স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন বলেই।
কিন্তু দুর্ভাগ্যের এবং বিস্ময়ের ব্যাপার হল এটাই যে--জেলার বিভীষণরাই পিকে’র পরামর্শে মমতার বিশ্বাসযোগ্যতার সীলমোহর পেয়ে গেল। রবিবাবুকে সভাপতির পদ থেকে তো সরানোই হল--জেলার সিনিয়র নেতাদের নিয়ে কূনাট্য মঞ্চস্থ হতে থাকলো। দু’চার মাসের জন্যে বিনয় বর্মণকে সভাপতির পদে বসিয়ে তাঁকেও সাইডলাইনের বাইরে পাঠিয়ে সর্বভারতীয় যুবনেতার আশীর্বাদধন্য কোচবিহারের মুক্তিসূর্য সেই যুবনেতাকে সভাপতির পদে বসানো হল যার সঙ্গে রবিবাবুর সম্পর্ক জেলা রাজনীতিতে ভীষণভাবে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছিল। সিনিয়রদের প্রায় সকলকেই অর্থহীন অপ্রয়োজনীয় অকার্য্যকরী আলঙ্কারিক পদে বিশ্রামে পাঠানো হল। পিকের বহুমূল্য পরামর্শে যুবদের হাতেই প্রায় তুলে দেওয়া হল গোটা দলটাকেই। কোচবিহারের যুব মুক্তিসূর্য এখন জেলার হবু মন্ত্রী হিসেবে পিকে’র প্রোজেকশনে উঠে এসেছেন। চূড়ান্তভাবে প্রভাবিত এবং নির্দেশিত পিকের টিম জেলা ঘুরে ঘুরে তথাকথিত যে রিপোর্ট তৈরি করেছে তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় প্রার্থী তালিকায় বিবেচনার যোগ্যতা হারিয়েছেন জলিল আহমেদ, শুচিস্মিতা দেবশর্মা, অর্ঘ্য রায়প্রধান, হিতেন বর্মণদের মতো নেতানেত্রীরা। দলের আস্থা হারিয়ে নিজের কেন্দ্র থেকে উৎখাত হয়েছেন বিনয় বর্মণ (অবশ্য তিনি যদি একটি অভিযোগকে গুরুত্ব দিতেন তাহলে তাঁকে পরবাসে যেতে হত না, এ ব্যাপারটা অবশ্য শুধু তিনিই জানেন এবং আমি জানি, আর কেউ জানে না)।
জেলা রাজনীতিতে মুক্তিসূর্যের এতটাই গুরুত্ব--যে শীতলখুচিতে পরপর দুবার জেতার পরেও গত লোকসভা নির্বাচনেও যিনি হারেন নি সেই প্রবীণ হিতেন বর্মণকে ভোটের অঙ্কে এগিয়ে রাখা সেই শীতলখুচি থেকে অবসরে পাঠানো হল ! এই শীতলখুচিতেই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবিতে মাটি কামড়ে পড়ে থেকে যিনি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস স্থাপনের দাবি আদায়ের সূত্রে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করলেন সেই গিরীন্দ্রনাথ বর্মণকেও মাটিছাড়া করে পাঠানো হল মাথাভাঙ্গা কেন্দ্রে। হিতেন-গিরীণের তৈরি মাটিতে পিকে’র পরামর্শে নতুন সূর্যোদয়ের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হল। কিন্তু শীতলখুচির পঞ্চাননভক্তদের সিংহভাগই গিরীণবাবুকে চেয়েছিলেন প্রার্থী হিসেবে। কিন্তু হবু মন্ত্রীর জন্যে এর চেয়ে সহজ তৈরি কেন্দ্র একটিও না থাকায় হিতেন-গিরীণকে দলের জন্যে মহান আত্মত্যাগ করতে হল। এটা কারুর বুঝতে অসুবিধে হচ্ছে না। হিতেনবাবু তো অবসরেই গেলেন--কিন্তু একেবারেই অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আমূল স্বচ্ছ ও সৎ মানুষ গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ মাথাভাঙ্গা থেকে দাঁড়ালেন তো বটে--কিন্তু জিততে পারবেন কি? তাঁর পক্ষে এ লড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি আদায়ের লড়াইয়ের চেয়েও কয়েকশোগুণ কঠিন লড়াই। তিনি যদি এই বিশ্বাসে থাকেন যে বামফ্রন্টের যারা বিজেপি’র দিকে চলে গিয়েছিল তারা সব এই ভোটের আগে দৌড়ে ফিরে আসবে বিজেপি ছেড়ে তাহলে তিনি মহা ভুল করবেন--কারণ, সুবিধাবাদী ভোটার বা সমর্থকরা নিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকেই ছুটে যায়--অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ফিরে তাকায় না।
অন্যদিকে হিতেনবাবু এবং গিরীণবাবুর ছেড়ে আসা মাটিতে সূর্যোদয়ও খুব সহজ হবে বলে আমার অন্ততঃ মনে হচ্ছে না। কারণ গত লোকসভা নির্বাচন থেকেই জেলার মুক্তিসূর্যকে স্থানীয় বিজেপি কর্মীসমর্থকেরা বিশেষভাবে চিনে রেখেছেন। ফলে যতই বিজেপি নেতার বাড়িতে গিয়ে বা সটান বিজেপি’র পার্টি অফিসে ঢুকে গিয়ে কোলাকুলির নটরঙ্গ হোক না কেন--ডাল খুব গলবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। আরও বেশ কিছু বিষয় আছে (প্রয়াত সুধীর প্রামণিকের স্মৃতি উসকে দিতে তাঁর পুত্র সুধাংশু’র ভূমিকাও ভাবতে হবে) যা নিয়ে আলোচনায় যেতে চাই না। জল কোনদিকে গড়ায় সেটাই লক্ষ্য করা ভাল।
দিনহাটায় প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং বিজেপি’র শক্তিবৃদ্ধিতে এমনিতেই গভীর দুশ্চিন্তা রয়েছেই। তার ওপর বিজেপি প্রার্থী করে দিয়েছে নিশীথ প্রামাণিককেই ! বামসংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী আব্দুর রউফ বোধহয় জেলার একমাত্র মুসলিম প্রার্থী--সুতরাং তিনিও গভীর উদ্বেগের মধ্যে তৃণমূলকে ঠেলে নিশ্চয়ই দেবেন। ফলে একেবারেই স্বস্তির জায়গায় নেই দিনহাটা। ওদিকে সিতাই লোকসভা নির্বাচনে এগিয়ে থাকলেও তৃণমূলের প্রার্থী নিয়ে উদ্বেগজনক ক্ষোভ-বিক্ষোভ রয়েছে। তিনি দলেরই একাংশের কাছে গ্রহণযোগ্য নন--তাঁর বদলে অন্য কাউকে প্রার্থী করার দাবি রয়েছে। এই কেন্দ্রে বিজেপি গত প্রায় দু’বছরে নিজেদের শক্তি অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছে। বিজেপি’র একাংশও প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে--যদিও এই দাবিতে অনড় থেকে যিনি রাতারাতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রচুর প্রশ্ন উঠে পড়েছে। মোটের ওপর সিতাই কেন্দ্রটিও তৃণমূলের পক্ষে এই মুহূর্তে খুব স্বস্তিদায়ক মনে করার কারণ আছে বলে মনে করা যাচ্ছে না। তুফানগঞ্জ এবং মেখলিগঞ্জ মোটামুটি লস্টকেস হিসেবেই সামনে উঠে আসছে। মমতা কোচবিহারে এসে কতটা মেরামত করতে পারেন সেটাই এখন দেখার।
চিত্তাকর্ষক লড়াই হবে নাটাবাড়িতে। লোকসভা নির্বাচন থেকেই কেন্দ্রটি পিছিয়ে রয়েছে। অন্তর্ঘাতই এর মূল কারণ। রবিবাবুর নিজস্ব সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়ে খুব বেশি সংশয় না থাকলেও আসরে মিহির গোস্বামী এসে পড়ায় লড়াইটা বিশেষ মাত্রা পেয়ে যাচ্ছে। বাম আমলে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন মিহির গোস্বামী। এক সময়ে উত্তরবঙ্গে মমতার ডান হাত ছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে মমতার দূরত্ব কেন বাড়লো সে আলোচনায় এখন যাচ্ছি না। তবে এটুকু বলা যেতেই পারে--মিহিরের সঙ্গে মমতার দূরত্ব যত বাড়ছিল রবিবাবুর সঙ্গে মমতার দূরত্ব ততই কমছিল। রবিবাবুর নিঃশর্ত এবং তর্কাতীত দল ও নেত্রীর প্রতি আনুগত্য নিয়ে তৃণমূল নেত্রী সম্ভবতঃ আজও সংশয় প্রকাশ করতে পারেন না। তবু কোচবিহারে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের কারীগর রবি ঘোষের ওপর লোকসভা নির্বাচনের কিছু আগে থেকেই একটু একটু করে ভরসা হারাচ্ছিলেন চতুর্দিকের নানারকম অভিযোগ চক্রান্ত এবং প্ররোচনার কারণেই। এটা আমার নিজস্ব পর্যবেক্ষণ--যা থেকে আমার সরে আসার কোনো কারণ নেই। রবিকে সভাপতির পদ থেকে সরানোর আগে যে দিকগুলো নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিচার বিশ্লেষণ করার দরকার ছিল মমতা তা করেন নি। তিনি কোনোদিক ভাল করে না ভেবেই জেলা সংগঠনে পিকে’র হস্তক্ষেপ মেনে নিয়ে দলের ভবিষ্যৎকে যে কতটা বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন সেটা ২-মে তারিখেই তিনি উপলব্ধি করবেন। এই প্রতিবেদন লেখার ঠিক এই মুহূর্তে কোচবিহারের পরিস্থিতি যে কতটা বিপজ্জনক তা পিকে’র ধারণার বাইরেই থাকার কথা। সমীক্ষার নামে পিকে যাদের এই জেলায় পাঠিয়েছিলেন তাদের মেধাহীন রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া পদক্ষেপ কোচবিহারের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকারক হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। জেলা তৃণমূলের গোষ্ঠী রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ মিহির গোস্বামী এখন রবির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন--তাঁকে পরাজিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালাতে তিনি কসুর করবেন না। তাঁর পেছনে থাকছেন মুকুল-শুভেন্দু-অমিত শাহ’রা। জেলা বিজেপিও সবরকম ক্ষোভবিক্ষোভ ভুলে তাদের বিশেষ টার্গেটেড রবি ঘোষকে হারাতে প্রাণপণে ঝাঁপিয়ে পড়বে। অন্তর্ঘাতের বিষাক্ত রাজনীতি যদি বহু আগে থেকেই এখানে সক্রিয় হয়ে উঠতে না পারতো তাহলে নিজের সাংগঠনিক ক্ষমতার জোরেই রবিবাবু এই দুঃসময়েও অনায়াসে জিততে পারতেন। কিন্তু এই অন্তর্ঘাতই রবিবাবুকে বেশ খানিকটা অস্বস্তিতে রাখবেই। মিহিরের নাম ঘোষণার আগে পর্যন্ত রবিবাবু তাঁর কেন্দ্রে ৫৫-৪৫% সম্ভাবনার জায়গায় ছিলেন--কিন্তু এই মুহূর্তে পরিস্থিতিটা ৫০-৫০%-এ এসে দাঁড়িয়েছে। ভোটের ২১ দিন বাকি--এর মধ্যে তিনি যদি ফাঁক-ফোকড়গুলো খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন তাহলে তিনি এগিয়ে যেতে পারেন। দেখতে হবে তিনি কতটা কি করতে পারেন।
এবারে জেলা তৃণমূলের পক্ষে বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব সমস্যা তৈরি করতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে--জেলায় একটি আসনেও মুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়া। এই জেলায় মুসলিম ভোটারের সংখ্যা কিন্তু কম নয়--ফলে সংযুক্ত মোর্চা দিনহাটা সহ বেশ কিছু আসনে এর পূর্ণ সুযোগ নিয়ে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসিয়ে বিজেপি’র লড়াই অনেকটাই সহজ করে দিতে পারে।
কোচবিহার জেলায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল মহিলা প্রার্থী দেওয়ার কথা বিবেচনার মধ্যে রাখে না--যদিও মহিলাদের সম্পর্কে চিত্তগ্রাহী প্রচুর কথাবার্তা বলে থাকে। কিন্তু মেয়েদের প্রার্থী করার ব্যাপারে তাদের উৎসাহ একেবারেই দেখা যায় না। এবারেও জেলার ৯-টি আসনের একটিতেও মহিলা প্রার্থী হিসেবে কাউকে টিকিট দেওয়া হয় নি। কমবেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কিন্তু উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
জেলা সংগঠনে সিনিয়র নেতাদের কোণঠাসা করে যুবনেতা-কর্মীদের ওপর চোখ বুঁজে নির্ভর করার ফল সুখদায়ক হতে যাচ্ছে না। এমন কী যুব প্রার্থীরাও প্রত্যাশিত ফলাফল করবেই এমন নিশ্চয়তাও এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। তুফানগঞ্জ-কোচবিহার দক্ষিণ এবং শীতলখুচিতে এখনও পর্যন্ত ইতিবাচক তেমন কোনো সঙ্কেত দেখা যাচ্ছে না। কোনো মন্ত্রীকে টিকিট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ ছিল না বলে বিনয় বর্মণকে অবসরে পাঠানো না গেলেও অত্যন্ত কঠিন একটি কেন্দ্রে তাঁকে পাঠিয়ে দেওয়াটা প্রায় চিরনির্বাসনে পাঠানোর মতো ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে। যদিও বিনয়াবত অনুগামীদের দাবি--কঠিন আসনে বিনয়বাবুকে যুদ্ধে পাঠিয়ে দিদি এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে তিনি তাঁকে কতটা ভরসা করেন ! কিন্তু প্রকৃত ব্যাপারটা যে ঠিক কি তা সকলে না বুঝলেও অনেকেই বুঝতে পারছেন। কারণ, কোচবিহার উত্তর কেন্দ্রটিও যে এবারে লস্ট কেস সেটা রাজ্য নেতৃত্বের কাছে মোটেও অজানা নয়--বিশেষ করে পিকে কোম্পানীর ম্যানেজিং ডিরেক্টরের কাছে তো বটেই !
এবারে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে রাজ্য পুলিশ থাকবে না। রাস্তায় বা অলিগলিতেও মস্তানির বিশেষ সুযোগ থাকবে না বলেই দাবি নির্বাচন কমিশনের। মাঝে মধ্যে--কেন্দ্রীয় বাহিনীর লোকজন মহিলা ভোটারদের টানাটানি করছে বা বিজেপিকে ভোট দিতে বলছে--এই ধরণের অভিযোগ তুলে হৈ-চৈ করার সুযোগও বিশেষ থাকবে না--কারণ, এবারে ৫০% বুথেই ক্যামেরা থাকবে। থাকবে ভিডিওগ্রাফিংয়ের ব্যবস্থাও। আঁটোসাঁটো ব্যবস্থার মধ্যে যে ভোট হবে সেই ভোটে যেমন খুশি খেলা’র সুযোগ এবারে থাকবে না। কাজেই কোথাও কোনো খেলা হবে না--যা হবে তার নাম ভোট। এবারের ভোটকে খেলায় পরিণত করতে দেওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে নির্বাচন কমিশনের রয়েছে বলে এখনও পর্যন্ত মনে হচ্ছে না। এইসব বিষয়গুলো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে--এবারে যে কয়টি জেলায় তৃণমূল প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে তার মধ্যে কোচবিহারও থাকতে পারে। আমার জেলা ভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রায় শেষের পথে--সামগ্রিক যে ছবিটা তাতে উঠে আসছে তা রীতিমতো উদ্বেগের !!
কোন মন্তব্য নেই