Header Ads

কান্দি কালিবাড়ি শ্রীশ্রী হরিহরানন্দ সেবাশ্রম মন্দিরে শিব রূপী শৃগাল নেই, আছে বাদর কুল, স্বামী নিত্যানন্দের হাতের খাবার ছাড়া চলে না



নয়া ঠাহর প্রতিবেদন, গুয়াহাটি : শুধু কান্দি নয়, মুর্শিদাবাদ জেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান কান্দি দোহালিয়ার দক্ষিণ কালীবাড়ি ও সংলগ্ন শ্রীশ্রী হরিহরানন্দ সেবাশ্রম ১৩১০ সালে প্রতিষ্ঠিত, স্বামী নিত্যানন্দ ওরফে বাবলু প্রচন্ড পরিশ্রম করে মানুষের সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে সুন্দর শ্রীশ্রী হরিহরানন্দ মন্দিরটি নির্মাণ করেছেন। কান্দি শহরের বুকে গাছ-গাছালির সুন্দর স্নিগ্ধ ছায়াঘন পরিবেশে রামকৃষ্ণ আশ্রম ও লোকনাথ বাবার আশ্রমও সেখানে আছে। কালিবাড়ির বড় বড় গাছের নীচে অপরাহ্নে ধুপধুনো, বকুল ফুলের গন্ধ মাখা, আলো আঁধারে আরতি শুরুর পরেই পিছনের সবুজ মাঠ থেকে ছুটে আসতো সে, আরতির প্রসাদ খেয়েই ছুটে অন্ধকারে মিলিয়ে যেত শিবা, শিবা নেই, পুরোহিত মশাই শিবা শিবা বলে আর ডাকেন না। সেই শিবার এক প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। কান্দি গিয়ে দেখলাম কে বা কারা শিবার চরণতলে একটি ধূপ বাতি জ্বালিয়ে দিয়েছেন। সবার প্রিয় শিবা কিন্তু মাটির মূর্তি নয়, রক্ত মাংসের এক বুনো শৃগাল ছিল। দেবতার রূপে শৃগাল তাই নয় কি? এই কালীবাড়ি জঙ্গলের পশু-পাখিদের নিরাপদ স্থান। প্রতিদিন বেশ কিছু বুনো বাদর আসে, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, পেঁচা, সাপের দেখা মেলে। বুনো বাদরগুলোকে প্রতিদিন খাবার দেন স্বামী নিত্যানন্দ। তার হাত থেকে খাবার খাওয়ার জন্য বাদরগুলো অধীর আগ্রহের সঙ্গে বসে থাকে। এই কালীবাড়ির ৪ থেকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে জজান, সর্বমঙ্গলার মন্দির ও শিব মন্দির। বহু প্রাচীন ক্ষেত্র। হিন্দু-বৌদ্ধের মিলন স্থল বলে পরিচিত। চলে যান হিজল বিলের দিকে, দেখবেন প্রায় ৫০০ বছরের এক প্রাচীন তেঁতুল গাছ, আজও দাঁড়িয়ে আছে। হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থল। শুধু এক বুড়ো গাছ নয়, সে গাছটির প্রতিবেশী আন্দুল, হিজল শাসপাড়া গ্রামের গ্রাম দেবতা হিসাবে পূজিত হয়ে আসছে। চোখের অসুখ, বসন্ত রোগের সময় ওই তেঁতুল গাছের তলের মাটি শরীরে লাগালে রোগ ভালো হয় বলে ভক্তপ্রাণ মানুষদের বিশ্বাস।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.