মন কি বাত!
নয়া দিল্লিঃ প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদি বলেন, 'সামনেই গ্রীষ্ম। এটাই জল সংরক্ষণের সবচেয়ে ভালো সময়। বছরের
দ্বিতীয় 'মন কী বাত' অনুষ্ঠানে
জল সংরক্ষণের পক্ষে জোরাল সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
রবিবার
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশজুড়ে ১০০ দিন 'Catch the Rain' ক্যাম্পেন চালাবে দেশের জল শক্তি মন্ত্রক। কারণ
জল হল, প্রকৃতিক অত্যন্ত দামী এক উপহার। তাই এই সম্পদকে
বাঁচাতে হবে। এই দায়িত্ব সবার।'
উল্লেখ্য,
কয়েক বছর আগেই পশ্চিমবঙ্গে 'জল ধরো
জল ভরো' প্রকল্প চালু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র।
ইতিহাসে
প্রথম। প্রধানমন্ত্রীর নাম ও গীতার ডিজিটাল কার্ডের ভার্সন গেল মহাকাশে। এর
পাশাপাশি রবিবার সকালে মহাকাশে ব্রাজিলের আমাজোনিয়া-১ সহ ১৯টি উপগ্রহ পাঠাল ইসরোর
পিএসএলভি-সি৫১ রকেট। শ্রীহরিকোটা মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র থেকে এই রকেট উৎক্ষেপণ করা
হয়।
প্রসঙ্গত,
ব্রাজিলের তৈরি কোনও উপগ্রহ এই প্রথম মহাকাশে
পাঠানো হল। যা নিয়ে গেল ভারতের মহাকাশযান। PSLV-C51 এর এটি
৫১ তম যাত্রা। সকাল ১০.২৪ মিনিটে উৎক্ষেপণ করা হয়। জানা গিয়েছে ১৮ টি উপগ্রহ নিয়ে
রওনা দিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ছবি মহাকাশ যানের টপ প্যানেলে
বসানো হয়েছে। স্পেস কিডজ ইন্ডিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর
আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্নকে সফল করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি
বেলন, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে গোটা দেশে উদযাপিত করে তাতে নিজের সিলমোহর
বসাতে চান বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। এমনটাই মনে করছে দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এর আগেই ‘অম্রুত
মহোৎসব’ পালনের কথা বলে স্বাধীনতার ৭৫ বছরের হাওয়া তুলে
দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আজ তাঁর ‘মন কি বাত’ রেডিয়ো
অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে তাঁর মন স্পষ্টও করেছেন দেশবাসীর কাছে। ইঙ্গিত দিয়েছেন, দেশের
প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতেও যাতে স্বাধীনতা সংগ্রামে নিয়ে আলোচনা শুরু হয় সে বিষয়ে
সক্রিয় হবে তাঁর সরকার।
আজ
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা, “নিজের এলাকায় দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কথা
লিখুন। তাঁদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঘটনাবলির কথা তুলে ধরুন, যা এর
আগে কখনও সামনে উঠে আসেনি। আপনাদের এই লেখাই হবে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের যোদ্ধাদের
প্রতি আদর্শ শ্রদ্ধাজ্ঞাপন।”
রাজনৈতিক
সূত্রের মতে, সর্দার বল্লভভাই পটেল থেকে মোহনদাস গাঁধী অথবা
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু— স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু
কিংবদন্তিকে নিজেদের রাজনীতির সঙ্গে চিহ্নিত করেছেন নরেন্দ্র মোদী। স্বাধীনতা
সংগ্রামের ইতিহাসে বিজেপি তথা সঙ্ঘ পরিবারের কোনও অবদান নেই এই অভিযোগ হামেশাই
তোলেন বিরোধীরা। আবার স্বাধীনতার পরে গাঁধীজির হত্যার সঙ্গে তাদের যোগাযোগের
অভিযোগও নতুন নয়। তার মধ্যে রয়েছে দলীয় আইকনের অভাব। কংগ্রেসের অভিযোগ, আইকনের
অভাব ঢাকতে কখনও সর্দার পটেল কখনও অম্বেডকরকে ধরে টানাটানি করতে হয়। আসলে বিজেপি,
সঙ্ঘ পরিবার বা তাদের পূর্বসূরিরা কোনও দিন স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ
নেননি। তাঁরা সে সময়ে ব্রিটিশদেরই সাহায্য করতেন। বিরোধীদের এই অভিযোগকে গত ছ’বছরে
উড়িয়ে দিতেই দেখা গিয়েছে মোদীকে। তা-ই নয়, এ বার
স্বাধীনতা সংগ্রামের আবেগদীপ্ত হাওয়াকে জাতীয়তাবাদ ও দেশপ্রেমের পালে লাগাতে
সক্রিয় তিনি এবং তাঁর দল। ২০২২ সালে স্বাধীনতার ৭৫ বছরকে কেন্দ্র করে যে ‘মহোৎসব
রচনা’ করবে তাঁর সরকার, তার
সূচনা এখন থেকেই শুরু করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মোদী। আজ দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি
বলেছেন, “ভারতের সব জায়গায়, সব মফস্সল
এবং গ্রামে স্বাধীনতার লড়াই সমস্ত শক্তি দিয়ে লড়া হয়েছিল। ভারতের প্রতিটি অঞ্চলে
এমন মহান পুত্র ও বীরাঙ্গনাদের জন্ম হয়েছে, যাঁরা
রাষ্ট্রের জন্য জীবনদান করেছেন। আমাদের উচিত তাঁদের সংগ্রাম এবং স্মৃতিকে সম্মানের
সঙ্গে বাঁচিয়ে রাখা।”
আরও
বলেন, আগামী ৫ ডিসেম্বর অরবিন্দ ঘোষের প্রয়াণদিবস।
অরবিন্দের আদর্শে দেশের যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ হওয়ার কথা বলেন মোদী। অরবিন্দের
স্বদেশি শিক্ষা সংক্রান্ত বইয়ের প্রসঙ্গ টেনে সুকৌশলে তাকে 'ভোকাল
ফর লোকাল'-এর পক্ষে ব্যবহার করেন। তবে, ঋষি
অরবিন্দর কথাই কেন টেনে আনলেন মোদী? ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, এটা
প্রথম কিছু নয়। এর আগেও স্বাধীনতা দিবসে বক্তব্য় রাখার সময়ে অরবিন্দ প্রসঙ্গের
উল্লেখ করেন তিনি। একদিকে বঙ্গ-রাজনীতিতে ক্রমশ 'বহিরাগত'
তকমা পেতে পেতে এভাবেই রাজ্যবাসীকে বার্তা দিতে চাইলেন মোদী। তিনি ও
তাঁর দল যে বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আষ্টেপৃষ্ঠে বাধা পড়ে আছেন,
তা বোঝাতেই বারবার একের পর এক বাংলার মনীষীদের উদ্ধৃত করে ভোট বৈরতণী
পারের চেষ্টা।
অন্য
একটা মতও অবশ্য আছে। ওয়াকিবহল মহলের আরেকাংশের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী
নিজের উদ্যোগে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসের জন্মদিন ২৩ জানুয়ারিকে 'জাতীয়
ছুটি' হিসাবে ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছেন। নেতাজির ১২৫ তম
জন্মজয়ন্তীর আগেই প্রধানমন্ত্রী এই কাজটি ব্যক্তিগত উদ্যোগে করুন, এমন
অনুরোধ সরাসরি নরেন্দ্র মোদীর কাছে রাখেন মমতা। ঠিক তার পরপরই অরবিন্দ ঘোষকে
বক্তব্যে নিয়ে আসা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাস্তায়
হাজার হাজার কৃষক। নতুন কৃষি বিল প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন তাঁরা। তা
ফিরিয়ে নেওয়ার ভাবনা নেই সরকারের, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আকাশবাণীতে মাসিক 'মন কি
বাত' শীর্ষক অনুষ্ঠানে মোদী বলেন,''ভারতে
কৃষি ও কৃষি সংক্রান্ত কাজে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। কৃষকদের জন্য নতুন
সম্ভাবনার দরজা খুলেছে কৃষি সংস্কার।''
গত কয়েক
বছর ধরে কৃষি সংস্কারের দাবি করে আসছিলেন কৃষকরা, সে কথা
স্মরণ করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,''কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সব রাজনৈতিক
দলই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন তা পূরণ হয়েছে। অনেক আলোচনার পর কৃষি আইনে সংস্কার
হয়েছে। অধিকার পেয়েছেন কৃষকরা। নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। কৃষকদের সমস্যার সমাধান
হয়েছে।''
নতুন
কৃষি আইনের সুবিধার কথা বলতে গিয়ে মহারাষ্ট্রের জনৈক ভুট্টা চাষির উদাহরণ টেনে
এনেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন,'' মহারাষ্ট্রের
কৃষক জিতেন্দ্র ভইয়ের ফসলের দাম ঠিক হয়েছিল ৩ লক্ষ ৩২ হাজার। কিছু টাকা দিয়ে বাকি
টাকা ১৫ দিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ক্রেতা। তবে মেলেনি। ৪ মাস সেই টাকা
পাননি। এটা অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। নতুন কৃষি আইন কাজে দিয়েছে জিতেন্দ্রর। আইনে
রয়েছে, ফসল ক্রয়ের সম্পূর্ণ টাকা মেটাতে হবে ৩ দিনের
মধ্যে। কৃষকের অভিযোগের এক মাসের মধ্যে তার সমাধান করতে হবে। কয়েকদিনের মধ্যে
ভুট্টার পুরো দাম পেয়েছেন জিতেন্দ্র। নতুন আইন তাঁকে সক্ষম করেছে।''
প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদীর 'মন কি বাত'-এর
শেষপর্বে আজ উঠে এল ঋষি অরবিন্দ প্রসঙ্গ। তাঁর 'ভোকাল
ফর লোকাল'এর পক্ষে বলতে গিয়ে তিনি টেনে আনলেন অরবিন্দ
ঘোষের কথা। উনিশ শতকের কবি মনমোহন বসুর লেখা একটা কবিতাও বাংলায় পড়ে শোনান তিনি।
বলেন, জীবনের সাধারণ থেকে সাধারণতম জিনিসের জন্য বিদেশি
দ্রব্যের উপর নির্ভর করার প্রবল বিরোধিতার কণ্ঠ ছিলেন বাংলার সেরা মেধারা। ১৮৮৫
সালে জাতীয় কংগ্রেস তৈরি হওয়ার পর 'দিনের দিন সবে দীন' কবিতার
এই অংশটি পাঠ করেন নমো। 'ছুঁই সুতো পর্যন্ত আসে তুঙ্গ হতে/দীয়াশলাই কাটি,
তাও আসে পোতে/ প্রদীপটি জ্বালিতে, খেতে,
শুতে, যেতে/কিছুতেই লোক নয় স্বাধীন।' ব্যাখ্যা
করে তিনি বলেন, পরাধীনতার সময় সূচ, সুতো,
দেশলাই কাঠি সবই আসত বিদেশ থেকে। কোনও কিছুতেই স্বাধীনতা ছিল না।
এরপরই ভোকাল ফর লোকালের সপক্ষে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বিদেশি
দ্রব্য বর্জন মানে বিদেশের যা কিছু ভাল, তাকে
বর্জন করা নয়। কিন্তু দেশের মাটিতে যা তৈরি সম্ভব, তাকে
বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। ভারতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলার ডাক বাংলার মনীষীরা দিয়েছিলেন,
তা আজ 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে
আরও একবার মনে করালেন মোদী।









কোন মন্তব্য নেই