Header Ads

সার্ভে রিপোর্টের ভিত্তিতেই দলীয় মনোনয়নঃ বার্তা রঞ্জিতের

বি.এম. শুক্লবৈদ্য, বিহাড়াঃ লক্ষ্য একশো প্লাস, তাই বরাকে কুচকাওয়াজ বিজেপির রাজ্যিক সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাসের। এরই অঙ্গ হিসেবে সোমবার কালাইন ফুটবল ময়দানে কাটিগড়া বিধানসভা সমষ্টির কার্যকর্তাদের নিয়ে সন্মেলনে বসলেন গেরুয়া দলের রাজ্য সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস। শ্রী দাস তার বক্তব্যে বলেন আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ৮০ হাজার ভোটে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনার ক্ষমতা রয়েছে বিজেপির কর্মকর্তাদের মধ্যে। একুশের নির্বাচনে একশো প্লাস এর লক্ষ্যমাত্রা ভেদ করতে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী কার্যকর্তা বুথ সভাপতিদের উপর প্রবল আস্থা রয়েছে রঞ্জিতের। তিনি বলেন বুথ সভাপতিরাই ৮০ হাজারের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করাতে সক্ষম। একুশে দলীয় প্রার্থী নির্বাচন সার্ভে রিপোর্টের আধারেই করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্যিক সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস। কাছাড় বিজেপির সভাপতি কৌশিক রাই এর পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত এদিনের সন্মেলনে রঞ্জিত কুমার দাস মূলত  শিক্ষকের ভূমিকাই পালন করেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণ মুখী প্রকল্প এবং রাজ্যের এলাকা ভিত্তিক ভোটার পরিসংখ্যান ইত্যাদির বিশ্লেষণ করেন রঞ্জিত। আসামে বিজেপি আবার কিভাবে রাজ্যে সরকার গঠন করতে পারবে সেটা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝিয়ে বলেন তিনি। দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে হলে কার্যকর্তাদের ভূমিকা ও  

জনগণের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে জনগণকে কিভাবে বিজেপি মুখী করে দলের অনুকূলে ভোট টানতে হবে সেটার ফর্মূলা বাতলে দেন। সাবলীল বাংলা ভাষায় রাখা বক্তব্যের আগাগোড়া অত্যন্ত হালকা চালে কার্যকর্তাদেরকে উৎসাহ যোগানোর কাজটা সুকৌশলে সারেন তিনি। বতর্মানে দলের যে গতি রয়েছে তাতে আগামীতে রাজ্যের শাসনভার বিজেপির দখলে রাখা শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। কোন বিরোধী রাজনৈতিক দল বিজেপির এই দুর্বার গতি রোধ করতে পারবেনা। কে প্রার্থী হবেন সেটা দলের কার্যকর্তাদের দেখতে হবেনা। যারাই প্রার্থী হবেন তাদের পেছনে গিয়ে সবাইকে দাঁড়াতে হবে এবং অবশ্যই তাদের জয়ী করে আনতে হবে। মুখে না বললেও রাজনৈতিক মহলের মতে হাসিমুখে এই স্পষ্ট বার্তার মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন কোন ধরনের লবিবাজী কিংবা অর্ন্তঘাতমূলক কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবেনা। দলীয় কার্যকর্তাদের সর্বব্যাপী এবং সর্বস্পর্শী হওয়ায় কথা বলেন তিনি। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দল কিভাবে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে সেটা রীতিমতো অঙ্ক কষে বুঝিয়ে দেন। দলীয় প্রার্থীকে জিতিয়ে আনতে দিবারাত্র কাজ করার আহ্বান জানান। প্রদেশ বিজেপির সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক ফণীন্দ্রনাথ শর্মা নিজের বক্তব্যে বিগত বিধানসভা নির্বাচনে কাটিগড়ায় বিজেপি দল যেটা করে দেখিয়েছে,তা একুশের নির্বাচনেও বিজেপি কার্যকর্তারা করে দেখানোর ক্ষমতা রাখে। নতুন নতুন দলীয় কার্যকর্তা সৃষ্টির মাধ্যমে দলীয় আদর্শ কেন্দ্রিক কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সাংসদ রাজদীপ রায় তার বক্তব্যে বলেন ৭২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোন রাজনৈতিক দলের সভাপতি টানা দশ দিনের সফরে বরাক উপত্যকায় এসেছেন। বিজেপির নীতি,আদর্শ ও ত্যাগ এই তিনের ওপর বিশ্বাস রেখে উপত্যকার জনগণ ফের বিজেপিকে রাজ্যের গদিতে আসীন করবেন। এছাড়া অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংসদ তপন কুমার গগৈ সহ অন্যরা। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন কালাইন মণ্ডল সভাপতি নিত্যগোপাল দাস। সন্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের কাটিগড়ার প্রভারি অভ্রজ্যোতি চক্রবর্তী,রথীন্দ্র সাহা, রাজ্য কমিটির কার্যকরী সদস্য প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম রায়, প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি বিপ্লব কান্তি পাল, নির্মলেন্দু চক্রবর্তী, জেলা পরিষদ উপ-সভানেত্রী লাভলী চক্রবর্তী, রত্না দাস, নিবাস দাস, কাটিগড়া মণ্ডল সভাপতি বিশালাক্ষ দেব বাবলা, জেলা পরিষদ সদস্য অসীম দত্ত, বিস্তারক গোপাল পাল সহ আরও অনেকে। সন্মেলনের শুরুতে বন্দে মাতরম এবং সবশেষে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.