প্রধানমন্ত্রী টিকাকরণের সূচনা করবেন অসমে স্বাস্থ্য মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী শুরু করবেন
অমল গুপ্ত, গুয়াহাটি একবছরের বেশি সময় থেকে সারা বিশ্বে অজ্ঞাতপরিচয় সংক্রামক রোগ কোভিড ১৯ বা করোনা সংক্রমণ চলছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ আক্রান্ত, কোনো প্রতিষেধক ছিল না। বিশ্বের বিভিন্নদেশে এই রোগের নতুন স্ট্রেন শুরু হয়েছে। ভারতে ক্রমশ সংক্রমণ হ্রাস পাচ্ছে। কিন্তু আত্মসন্তষ্টে ভুগলে চলবে না। এই অবস্থার মধ্যে ভারতের বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার করা কোভিশিল্ড ও কভাক্সিন এই দুই ভ্যাকসিন দেশে কাল থেকে শুভ সূচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামীকাল অনুষ্ঠিকভাবে সূচনা করবেন। প্রথম পর্যায়ে ৩০ কোটি মানুষকে এই টিকা দেওয়া হবে। প্রথমে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা ডাক্তার নার্স, স্বাস্থ্য কর্মী অ্যাম্বুলেন্স চালক, দ্বিতীয় পর্যায়ে পুলিশ, আধা সেনা নিরাপত্তা কর্মী যারা কোভিড হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তৃতীয় পর্যায়ে ৫০ বছরের উর্দ্ধের বয়স্ক মানুষকে ও কোভিডের সঙ্গে অন্যান্য রোগে ভুগে থাকা মানুষদের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। ১৮ বছরের নিচে থাকা যুবক যুবতীদের এই রোগ সংক্রমণের হার নগন্য, তাই তাদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের এই টিকা দেওয়া হবে না বলে রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আজ জনতা ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে জানান শনিবার গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এ তিনি এবং সাইট ডিব্রুগড় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী টিকাকরণের সূচনা করবেন। রাজ্যে ২ লক্ষ ২১ হাজার ডোজ প্রথমে দেওয়া হবে। সবকে দুটি করে ডোজ, প্রথম ডোজের পর দ্বিতীয় ডোজ ১৪ দিন বাদ দেওয়া হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান এই টিকা নেওয়ার পর জ্বর, মাথা ব্যাথা, বমি প্রভৃতি প্রাথমিক পার্শ্ব ক্রিয়া হতে পারে, বলেন কোভিড ১৯ সংক্রমণ যে একেবারে নির্মূল হয়ে গেছে তা বলা যাবে না। আবার হতে পারে। বর্তমানে ১৬৫৬ জন করোনা রুগী আছে। আরোগ্যের হার ৯৮ থেকে ১০ শতাংশ। তিনি জানান, এই ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য ১ লক্ষ ৯০ হাজারের নাম রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। রাজ্যের ৬৫ টি স্থানে এই টিকা দেওয়া হবে, ১৩০০ সুপারভাইসর, ৪ হাজারের বেশি কর্মী এই কাজে লিপ্ত হবেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম তিনলাখ মানুষ কে বিনামূল্যে দেওয়া হবে। প্রথমে ১২ জন ডাক্তারকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। পদ্মশ্রী ডাক্তার ইলিয়াস আলী, ডাক্তার ধ্রুবজ্যোতি বরা, ডাক্তার হর্ষ ভট্টাচার্য্য, ডাক্তার বিভাস চন্দ্র গোস্বামী, ডাক্তার সুভাস খান্না প্রমুখ ডাক্তারকে প্রথম ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রথমে অভিজ্ঞ ডাক্তারদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে তাই সাইড এফেক্ট হলেও চিন্তার কিছু নেই।তবে সাধারণ মানুষকে যখন দেওয়া হবে তখন সমস্যা হতে পারে সাংবাদিকদের ভূমিকা হবে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন এই টিকা নিতে কেউ বাধ্য নন।









কোন মন্তব্য নেই