কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পশ্চিমবঙ্গ সফরে রাজনৈতিক অঙ্ক কষা শুরু হয়েছে
অমল গুপ্ত, কলকাতা : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিহারে নির্বাচনী প্রচারে না গিয়ে পশ্চিমবঙ্গকে পাখির চোখ করে গতকাল পশ্চিমবঙ্গে দু'দিনের সফরে এসে সাংগঠনিক সভা-সমিতি শুরু করেছেন। বাঁকুড়া জেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি জেলার পর আজ মুর্শিদাবাদ, কলকাতা সহ কয়েকটি জেলাতে বৈঠক করার পর দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে পুজো দেবেন। মুকুল রায়কে সর্বভারতীয় সহ সভাপতি পদে বসানোর পর তার পশ্চিমবঙ্গে সাংগঠনিক ক্ষমতা বেড়ে গেছে। সভাপতি দিলীপ ঘোষ চাপে আছেন। রাহুল সিনহার ক্ষোভ প্রশমনে ব্যবস্থা হয়েছে। কিন্তু রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে সেখানে অমিতাভ চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়ার পর রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তা ভালোভাবে নিতে পারেননি। দুই শিবির অমিত শাহের সামনে ক্ষোভ প্রকাশের জায়গা না থাকলেও অসন্তোষ থেকেই গেছে বলে দলীয় সূত্রে প্রকাশ। একদিন মমতা ঘনিষ্ট মুকুল রায় এখন বিজেপির সর্বেসর্বা। তিনি শাসক দল তৃণমূলের দুর্বলতার দিকগুলো ভালোমতোই জানেন। সেই ভাবে এগোচ্ছেন। সরকারের গুরুত্ত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব শুভেন্দু অধিকারী বেশ কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে নতুন ধারার আন্দোলন শুরু করেছেন। সারা রাজ্যে পোস্টার পড়েছে। আমরা শুভেন্দুর অনুগামী বলে পোস্টারে তৃণমূলের দলীয় প্রতীক নেই। মনে করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়, তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই টার্গেট। শুভেন্দু বার বার দলের নেতাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন দম্ভ নিয়ে নয়, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করবেন না, ব্যাক্তিগত লাভ লোকসান নিয়ে চলবেন না। রাজ্যপাল জগ দীপ ধনকর পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিন তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা করছেন। দার্জিলিঙের রাজ্যপাল ভবনে বসে ধনকর বলেই যাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন করার পরিবেশ নেই। আলকায়দার ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। মুর্শিদাবাদে আবার একজন আলকায়দার জঙ্গি ধরা পড়েছে। রাজ্যপাল সংবিধানের ৩৫৬ ধারা লাগু করার সুপারিশ করেছেন। মন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জী, প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায় প্রমুখ রাজ্যপালকে যথারীতি জবাব দিয়েই যাচ্ছেন। তারপরও রাজ্যপালের মুখ বন্ধ হচ্ছে না। অমিত শাহকে বিজেপি কর্মীরা কথা দিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে জয় এনে দেবে। রাজ্যপালের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা হাত গুটিয়ে বসে নেই। গতকাল মাতুয়াদের উন্নয়নে পৃথক পর্ষদ ঘোষণা করেন। বিড়ি মজদূরদের মজুরি বৃদ্ধি, উদ্বাস্তুদের জন্যে পাট্টা, বাউরি বাগদীদের আবাস গৃহ, কীর্তন একাডেমি গঠন প্রভৃতি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যে এক প্রস্ত উন্নয়ন প্রকল্প ঘোষণা করে অনগ্রসর শ্রেণীর সমর্থন আদাযের সব চেষ্টা করছেন।









কোন মন্তব্য নেই