Header Ads

‘আপত্তিকর মন্তব্য পত্রিকার, ভারত সরকারের নয়’--ক্ষমা চাইল আনন্দবাজার !!

বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়
বাংলাদেশকে চীনের বাণিজ্য সুবিধা দেওয়াকে ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে ‘খয়রাতি’ হিসেবে অভিহিত করা ছোট মানসিকতার পরিচয় বলে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের মন্তব্য আপত্তিকর। কিছু পত্রিকা ওই মন্তব্য করেছে। এ মন্তব্য ভারত সরকারের নয়।

পশ্চিমবঙ্গ (কলকাতা) থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকা বাংলাদেশের ৯৭ শতাংশ পণ্য চীনে বিনা শুল্কে রপ্তানির সুযোগকে ‘খয়রাতি’ বলে মন্তব্য করে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘এ বিষয়ে ভারতীয় কয়েকটি পত্রিকার প্রতিবেদন আমাদের নজরে এসেছে। চীনের দেওয়া সুবিধা সম্পর্কে যে শব্দের ব্যবহার তারা করেছে তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। তবে এর বিরুদ্ধে আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে চাই না। চীন যে সুবিধা দিয়েছে তা আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের দীর্ঘদিনের ফসল। অনেক দিন ধরেই আমরা এই সুবিধা চীনের কাছে চেয়ে আসছিলাম।’
অন্যদিকে আনন্দবাজার ভ্রম সংশোধন শিরোনামে লিখেছে, ‘লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং’  শীর্ষক খবরে খয়রাতি শব্দের ব্যবহারে অনেক পাঠক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ‌‌’‌অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী।’ এই শব্দের ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চাইলেও 'নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা' এই বিষয়টির ব্যাখ্যা দেয়নি। অর্থাৎ ঢাকার যে দুজন প্রতিনিধি রয়েছেন তাঁরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে কথা বলেনি কলকাতার এই পত্রিকাটি।
গত ২০ জুন আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেইজিং’- শীর্ষক এক প্রতিবেদনের শুরুতেই ‘বাণিজ্যিক লগ্নি আর খয়রাতির সাহায্য ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা চীনের নতুন নয়’ বলে লেখা হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের অনেক নাগরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আনন্দবাজার পত্রিকার নানা সমালোচনা করেছেন।
গত ২১ জুন আনন্দবাজার পত্রিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি কুদ্দুস আফ্রাদ এই রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই, এ রিপোর্ট আমার লেখা নয়। আমি নিজে এ রিপোর্টের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রিপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিক্রিয়ার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
পরে ডিজিটাল ভার্সনের অঞ্জন রায়ও একই কথা জানান। কিন্তু আনন্দবাজার সে বিষয়ে মন্তব্য করে নি-- অর্থাৎ এটি ডেস্ক রিপোর্ট কি না তাও স্পষ্ট করেনি !

No comments

Powered by Blogger.