Header Ads

" আমরা বাঙালী" অসম রাজ্য কমিটির প্রতিবাদ...

 নয়া ঠাহর প্রতিবেদন, শিলচর :  মণিপুর রাজ্যের জিরিবাম জেলার বিভিন্ন স্থানের ঐতিহাসিক, তাৎপর্যপূর্ণ নামগুলি পরিবর্তন করার যে সরকারি প্রক্রিয়া চলছে, এই হঠকারী প্রক্রিয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে "আমরা বাঙালী" অসম রাজ্য কমিটি সহ এর কর্মকর্তারা। উনাদের মতে, এটা নিছকই অগণতান্ত্রিক তথা ইতিহাস বিকৃত করার প্রচেষ্টা। তাছাড়া, গত 23 শে ডিসেম্বর, জিরিবাম জেলা শাসকের কার্যালয়ে জিরিবামের বিভিন্ন ক্লাব, সংস্থা ও বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে জেলাশাসকের আহ্বানে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রসঙ্গত, জিরিবাম জেলার শহর কালীনগর। সেখানের কালী মন্দির অত্যন্ত সুপ্রাচীন, এছাড়া, এখানের  বাবুপাড়া সহ অন্যান্য অনেক স্থান দীর্ঘদিন ধরেই বাঙালীর অস্তিত্ব বহন করে আসছে। বর্তমানে সেই স্থানগুলির নাম পরিবর্তন করে বাঙালীর অস্তিত্ত্বকে বিপন্ন করা হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেন তারা। এছাড়াও 2001 সালে জাকুরাডহর থেকে যেভাবে বাঙালী উৎখাত করা হয়েছিল, ঠিক সেই ভাবেই ফের  বাঙালীদের উৎখাত করা হবে বলে আশংকা করছেন তারা। জিরিবাম অর্থাৎ জিরিভ্যালী 1800 সালে ইয়াণ্ডাবু চুক্তি মতে মণিপুরের অন্তর্ভূক্ত ছিল।  এবং তার পূর্বে কাছাড়ী রাজার রাজত্বের অন্তর্ভূক্ত ছিল। এবং সেইসময় ওই অঞ্চলে বাঙালীদের  ও বসবাস ছিল।  এর প্রমাণ এখানের স্থানের নামগুলিই বহন করছে।  সুতরাং অবিলম্বে এই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার দাবি জানান তারা।  এছাড়াও শুধুমাত্র বাঙালীদের লক্ষ্য করে জিরিবাম জেলায় নানা হয়রানি প্রক্রিয়ায় আধার কার্ড, স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হচ্ছে যা অন্যান্য এলাকায় নেই। তাই সরকারের এই বাঙালী বিদ্বেষী নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এই নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে দেশ জুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে তারা বাধ্য হবেন বলে এক প্রেস বিবৃতিতে জানান "আমরা বাঙালী"-র অসম রাজ্য কমিটির সচিব সাধন পুরকায়স্থ।

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.