রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপি’র পর সিপিএম প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্যে ঘুঁটি সাজাচ্ছে !!
যদিও ইতিমধ্যেই সিপিএম নেতা সুজন চক্কোত্তি মশাই সিঙ্গুরে
ঘোষণা করেই দিয়েছেন তাঁরাই ক্ষমতায় ফিরছেন এবং প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই তাঁরা
সিঙ্গুরে শিল্পস্থাপনের প্রস্তাব গ্রহণ করতে চলেছেন। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিনদশক
ক্ষমতায় থাকার পর আকস্মিকভাবেই পুরোপুরি কোমায় চলে যাওয়ার পর খুবই সঙ্গত কারণেই
তাঁদের মস্তিষ্ক যে কতটা অসাড় হয়ে গিয়েছিল তা তাঁরা ঠিকঠাক না বুঝলেও রাজ্যের
মানুষের বুঝতে অসুবিধে হয় নি। এ সত্য খুবই স্পষ্টভাবে বোঝা গিয়েছে ২০১৪ সালের
লোকসভা ও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেই। প্রবল দাপুটে একটা হাইফাই তাত্ত্বিক
মতাদর্শের দল থেকে হাজারে হাজারে কর্মী-সমর্থকরা ছুটে পালাতে লাগলো কেন এবং
বিশুদ্ধ বাম মতাদর্শে তাদের চিন্তা-চেতনাকে কেন আবদ্ধ রাখা গেল না তা এখনও তারা
বুঝে উঠতে পারেন নি। তাঁরা সব বোঝেন--কিন্তু এটাই বোঝেন না যে--রাজনৈতিক দলের
সিংহভাগ কর্মী-সমর্থক (এবং কিছু নেতাও) অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সঙ্গে নিজেদের যুক্ত
রাখার কথা ভাবতেই পারেন না। যে তৃণমূল বাম ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিয়তার মুখে ঠেলে
দিয়েছিল সেই তৃণমূলের দিকেই দৌড়তে শুরু করে দিল সুযোগ সন্ধানী দলীয় কর্মী
সমর্থকরা। তখনও বিজেপি’র ভবিষ্যৎ তৈরি না হওয়ায়
এবং ক্ষমতায় বসেই তৃণমূল বিন্দুমাত্র বাছবিচার না করে দু’হাতে নালা-নর্দমা থেকে আবর্জনার ধেয়ে আসা স্রোতকে যেভাবে
নিজের স্রোতের সঙ্গে মিলিয়ে দিতে পাগল হয়ে উঠলো তার পূর্ণ সুযোগ নিতে একটুও দেরি
করল না সুযোগসন্ধানীরা। ফলে একদিকে যেমন সাময়িকভাবে বিচ্ছিরী রকমের ফুলে ফেঁপে উঠলো তৃণমূল তেমনই নীরস শুকনো
কাঠে পরিণত হল সিপিএম (বাম) এবং কংগ্রেসও। পুলিশ-প্রশাসন এবং
সেলিব্রেটি-বুদ্ধিজীবি মহলে সিপিএমের যে প্রবল দাপট ও প্রভাব তৈরি হয়েছিল তাও
রাতারাতি গিরগিটির চেহারা নিতে সময় নিল না। রঙচঙ মেখে সাজুগুজু করে সিপিএমেরই দেগে
দেওয়া সেলিব্রেটি-বুদ্ধিজীবির দল বামপন্থার প্রতি তাদের প্রগাঢ় আস্থা ও বিশ্বাস সব
জলাঞ্জলি দিয়ে তৃণমূলের মঞ্চ আলোকিত করার জন্যে ঝাঁপিয়ে পড়তে লাগলেন। রাজ্যের
মানুষ সবিস্ময়ে সিপএমেরই উচ্ছিষ্টভোগী এই গিরগিটি এলিট আঁতেলদের সার্কাস দেখছিল
এবং আজও দেখছে--তবে সেই সার্কাস এরিনা থেকে আলোর ফোকাসটাও যে এখন একটু একটু করে
সরে যাচ্ছে সেটাও মানুষ টের পাচ্ছে বৈকি ! সিপিএম-কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ এই মুহূর্তে অনিশ্চিত বলেই দল বেঁধে রঙচঙ মেখে সেলিব্রেটি-বুদ্ধিজীবিরা
কিন্তু সিপিএমের বা কংগ্রেসের মঞ্চ ‘আলোকিত’ করতে আসেছেন না। তাঁরা এখন রাজ্যরাজনীতিতে বিজেপি’র নিশ্চয়তার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছেন--তাই অভিমুখও বদলে
ফেলছেন ! ক্ষমতাসীনের আলোয় নিজেদের আলোকিত করা ও বিশিষ্ট চিহ্নিত হওয়াটাই এ দেশের
সেলেব বুদ্ধিজীবিদের চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য। ঠিক এই কারণেই এরাও সুযোগসন্ধানী হিসেবে
চিহ্নিত হয়ে যান। কোনো রাজনৈতিক তত্ত্ব বা মতাদর্শ নিয়ে এদের খুব বেশি মাথাব্যথা
দেখা যায় না।
যে স্টাইল এবং প্রক্রিয়ায় তৃণমূল তাদের আয়তন রাতারাতি বেলুন
থেকে ফানুসে পরিণত করার দিকে মনপ্রাণ ঢেলে দিয়েছিল তা থেকে আমার মনে হয়েছিল একদিন
নিশ্চিতভাবেই তাসের ঘরের মতোই হুড়মুড় করে না হলেও তৃণমূলের গোটা কাঠামোটাই নড়বড়ে
হয়ে পড়বেই। আমি খুব স্পষ্ট করেই সে কথা লিখেও ছিলাম। আজ তা অক্ষরে অক্ষরে মিলে
যাচ্ছে। এ রাজ্যে যে মুহূর্ত থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের মনে হয়েছিল সিপিএমকে সরিয়ে
ক্ষমতায় বসার জন্যে ৩০-৩৫% সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে টানতেই হবে সেই মুহূর্তেই
বিজেপি’র সঙ্গে তাদের মধুর সখ্যতা ঘুচে যায় এবং সেই
মুহূর্ত থেকে বিজেপি তৃণমূলকে ‘গদ্দার-মীরজাফর’ হিসেবে চিহ্নিত করে সুযোগের অপেক্ষায় থাকা শুরু করে দেয়।
২০১৪ সালের আগে পর্যন্ত বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে এ রাজ্যে তাদের রাজনৈতিক
প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করতে পারে নি। কারণ এ রাজ্যে তাদের দলের সাইনবোর্ড ছিল, কিছু বচনবাগীশ নেতাও ছিল, সঙ্ঘসংশ্লিষ্ট কিছু
ক্যাডারও ছিল--কিন্তু ছিল না রাজনৈতিক মেধা সম্পন্ন দক্ষ রাজনৈতিক সংগঠক
নেতা-কর্মী। দলকে ভোটরাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করে তোলার দায়িত্ব বহনের মতো কেউ
বিজেপিতে ছিল না। সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে শেষপর্যন্ত সুযোগ এসেই গেল
বাম-কংগ্রেসের সৌজন্যেই। তাদেরই অভিযোগ ও দাবির ভিত্তিতেই বিরাট মাপের চিটফাণ্ড
কাণ্ডের তদন্ত ভার হাতে নিল সিবিআই। তার আগেই রাজ্য সরকার তথা তৃণমূল কংগ্রেস
সরকার রাজীব কুমারের নেতৃত্বে সিট গঠন করে যে কাণ্ড কারখানা শুরু করে দিয়েছিল তাতে
চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারির মারাত্মক চেহারাটা সামনে উঠে এসেছিল। কুণাল ঘোষ বলির পাঁঠা
হলেন--সুদীপ্ত-দেবযানী জেলে ঢুকলেন--প্রচুর নথিপত্র গায়েব হয়ে গেল। আরও বহু কাণ্ড
ঘটে গিয়েছিল যার বিস্তৃত বিশ্লেষণে যাওয়ার দরকার নেই। শুধূ এই টুকুই বলার--এ সবই
ঘটে গিয়েছিল ২০১৪ সালে দেশের রাজনৈতিক মহলকে হতবাক্ করে নরেন্দ্র মোদী
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের আগেই। নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ
ক্ষমতাসীন হওয়ার মুহূর্ত থেকেই বাংলাকে পাখির চোখ করে ঝাঁপিয়ে পড়তে চাইলেও
পারছিলেন না বঙ্গ বিজেপি’র স্রেফ বচনবাগীশ অকর্মণ্য
অদক্ষ রাজনৈতিক মেধাহীন নেতা-কর্মীদের কারণেই। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তাই
মাত্র তিনজন বিধায়ক নিয়ে তাঁদের তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রে ক্ষমতায় বসেই
দুটি তীক্ষ্ন ধারালো অস্ত্র সিবিআই ও ইডিকে ব্যবহার করার নিখুঁত পরিকল্পনা নিতে
বিজেপি দেরি করে নি। সিবিআই এবং ইডি অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে তাদের দায়িত্ব পালনে
কোনো ত্রুটি না রাখলেও রাজ্যরাজনীতিতে বিজেপি নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করতে
পারছিল না তাদের অত্যন্ত দুর্বল সাংগঠনিক ক্ষমতা ও মেধার কারণেই। ঠিক এই
দিনগুলিতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধির যে লড়াই শুরু হয়ে
গেল তাতে মুকুলের ক্ষমতা ও প্রভাব রীতিমতো প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়াল। ঠিক সেই
সময়েই বিজেপি’র ভেতর থেকে আওয়াজ উঠলো--‘ভাগ মুকুল ভাগ’! কাকতলীয় মনে হলেও এই
আওয়াজের একটা মারাত্মক রাজনৈতিক তাৎপর্য কিন্তু ক্রমশঃই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। তৃণমূল
দলের মধ্যেই মুকুল কেউ বা কোনো লবির সামনে বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে
পড়ছিলেন--ফলে তাঁকে দল থেকে ভেগে যাওয়ার কথাই শেষপর্যন্ত ভাবতে হয়েছিল। তিনি তাঁর নিজের হাতে তৈরি দল থেকেই ভাগতে বাধ্য হলেন। তিনি
বিজেপিতেই গেলেন। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হল এটাই যে--তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত
এখনও চলছে--এখনও তাঁকে নোটিশ পাঠানো হয় এবং তাঁকে ক্লীনচিট দিয়ে সিবিআই এখনও
চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করে নি। সিবিআইকে দিয়ে বিজেপি’র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক কি
সেটা করতে পারতো না? কিন্তু কেন করে নি সেটা
তলিয়ে কি তৃণমূলের কেউ ভেবে দেখেছে? কেন কেন্দ্রে ক্ষমতায় বসার
ছ’বছর অতিক্রম হতে চললেও সিবিআই চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করছে না? চূড়ান্ত চার্জশিট পেশ করা হয়ে গেলে সিবিআই তদন্ত নিয়ে যে
আশঙ্কার মেঘ জমে আছে তা কেটে যাবে। তৃণমূলের অভ্যন্তরের প্রভাব বৃদ্ধি ও ক্ষমতা
দখলের লড়াই অনেকটাই স্তিমিত হয়ে যাবে। দলের ভাঙনও আটকে যাবে।
মুকুলকে প্রায় লুফে নিয়েছিল বিজেপি। অমিত শাহ’র রাজনৈতিক মেধার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র
মুকুলেরই ছিল--আর তা ছিল বলেই ২০১৬ সালেও মুকুলের সাংগঠনিক দক্ষতার কারণেই তৃণমূল
সারদা-নারদা কাণ্ডের পরেও ২১১-টি আসনে জিতে ক্ষমতায় ফিরতে পেরেছিল। মুকুল দল ছাড়ার
পর ২০১৮’র পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৬% আসন বিনা লড়াইতে ছিনিয়ে
নিতে হয়েছিল তৃণমূলকে। তবু বিজেপি তৃণমূলকে যথেষ্ট পরিমাণে উদ্বিগ্ন করতে পেরেছিল। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে আজকের
মতোই হুঙ্কার দিয়েছিল তৃণমূল--৪২-এ ৪২ বলে ! ফলাফল কি হয়েছিল সেটা কারুর বুঝতে
বাকি নেই। শুধুমাত্র মুকুল রায়--এই নামটা সঙ্গে থাকলে বা না থাকলে কি হয় সেটা
অভিষেক তো ‘বাচ্চা ছেলে’ স্বয়ং মমতাও বুঝতে
ভুল করলেও অমিত শাহ বুঝতে ভুল করেন নি। তাই এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সেই
মুকুলকে দিয়েই তৃণমূলকে এমনভাবে ভেঙে দিলেন যে দুর্গের চতুর্দিকের ফাটল সামলাতে
নামাতে হচ্ছে কুমড়োনৃত্য বিশারদ মদন মিত্র, মমতাকে
সারদা-রোজভ্যালির সবচেয়ে বড় বেনিফিশয়ার চিহ্নিতকারী তথা পুলিশভ্যান বাজিয়ে
নিত্যদিন নানা রকম কেলো বাইরে আনা কুণাল ঘোষ, দিনের পর দিন
হাইকোর্টে রাজ্যসরকারকে হেনস্থা করার কারীগর কল্যাণ ব্যানার্জ্জী, ‘স্বামী কেন পর’ যাত্রাপালার
কিন্নরকণ্ঠী নেত্রী সুজাতা খাঁ, অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে
লাঞ্ছনাকারী ঋতব্রত ব্যানার্জ্জী প্রমুখ বহুচর্চিত জনঅরুচিকর সব সৈন্য-সামন্তদের !
ইতিমধ্যে সিবিআই কালীঘাটের দুয়ারে প্রবল
সন্দেহের বাতবরণও পৌঁছে দিয়েছে। বিজেপি শুধু মুকুল রায়কেই নয়--পেয়ে গেছে শুভেন্দু
অধিকারী-রাজীব ব্যানার্জ্জীর মতো অত্যন্ত দক্ষ সংগঠক ও জনপ্রিয় জন নেতাদের। তাদের
এই পাওনাটা তাদের কতটা উজ্জীবিত এবং সমৃদ্ধ করেছে তা তাদের এবারের প্রতিটি রোড-শো
এবং জনসভার চেহারা দেখেই মানুষ বুঝতে পারছে।
সিবিআই এবং ইডিকে হাতের মুঠোয় রেখে বিজেপি তদন্তকে বিলম্বিত
করার মধ্য দিয়ে তৃণমূলের শক্তপোক্ত কাঠামোটাকেই শুধু দুর্বল করছে তাই নয়--
বাম-কংগ্রেসেকে প্রায় লুপ্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে বিরোধীশূন্য রাজনীতি কায়েমের
তৃণমূলী প্রবণতাকেও নিজেদের কাজে লাগাতে চেষ্টা করে এসেছে। নিজেদের শক্তিতে এ
রাজ্যে প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে ওঠার ক্ষমতা বিজেপি’র ছিল না। বাম-কংগ্রেসকে
মুছে দেওয়াও তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না--যাদের পক্ষে
সম্ভব ছিল তারা যখন সেই কাজটাই করছে তখন তাদের প্রয়োজনীয় সময় দেওয়াটাকেই যুক্তিযুক্ত বলে বিজেপি মনে করেছে। প্রায় বিরোধীশূন্য
ক্ষমতা কায়েম করার পরেই বিজেপি তৃণমূলকে বাইরে থেকে ও ভেতর থেকে এক যোগে দুর্বল
করার রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে একটুও ভুল করে নি।
মুকুল-শোভন-শুভেন্দু-রাজীব-সব্যসাচীদের মতো নেতাদের দলে টেনে এনে তৃণমূলকে উপযুক্ত
জবাব দেওয়ার যে কৌশল নিয়েছিল তাতে তাদের সাফল্য নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তৃণমূল
মানুক আর নাই মানুক--তারা এখন অস্তিত্বের গভীর সঙ্কটে পড়ে গেছে।
বিজেপি’র বিরুদ্ধে তৃণমূল আক্ষরিক অর্থেই একেবারে একা
হয়ে যাক--এটাই বিজেপি চেয়েছিল। বিজেপি চেয়েছিল--বিজেপি বিরোধী ভোট দু’তিন ভাগে ভাগ হয়ে যাক--সেটাই হতে চলেছে শেষপর্যন্ত।
ঠিক এই পরিস্থিতিতে সিপিএম চাইছে আগে তৃণমূলকে হারাতে।
তৃণমূলকে হারিয়ে তারা প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে উঠতে যদি পারে তাহলে পরবর্তী
নির্বাচনে বিজেপিকে হারানো খুব কঠিন হবে বলে তারা মনে করছে না। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও তারা মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছে
সংখ্যালঘু ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে জোট তৈরি করে হারানো সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে
টেনে আনার জন্য। ১৯৪৬ সালে মুসলিমলীগের মঞ্চে জ্যোতি বসুও এসেছিলেন এক সময়ে। ২০২১
সালে বিমান বসু তাঁদের মঞ্চ শেয়ার করতে চলেছেন আব্বাস পীরজাদার নব গঠিত দলের
সঙ্গে। সিপিএমের ধারণা তাদের আগামীকালের বিগ্রেড জনসভা সর্বকালীন রেকর্ড সৃষ্টি
করবে। ঠিক তেমনটা হবে কিনা জানি না--তবে, ভিড় যে ভালই হবে তা
নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই ভিড় এবারে খুব বেশি হলে লোকসভা নির্বাচনে
তাদের প্রাপ্ত ভোট দু’আড়াই শতাংশ’র চেয়ে বেশি বাড়বে না। তাও এই বৃদ্ধি ঘটবে কংগ্রেস ও ‘সেকুলর ফ্রন্ট’-এর (আব্বাস)
সৌজন্যেই। বিগ্রেড ভরাতে যারা আসবেন তারা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসবেন এবং
কোনো কেন্দ্র থেকেই জিততে পারেন এমন সংখ্যায় আসবেন না। যে সব কেন্দ্র থেকে তারা
আসবেন সেইসব কেন্দ্রে তাদের তুলনায় তৃণমূল ও বিজেপি’র ভোটার সংখ্যা অনেক বেশি।
গত লোকসভা নির্বাচনে এ রাজ্য থেকে সিপিএম (বাম) একটিও আসন পায় নি। বিধানসভায় তাদের
প্রাপ্তি শূন্য না হলেও ২০-২৫-এর বেশি হবে বলে এক্ষুণি মনে করা যাচ্ছে না। তবে এটা
ঠিকই যে, সিপিএম-কংগ্রেস-আব্বাস জোট উল্লেখযোগ্যভাবেই
ক্ষতি করবে শুধুমাত্র তৃণমূলেরই--বিজেপি’র নয়। কারণ, আগেই বলেছি--সুযোগসন্ধানী যারা তাত্ত্বিক মতাদর্শের ধার
ধারে না তারা কখনোই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পাশে দাঁড়ায় না। সিপিএম বা কংগ্রেসের
ভবিষ্যৎ এই মুহূর্তে পুরোপুরি অনিশ্চিত। সুতরাং যারা দলছুট হয়ে গত লোকসভা
নির্বাচনে বিজেপির তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে তারা সিপিএম বা কংগ্রেসে ফিরে আসবে না।
যারা তৃণমূলে গিয়েছিল তাদের একটা অংশ তৃণমূলকে ডুবন্ত জাহাজ মনে করে ফিরে এলেও
বিজেপি’র তাতে কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, ইতিমধ্যেই শুভেন্দু-রাজীব তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত কাঁপিয়ে
দিতে পেরেছেন। অনেকেই তা এই মুহূর্তে মানতে চাইবেন না--ফলাফল প্রকাশিত হওয়া
পর্যন্ত তারা অপেক্ষা করতেই পারেন।
তৃণমূলের নিশ্চিত সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে নিশ্চিতভাবেই
সিপিএম-কংগ্রেস-আব্বাস জোট বেশ খানিকটা থাবা বসাবেই। ফলে সুবিধেজনক জায়গায় চলে
যাবে বিজেপি। বিজেপি বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে যাবে দুটি বড় ঘরে--এর একটা প্রত্যক্ষ লাভ
বিজেপি পাবেই। বিজেপি’র ভোট যদি মোটামুটি অটুট
থাকে তাহলেই ঘোর সঙ্কটে পড়ে যাবে তৃণমূল। পরিস্থিতি এমনও হতে পারে
সিপিএম-কংগ্রেস-আব্বাস জোট তৃণমূলকে পেছনে ফেলে দিয়ে প্রধান বিরোধী শক্তি হয়ে গেল
! একেবারেই অসম্ভব নয় কিন্তু বিষয়টা। প্রার্থী তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর কতটা কি
প্রতিক্রিয়া ঘটে তা দেখার পরেই প্রকৃত ছবিটা সামনে উঠে আসবে। তার আগে নিশ্চিত করে
কিছু বলা কঠিন। আমিও তাই প্রার্থী তালিকার অপেক্ষায় রয়েছি !!









কোন মন্তব্য নেই