Header Ads

স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গে চাকুরী হারিয়ে অভাবে পড়ে আত্মঘাতী হলেন শিক্ষিকা স্ত্রী, মাথামুন্ডন করে প্রতিবাদে সরব হলেন চাকুরীচ্যুতরা

নয়া ঠাহরের প্রতিবেদন, আগরতলা : নিজের দুগ্ধপোষ্য শিশুকে দুধ কিনে খাওয়ানোর মত টাকা  জোগাড় করতে না পেরে অভিমানে আত্মহত্যা করলেন চাকুরীচ্যুত শিক্ষিকা রুমি  দেববর্মা। সুপ্রিম  কোর্টের  রায়ে  চাকুরী চলে যায় ত্রিপুরা র ১০৩২৩ শিক্ষকদের। ২০১৮ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা  ভোটের  আগে  বিজেপি দলের  নেতা - কর্মীরা  বাড়ি বাড়ি  গিয়ে, বিলাসবহুল  হোটেলে ডেকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রয়োজনে  দেশের আইন সংশোধন করে তাদের  বহাল রাখা হবে চাকুরীতে। ভোটে জিতে বেমালুম ভুলে গেছেন প্রতিশ্রুতির কথা। ২০২০ সালের মার্চে চাকুরি হারিয়ে ত্রিপুরার  ১০৩২৩ শিক্ষক - শিক্ষিকারা এখন রাজপথে। রাজধানী আগরতলার প্যারাডাইস চৌমুহনীতে চাকুরির স্হায়ী সমাধানের দাবিতে ৭ ডিসেম্বর  থেকে ৩৪ দিন ধরে দিনরাত এক করে বসে আছেন চাকুরীচ্যুত শিক্ষক  - শিক্ষিকারা। কোন হেলদোল  নেই হীরা সরকারের। এই কনকনে ঠান্ডায় ছোট ছোট  ছেলেমেয়েদের  নিয়ে বসে থাকা শিক্ষক  - শিক্ষিকাদের ডেকে একবারও কথা বলার প্রয়োজন বোধ মনে করেননি সরকারের মন্ত্রী,অফিসাররা। গন - অবস্থান  মঞ্চে  বসে ৩ সহকর্মীর মৃত্যু সংবাদ পেলেন চাকুরীচ্যুত শিক্ষক  - শিক্ষিকারা। দীর্ঘ  অসুস্থতার পর গনেশ দেবনাথের মৃত্যুর  পর  ২ জানুয়ারী  সকালে অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন  দক্ষিণ ত্রিপুরার রাজনগরের মনাইপাথরের কমলাকান্ত পাড়ার চাকুরীচ্যুত শিক্ষক  উত্তম  ত্রিপুরা। শনিবার বিকেলে খোয়াই জেলার  আমপুরার নক্ষত্র পাড়ার চাকুরীচ্যুত বিষয় শিক্ষিকা রুমি দেববর্মা নিজের  ১ বছর  ২১ মাস বয়সী শিশুকে অ্যসিড খাইয়ে নিজেও   অ্যাসিড খেয়ে আত্মহত্যা করেন। আশন্কাজনক অবস্থায়  মা ও শিশুটিকে আগরতলায় নিয়ে আসা হলে আগরতলার একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় মেধাবী রুমির। হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা  লড়ছে  ছোট্ট  ছেলেটি। ত্রিপুরার পিছিয়ে  পড়া উপজাতি ঘরের মেয়ে রুমি ছিলেন গোল্ড মেডেলিস্টও। স্বামী দীনেশ  দেববর্মাও চাকুরীচ্যুত শিক্ষক। একই দিনে চাকুরী হারিয়েছেন  দু - জনই। রুমির মৃত্যুর  খবর  শুনে  তীব্র  ক্ষোভে ফেটে  পড়েন চাকুরীচ্যুত শিক্ষক  - শিক্ষিকারা ও গোটা রাজ্যের মানুষ। চাকুরীচ্যুত হওয়ার আদেশ বের হওয়ার পর  এই নিয়ে মোট  ৭৯ জন শিক্ষক - শিক্ষিকা মারা গেলেন।    ১০৩২৩ যৌথ  সংগ্রাম  কমিটির নেতা কমল দেব সরকারকে তীব্র   হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, এইভাবে ধৃতরাষ্ট্রের মত বসে থাকবেন না।  আগুন নিয়ে খেলবেন না। দ্রুত তাদের  বিষয়টি  স্হায়ী  সমাধানের  উদ্যোগ নিতে ফের জোরালো দাবি জানান  সরকারের  কাছে। সরকারের অমানবিক  ভুমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে গন - অবস্থান  মঞ্চের সামনে বসে মাথা ন্যাড়া করে প্রতিবাদ জানান চাকুরিচ্যুত শিক্ষক - শিক্ষিকারা।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.