রিপুণ বরাকে মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রোজেক্ট করার ক্ষেত্রে বড় বাধা কংগ্রেস, বিজেপি নয়
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি : প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি রিপুন বরার পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল রাজ্য কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতি। এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক তথা অসমের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক জিতেন্দ্র সিং, কেন্দ্রীয় নেতা পৃথীরাজ প্রভাকর, আদিত্য শর্মা, বিকাশ শর্মা প্রমুখদের উপস্থিতিতে কংগ্রেসের নির্বাচনমুখী প্রস্তুতি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। সেখানে প্রদেশ কংগ্রেস দলের ৩২ জন সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ থাকতে একরকম সমীকরণ ছিল। বর্তমানে সেই সমীকরণ ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেছে। সাংসদ প্রদ্যুত বরদলৈ, দেবব্রত শইকিয়া, রকিবুল হোসেইন প্রমুখ তরুণ গগৈকে ভবিষ্যত মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রোজেক্ট করে ছিলেন। তবে প্রকাশ্যে নয়। পাশে ছিলেন সাংসদ গৌরব গগৈও। তরুণ গগৈ স্বয়ং প্রোজেক্ট করছিলেন পুত্র গৌরবকে। তাকে পরবর্তী দলের সভাপতি পদে বসাতে চেয়েছিলেন, যাতে ভবিষ্যতে দিসপুরের মসনদে বসতে অসুবিধা না হয়। সবকিছু ওলট-পালট হয়ে গেল। এখন সেই চক্র দলের সভাপতি হিসাবে রিপুণ বরাকে বিশেষ পছন্দ করেছেন না বলে রজীব ভবনের একাংশের অভিমত। যা প্রকাশ্যে বলেছেন রূপজ্যোতি কুর্মি। এমন কি বরাকের ভোকাল যুব নেতা কামালাক্ষ্য দে পুরকায়স্থ সহ কয়েকজন ইতিমধ্যে সভাপতি পাল্টানোর দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। পরে কংগ্রেস হাই কমান্ডের মনোভাব দেখে সরে এসেছেন। রাহুল গান্ধী, সোনিয়া গান্ধী ও তরুণ গগৈর মৃত্যুর পর তাদের স্থিতি পরিবর্তন করেছেন। সোনিয়া চোখ বন্ধ করে তরুণজিকে সমর্থন করে ছিলেন। এখন রাহুলের উপর সব ছেড়ে দিয়েছেন। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রাহুল অসমে আসবেন। তখন এআইইউডিএফের সঙ্গে কংগ্রেসের সমঝোতা হতে পারে, তবে আসন সমঝোতা হওয়ার সম্ভবনা বেশি। বদরুদ্দীন আজমল সারা বিশ্বে পারফিউমের ব্যাবসা করেন। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের দয়া দাক্ষিণ্য ছাড়া এত বড় ব্যাবসা সম্ভব নয়। বিজেপিকে চটিয়ে কংগ্রেস দলের সঙ্গে আঁতাত করা অসম্ভব। বদরুদ্দীন সায়েব মূল্যবোধের রাজনীতি করেন না। তিনি অসম জাতীয় পরিষদ, রাইজের দল সহ সব আঞ্চলিক দলের সঙ্গে বিশেষ করে অখিল গগৈর সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলতে চান। অগপ সভাপতি অতুল বরা তো বলেই দিলেন, নতুন আঞ্চলিক দলগুলির গায়ে আতরের গন্ধ, কংগ্রেস দলের সঙ্গে মুখে তথাকথিত সমঝোতার কথা বললেও তলে তলে বিজেপিকে সমর্থন করে যাবেন বদরুদ্দীন। কারণ বিশ্বব্যাপী ব্যবসাকে তো বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কংগ্রেস নেতারা সেকথা বললেও এআইইউডিএফের লক্ষ লক্ষ মুসলিম ভোটারকে পাশে পাবার জন্য বদরুদ্দীন সায়েবকে দূরে ঠেলে দিতে পারছে না। সভাপতি রিপুণ বরা এখন কংগ্রেস হাইকমান্ডের সমর্থন পাচ্ছেন। সারা রাজ্যে দিন রাত ঘুরে প্রচার করছেন। পাশে গরিষ্ঠ সংখ্যক কংগ্রেসকে পেলেও মুষ্টিমেয় কয়েকজন দূরে দূরে থাকছেন। রিপুণ বরা এখনও এআইইউডিএফের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলছেন। তিনি কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সমর্থন পাবেন না। তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রোজেক্ট করতে চাননা একাংশ কংগ্রেস নেতা। নিজের একান্ত চেষ্টায় রিপুণ বরা এগিয়ে যাচ্ছেন। এআইইউডিএফ দলের সম্পদ গরিব-অশিক্ষিত মুসলিম ভোটার, যারা বদরুদ্দীন সায়েবের সভাতে ভিড় করবেন আর মন্ত্র পুত বোতলের জল খাবেন। দারিদ্রতা আর মুসলিম স্বাভিমান বিক্রি করে এআইইউডিএফের আগের থেকে বেশি আসনে জয় লাভ করবে বলে দিল্লির এক সমীক্ষক দল বলেছে।
ওদিকে, ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায় হিন্দু বাঙালিরা ৩৭টি বিধানসভা কেন্দ্রে
রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। তার মধ্যে, হোজাই ও লামডিং বিধানসভা কেন্দ্র দুটি হচ্ছে হিন্দু বাঙালি
সংখ্যাগরিষ্ঠত। হোজাই বিধানসভা কেন্দ্রটি ১৯৫৯ সালে গঠিত হয়েছে। এখানে প্রাক্তন
মন্ত্রী প্রয়াত শান্তি দাশগুপ্ত পঁচিশ বছর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। হোজাইর বিধায়ককে
সাধারণত ক্যাবিনেটে অন্তর্ভূক্ত করা হয়ে থাকে। তারপর কুড়ি বছর ডাঃ অর্ধেন্দু
কুমার দে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। যদিও সম্ভবত অর্ধেন্দুর জমানা সমাপ্ত হতে চলেছে।
কারণ এআইসিসি-র এক সূত্রমতে, সত্তোরোর্ধ
কোনো ব্যক্তিকে কংগ্রেস দল ইতিমধ্যে প্রার্থিত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার বিজেপির উর্বর জমি হিসেবে বিবেচিত এমন এক
ব্যক্তিকে প্রার্থিত্ব দিতে ইচ্ছুক, যাতে বাঙালির এই পরম্পরাগত কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে হিন্দু
বাঙালির স্বাভীমানত রক্ষা করতে পারেন। মোদ্দাকথা, আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেস দলের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে
বহু বাঙালি নবাগত চেহারা আসতে পারে বলে জানা গেছে।









কোন মন্তব্য নেই