বদরুদ্দিন মুখ্যমন্ত্রী হলে বাঙালি হিন্দুদের কোনো ক্ষতি নেই : প্রদীপ দত্ত রায়
বিশেষ সংবাদদাতা, শিলচরঃ বদরুদ্দিন মুখ্যমন্ত্রী হলে বাঙালি হিন্দুদের
কোনো ক্ষতি নেই বলে আজ এক বিবৃতিতে প্রদীপ দত্ত রায় বলেন, বদরুদ্দিন আজমলের
জুজু দেখিয়ে রাজনীতি করে এখন আর কোনও লাভ
হবে না। তাকে নিয়ে আজ যারা টিটকারি মারছেন এবং জুজু দেখিয়ে হিন্দুদের
সঙ্গে মুসলিমদের একটা বিভেদ সৃষ্টি করে হিন্দু ভোটটা যাতে শাসক দলের কাছে সেটা চলে
যায়, তার জন্য উঠে পড়ে
লেগেছেন। তাদের আমি বলতে চাই, আজমল
মুখ্যমন্ত্রী হলে বাঙালি হিন্দুদের কিছু যায় আসে না। আজমল অসমের সন্তান এবং খিলঞ্জীয়া।
তার যোগ্যতা থাকলে সে মুখ্যমন্ত্রী হবে হবে।
এবার নির্বাচনে বাঙালি হিন্দু এবং মুসলিম ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেবে। বাঙালি
হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা চলবে না। এই দুঃসময়ে বাঙালি হিন্দু এবং
মুসলিম যদি একত্রিত হয়ে থাকতে পারে, তাহলে সেটা হবে আমাদের একটা বিরাট শক্তি। অতীতে আমরা লক্ষ্য করেছি, যখন যে সরকারে থাকে, তারা তাদের কোনও সমস্যা হলে বাঙালি হিন্দু এবং
মুসলিমদের মধ্যে ঝগড়া লাগিয়ে দেয়। তারা যখন বাঙালি হিন্দুদের উপর অত্যাচার
করেছে, তখন বাঙালি
মুসলিমদের ব্যবহার করেছে। তারা হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তাদের
রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চায়। শাসকরা বিশেষকরে মুসলিমদের মন বিষাক্ত করে দিয়ে এই
রাজ্যে বাঙালি হিন্দু এবং মুসলিম দুই পক্ষেরই ক্ষতি করেছে। আমি মনে করি রাজ্যে এখন
বাঙালি হিন্দু এবং মুসলিম জোট হওয়া উচিত।
দিসপুর থেকে বলা হচ্ছে, কংগ্রেস দল নাকি
আজমল-ময় হয়ে যাবে, আজ মনের হাতে
গোটা আসাম চলে যাবে। আজ মনের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে যদি এতই চিন্তা তাহলে ২০১৪ সালে
ইমরান শাহকে অসম সাহিত্য সভার মত একটা নিরপেক্ষএবং ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের সভাপতির
দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তখন কি তার
ধর্মীয় পরিচয় মনে ছিল না? তাকে দায়িত্ব
দেওয়ায় সাহিত্য সভার কোন ধর্মীয় পরিচয় গড়ে উঠেছিল?
উদাহরণ আরও রয়েছে, কাশ্মীরে বিজেপি
সরকার গঠন করার লোভে মেহবুবা মুফতির দলের সঙ্গে জোট করেছিল। অথচ আজ কংগ্রেস যখন
আজমলের সঙ্গে জোট করছে তখন তারা হিন্দু-মুসলিম বিভেদ সৃষ্টি করতে চেষ্টা করছে।
হোজাইয়ের বিধায়ক শিলাদিত্য দেবকে শাসকদল মুসলমানদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের মন
বিষাক্ত করতে যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে। এরপর তাকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
আগামী নির্বাচনে এই হিন্দু-মুসলমান বিভেদের ইস্যু খুব একটা থাকবে না। নির্বাচনের
মূল ইস্যু হবে আসাম অ্যাকর্ডের ছয় নম্বর ধারা রুপায়ন হবে কি হবে না এর উপর। এই
ব্যাপারে বিজেপি-কংগ্রেস বা এজিপি, প্রত্যেক দলকে
নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে রাজ্যের মানুষের সামনে বলে দিতে হবে। ১৯৫১ না ১৯৭১,
এব্যাপারে যে দল স্পষ্ট
ঘোষণা করবে, তাদের দিকেই
মানুষের সমর্থন বা বিরোধিতা থাকবে।
এছাড়া বিগত নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী যেসব ঘোষণা করেছিলেন, ১৫ লক্ষ টাকা করে প্রত্যেক ব্যক্তিকে দেওয়া
হবে, বছরে দুই কোটি চাকরি হবে,
কাছাড় এবং জাগীরোড
কাগজকল খোলা হবে, ইস্ট-ওয়েস্ট
করিডোরের রাস্তার কাজ সম্পন্ন হবে ইত্যাদি, সেগুলোর জবাব শাসক দলকে দিতে হবে।
বরাক উপত্যকা, বিশেষ করে শিলচর
শহরকে ইস্ট এশিয়ার গেটওয় বানানো হবে বলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। এমনকি ইস্ট-ওয়েস্ট
করিডর রাস্তাটি গড়ে তোলার কাজ এখনও সম্পন্ন হয়নি। ৩১ কিলোমিটার কাজ এখনও বাকি
আছে, যদিও আমাদের সাংসদ রাজদীপ
রায় সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, এই বছর
ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ হবে। আমার মনে হয়না ২০২৩ এর আগে কাজটি সম্পন্ন হওয়া
সম্ভব। আমি উনাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দাবিটি করছি।
এবার নির্বাচনের আগে মুসলিম হিন্দু নির্বিশেষে বাঙ্গালীদের চিন্তা করতে হবে,
আসলে কে তাদের নিজের
মানুষ। সর্বাবস্থায় ঐক্য চাই, যাতে এই ঐক্যের
বিনিময় রাজ্যে বাঙালিরা জোর গলায় কথা বলতে পারে এবং নিজেদের দাবি আদায় করতে
পারে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে আমার প্রশ্ন, তারা বাঙ্গালীদের জন্য কী করবে সেটা আগে স্পষ্ট
করুক। তারপর বাঙালিরা চিন্তা করবে কোন দলকে ভোট দেবে। প্রত্যেক বাঙালির কাছে আমার
অনুরোধ, আপনারা আর
দিশপুরের প্ররোচনায় পা দেবেন না, আমাদের
হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ভাগ করে যারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চায় তাদের এখনই চিনে
নিতে হবে। নিজেদের মধ্যে আমরা আর কোনো বিভেদ সৃষ্টি হতে দেব না। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ
হয়ে থাকতে হবে, না হলে আগামী
দিনে আসামে আমাদের কোনো অস্তিত্ব আর থাকবে না। যারা এত বছর ধরে আমাদের ওপর
অত্যাচার হয়েছে, আমাদের ডিপ্রাইভড
করা হয়েছে, তাদের জবাব
আমাদের আজকে দিতেই হবে।
প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, তাঁর দল ক্ষমতায় এলে সমস্ত ডিটেনশন ক্যাম্প
গুড়িয়ে ভেঙে দেওয়া হবে, কিন্তু বাস্তবে
দেখা গেছে ডিটেনশন ক্যাম্প ভাঙ্গা তো দূরের কথা বাঙ্গালীদের টেনেহেঁচড়ে সেখানে
নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকারের টাকায় নতুন নতুন ডিটেনশন ক্যাম্প গড়ে তোলা হচ্ছে।
এই অত্যাচার আমরা আর সহ্য করব না, ধর্মের নামে
আমাদের মধ্যে আর বিভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। ধর্মীয় পরিচয় নয়, আমাদের অস্তিত্ব বড় কথা, সারা রাজ্যের বাঙালি হিন্দু মুসলিম প্রত্যেকের
কাছে আমার আবেদন এবার খুব ঠান্ডা মাথায়, চিন্তা ভাবনা করে ভোট দেবেন।









কোন মন্তব্য নেই