শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির কাছে সুবিচার চাইলেন ত্রিপুরার চাকুরীচ্যুত ১০৩২৩ শিক্ষকরা
বিপ্লব বৈদ্য, আগরতলা : চোখেমুখে কালো কাপড় বেঁধে বুধবার আগরতলার রাজপথে দাঁড়িয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদের কাছে সুবিচার চাইলেন ত্রিপুরার চাকুরিচ্যুত ১০৩২৩ শিক্ষক- শিক্ষিকারা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এ বছরের ৩১ মার্চ চাকুরী হারান এই শিক্ষকরা। ৭ ডিসেম্বর থেকে রাজধানী আগরতলার প্যারাডাইস চৌমুহনীতে চাকুরী ফিরে পাবার দাবি নিয়ে এই হাড় হিম করা শীতের মধ্যেই লাগাতর গনঅবস্হানে বসেছেন চাকুরীচ্যুত শিক্ষকরা। এদিন ত্রিপুরা হাইকোর্টে ই - সেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করতে আগরতলায় আসেন দেশের শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি। শিক্ষকদের গন - অবস্হানস্হলের সামনের রাস্তা ধরে মাতাবাড়ির ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরে পূজো দিতে যেতে পারেন প্রধান বিচারপতি, এই খবর পেয়েই তারা চোখেমুখে কালো কাপড় বেঁধে সুবিচার পাওয়ার দাবি সম্বলিত পোস্টার বুকে লাগিয়ে রাস্তার দু- ধারে দাঁড়িয়ে থাকলেও,শেষমেশ প্রধান বিচারপতির কনভয় মাতাবাড়ি যায়নি এই পথ ধরে। প্রসঙ্গত পূর্বতন বাম সরকারের আমলে শিক্ষকতার চাকুরী পাওয়া এই শিক্ষকদের চাকুরী বাতিল করে দেয় ত্রিপুরা হাইকোর্ট। ২০১৪ সালে দেওয়া হাইকোর্টের রায় না মেনে শীর্ষ আদালতে যায় তৎকালীন রাজ্য সরকার। ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে শীর্ষ আদালতও। শীর্ষ আদালতের রায়ের পর শিক্ষকদের চাকুরীর বিকল্প ব্যবস্হা করতে ১৩ হাজার অশিক্ষক পদ তৈরি করে পূর্বতন বাম সরকার। অভিযোগ, রাজনৈতিক দুরভিসন্ধিমূলক অশিক্ষক পদের চাকুরী আটকাতে শীর্ষ আদালতে ফের জনস্বার্থে মামলা দায়ের করেন দেবাশীষ পাল চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। ২০১৮ সালের বিধানসভা ভোটের আগে ১৩ হাজার পদে নিয়োগে স্থগিতাদেশ দেয় শীর্ষ আদালত। বিধানসভা ভোটের আগে ১০৩২৩ শিক্ষকদের বিষয়টি আন্তরিক ভাবে দেখা প্রতিশ্রুতি দেয় ভিশন ডকুমেন্টে। ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একবার চাকুরীর মেয়াদ বাড়ানো হলেও ২০২০ সালের মার্চে চাকুরির মেয়াদ ফুরিয়ে যায় ১০৩২৩ শিক্ষকদের। পূজোর আগে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, ২০৩২৩ চাকুরিচ্যুতদের তিনটি সংগঠনের প্রতিনিধি দের ডেকে দুই মাসের মধ্যে ভালো খবর পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন চাকুরীচ্যুত শিক্ষক সংগঠনের নেতাদের। ৩ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতির দু- মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোন আশ্বাস না পেয়ে চাকুরীর স্হায়ী সমাধানের দাবিতে লাগাতর গন - অবস্থান শুরু করেছেন চাকুরীচ্যুত শিক্ষক - শিক্ষিকরা। অবস্হানের ১৭ দিনের মাথায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারের নেতৃত্বে বাম পরিষদীয় দলের বিধায়করা ১০৩২৩ শিক্ষকদের সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান বাম বিধায়করা। বিধানসভা ভোটের পর ১৩ হাজার পদে নিয়োগে স্থগিতাদেশও তুলে নেয় শীর্ষ আদালত। মন্ত্রীসভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ১৩ হাজার অশিক্ষিক পদে চাকুরীচ্যুত শিক্ষকদের নিয়োগের দাবি জানান বাম বিধায়করা।









কোন মন্তব্য নেই