Header Ads

'কোভিড-19 নভেল করোনা' -- ভাইরাস , না নেগেটিভ মাইক্রোবাইটাম ?

 সুকুমার সরকার, কলকাতাঃ

মানুষ প্রকৃতির কাছে এখনো কত অসহায় ! 'কোভিড-19 নভেল করোনা' ভাইরাস নামে ছোট্ট একটি অণুজীবৎ এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্ববাসীর ঘুম কেড়ে নিয়েছে । মানুষের স্বাস্থ্য , শিক্ষা , অর্থনীতি, রাজনীতি, ধর্মনীতি , সংস্কৃতি, খেলাধুলা সহ জীবনের সকল দিককে স্তব্ধ করে দিযেছে এই নভেল করোনা ভাইরাস । বিজ্ঞানের অহংকার সমস্ত প্রযুক্তিকে বুড়া আঙুল দেখিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সমগ্র বিশ্বব্যাপী । কিন্তু কী এই করোনা ভাইরাস ? কী তার জীবপঙ্কীয় সংরচনা পদ্ধতি ? কী ভাবে এর হাত থেকে বাঁচা যাবে সে ব্যাপারে বিজ্ঞান এখনো পর্যন্ত নীরব । অসহায়ের মতো করোনার কাছে থেকে লুকিয়ে থাকাকেই আপাত নিদানের ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে যাচ্ছেন ডাক্তার, বিজ্ঞানী , সরকার সহ সকলে ।

আসলে এতদিন পর্যন্ত বিজ্ঞান যে ফর্মুলায় জীবপঙ্কীয় সৃষ্টিচক্রে সূক্ষ্মতম সত্তা হিসেবে কার্বন বা কার্বন-পরমাণুর কথা বলে আসছিল এই করোনা ভাইরাস সেই ফর্মুলার অণুজীবৎ নয় । ফলে এই ভাইরাসের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য অজানাই শুধু নয় , নিয়ন্ত্রণের পথও বিজ্ঞানীদের নাগালের বাইরে । এখন প্রশ্ন হলো , সত্যিই কি এই করোনা ভাইরাস বা এই ধরণের অন্য কোনো বেয়ারা ভাইরাসের সম্পর্কে মানুষ কিছু জানতে পারবে না বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না ? বা নিয়ন্ত্রণের কোনো আশা নেই ?
অনেকের জানা এবং অনেকের অজানা হলেও একটি আশার কথা বলি , এই ধরণের অণুজীবৎ সম্পর্কে এই শতাব্দীর এক নব বিজ্ঞান রহস্যের উদ্গাতা শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার 1986 খ্রিষ্টাব্দে 'মাইক্রোবাইটাম -- ভূমাচৈত্তিক ধাতুর রহস্যজনক উৎসারণ' বলে একটি বিজ্ঞান রহস্যের কথা বলে গেছেন । সেই বিজ্ঞান তত্ত্বে তিনি সৃষ্টি রহস্যের মুলীভূত পার্টিক্যাল হিসেবে কার্বন ও কার্বন-পরমাণুর চেয়েও সূক্ষ্মতর একটি অণুজীবতের কথা বলেছেন । এই সূক্ষ্মতর অণুজীবৎ গুলির দেহ সংরচনা প্রচলিত কার্বন বা কার্বন-পরমাণুর দেহ সংরচনার মতো নয় । মাইক্রোবাইটামের দেহ সংরচনা কার্বন বা কার্বন-পরমাণুর চেয়েও সূক্ষ্ম এবং এদের গতিবিধিও কার্বন বা কার্বন-পরমাণুর মতো নয় । এতদিন পর্যন্ত বিজ্ঞানের ফর্মুলায় ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসরা যে মাধ্যমে চলাচল করতো বা করে মাইক্রোবাইটাম তারচেয়েও সূক্ষ্ম মাধ্যমে চলাচল করে । যেমন , শব্দ , স্পর্শ , গন্ধ , এমনকি আলোক তরঙ্গে এবং চিন্তা তরঙ্গেও মাইক্রোবাইটামরা চলাচল করতে পারে । বেঁচে থাকতে পারে এবং বংশ বিস্তার করতে পারে । আজ এই 'কোভিড-19 নভেল করোনা' ভাইরাস যেভাবে স্পর্শ তন্মাত্রের মধ্যে দিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষের শরীর স্বস্থ্যের ক্ষতি করছে তা দেখে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের মাইক্রোবাইটাম তত্ত্বের কথা মনে পড়ল । শ্রীসরকার মাইক্রোবাইটামের চরিত্র-বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে পজেটিভ , নেগেটিভ ও নিউটাল এই তিন ধরণের মাইক্রোবাইটামের কথা বলেছেন । বলেছেন, জড় অজড় সমগ্র সৃষ্টি প্রক্রিয়ার শারীরিক সংরচনা এবং উন্নত জীবের মানসিক এবং আধ্যাত্মিক সংরচনা ঘটণের জন্যও এই তিন ধরনের মাইক্রোবাইটামদেরই ভূমিকা । সর্ব ক্ষেত্রেই পজেটিভ বা নেগেটিভ মাইক্রোবাইটামই মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে । কিন্তু এতদিন পর্যন্ত বিজ্ঞান গবেষণায় এই মাইক্রোবাইটাম তত্ত্বটা যেহেতু অনালোচিত থেকে গেছে সেই হেতু এর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাও মানুষের হাতে নেই । ফলে পরিচিত কার্বনিক বা কার্বন-পরমাণবিক সংরচনার বাইরের অণুজীবৎ বা মাইক্রোবাইটাম মানুষের সংস্পর্শে এলে মানুষ তার চরিত্র-বৈশিষ্ট্যও যেমন বুঝতে পারে না , তেমনি নিয়ন্ত্রণও করতে পারে না । অসাহায়ের মতো মার খেতে হয় সেই অজানা অণুজীবতের কাছে । বললে হয়তো অত্ত্যুতি হবে না যে 'এই কোভিড-19 নামক নভেল করোনা তেমনই একটি
অণুজীবৎ । শুধু এই নভেল করোনা নয় , এই রকম অন্য আরও যে কোনো অণুজীবৎ পৃথিবীতে সৃষ্টি হতে পারে বা ভিন্ন গ্রহ থেকে আসতে পারে । সে ক্ষেত্রে বিপদ বা সুবিধা দুইই হতে পারে । অণুজীবৎ বা মাইক্রোবাইটাম যদি পজেটিভ হয় , তবে তার দ্বারা পৃথিবীর বা পৃথিবীর মানুষের কল্যাণ হবে । অণুজীবৎ বা মাইক্রোবাইটাম যদি নেগেটিভ হয় , তার দ্বারা পৃথিবীর বা পৃথিবীর মানুষের ক্ষতি হবে । এই সু বা কু প্রভাব সম্পর্কে অবিহিত শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার পূর্বাহ্নেই তার সপক্ষে এই নব বিজ্ঞান মাইক্রোবাইটামের ফর্মূলা দিয়ে গেছেন । কিন্ত জড় বা জৈব কোনো বিজ্ঞান গবেষকেরাই এতদিন পর্যন্ত বিষয়টি সম্পর্কে গুরুত্ব আরোপ করেননি ।
আজ একটি মাত্র করোনা ভাইরাস বা নেগেটিভ
মাইক্রোবাইটামের যেভাবে সমগ্র পৃথিবীকে অবরুদ্ধ করেছে এই রকম বা অন্য রকম আরও একটি বা অনেক নেগেটিভ মাইক্রোবাইটাম যদি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসে তখন কী করবে পৃথিবীর মানুষ ?
অনেকের অনুমান বা আশঙ্কা জৈব মারণাস্ত্র তৈরি করতে গিয়ে অসতর্ক মুহূর্তে গবেষকদের ল্যাবরেটরি থেকে এই জীবাণু ছড়িয়ে পড়েছে ।
কারা ছড়িয়েছে ?
একদল বলছেন আমেরিকা , আরেক দল বলছে চীন । এই চাপান উতোরের মধ্যে সমগ্র বিশ্বে এখন একটিই ত্রাস করোনাভাইরাস । সবাই সবকিছু ভুলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উঠে পড়ে লেগেছে এই মারণ ভাইরাসের মোকাবেলা করতে । কিন্তু মোকাবেলা করবে কী করে ? এই ভাইরাসকে মারার কোনো ওষুধই যে এখনো পর্যন্ত তৈরি হয়নি । এ যে সম্পূর্ণ এক নতুন ভাইরাস , যাকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো কায়দাই এখনো পর্যন্ত জানেন না বিজ্ঞানীরা । ফলে তার হাত থেকে বাঁচতে লুকিয়ে থাকাই একমাত্র প্রতিকার । আর তার জন্য সমগ্র বিশ্ব প্রায় অবরুদ্ধ । স্কুল-কলেজ বন্ধ । মল-দোকান বন্ধ । রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ থেকে শুরু করে ধর্মীয় সভা-সমাবেশ , জমায়েত বন্ধ । বাসে, ট্রেনে , বিমানে ভ্রমণ নিষিদ্ধ । বলা যেতে পারে এই মুহূর্তে সমগ্র বিশ্ব প্রায় অবরুদ্ধ । এই প্রথম কোনো একটি ছোট্ট অণুজীবৎ সমগ্র বিশ্বে এত বেশি ত্রাসের সঞ্চার করতে পেরেছে । এর আগেও অনেক মারণ ব্যধি পৃথিবীতে এসেছে । অনেক বেশি মানুষ মারা গেছেন । কিন্তু এত বেশি আতঙ্ক এর আগে অন্য কোনো ভাইরাস ছড়াতে পারেনি । ফলে এই ভাইরাস নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে । প্রশ্ন এক : এই ভাইরাস বহি:বিশ্ব থেকে আগত , না কৃত্রিমভাবে তৈরি ?
প্রশ্ন দুই : যদি কৃত্রিমভাবে তৈরি হয় , তবে তা তৈরি করতে যাওয়ার কী উদ্দেশ্য ছিল ?
প্রশ্ন তিন : চীন থেকে প্রথম এই জীবাণু ছড়ানোর কারণে চীনের অর্থনীতিকে কী ধাক্কা খেলো ? কিংবা চীনের অর্থনীতিতে এই ধাক্কা দেওয়ার জন্যই আমেরিকার একটি চাল ? যেমনটি দাবী করছে চীন ?
প্রশ্ন তিন : করোনাভাইরাস আতঙ্কের আবহে বিশ্ব রাজনীতির গতি প্রকৃতিকে কী ভিন্ন পথে পরিচালিত করে কোনো কোনো রাষ্ট্র কি তা থেকে কোনো ফায়দা লুটছে ?
প্রশ্ন চার : এই ভাইরাসের আতঙ্কের আবহে কোন্ দেশের বেশি লাভ হলো ?
প্রশ্ন পাঁচ : এই ভাইরাসের আতঙ্কের আবহে কোন্ দেশের বেশি ক্ষতি হলো ?
প্রশ্ন ছয় : যদি বহি:বিশ্ব থেকে আগত কোনো নেগেটিভ মাইক্রোবাইটাম হয়, তবে তার প্রতিকারের উপায় কী ?
উপায় উন্নত বিজ্ঞান গবেষণায় এবং ভৌত মানস-আধ্যাত্মিক স্তরের গবেষণার উন্নয়ন ঘটিয়ে পজেটিভ মাইক্রোবাইটামের পালসেশন বাড়ানো । যাতে করে শব্দ , স্পর্শ , গন্ধ , আলোক বা চিন্তা তরঙ্গ বা তন্মাত্র বাহিত যে কোনো নেগেটিভ মাইক্রোবাইটামকে পজেটিভ মাইক্রোবাইটামে রুপান্তরিত করা যায় । মাইক্রোবাইটামের এই এবংবিধ বিষয় বিপদ এবং সুপদ সম্পর্কে পূর্বাহ্নেই শ্রী সরকার তাঁর বিরাট দার্শনিক প্রজ্ঞায় বলে গেছেন , " এই মাইক্রোবাইটামরা তাদের রহস্যময় গতিবিধির দ্বারা বিভিন্ন জ্যোতিষ্কে অজস্র দেহ-সংরচনা , মানস-সংরচনা সৃষ্টি করে চলেছে । আবার তারাই বিভিন্ন গ্রহে , উপগ্রহে মানস সত্তাকে , জৈব-অজৈব সত্তার শরীর সংরচনাকে সৃষ্টি বা ধ্বংস করে চলেছে । কাজেই প্রাণের মূল কারণ এককৌশিক প্রোটোজোয়া বা অণুজীবপঙ্ক নয় । প্রাণের উৎস হ'ল এই মাইক্রোবাইটাম । এই মাইক্রোবাইটাম নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হওয়া দরকার । কাজটি অবশ্যই বিরাট । তবু বলব , অবিলম্বে এই বিষয়ে গবেষণার সূত্রপাত হওয়া দরকার । নইলে আজকের সমাজের বহুবিধ সংস্যার সুষ্ঠ সমাধান করা যাবে না । .... আর একটি কথা বলি , হিমাঙ্কে বা স্ফুটনাঙ্কেও মাইক্রোবাইটামের মৃত্যু ঘটে না । .... নেগেটিভ মাইক্রোবাইটামের স্বাভাবিক আয়ুষ্কালের পর তাদের স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়ে থাকে । যদি কেউ স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল শেষ হবার পূর্বেই নেগেটিভ মাইক্রোবাইটামকে ধ্বংস করতে চায় , সেক্ষেত্রে মানুষকে শুভ চিন্তা ও আধ্যাত্মিক সাধনার দ্বারা পজিটিভ মাইক্রোবাইটামের সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটাতে হবে । পজিটিভ মাইক্রোবাইটামের সংখ্যাবৃদ্ধিই নেগেটিভ মাইক্রোবাইটামের বিনাশকে ত্বরাণ্বিত করে । "(কণিকায় মাইক্রোবাইটাম --শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার ; পৃষ্ঠা-4 এবং 49 পৃষ্ঠা ।)
সুতরাং স্থূল জড় জাগতিক হলেও আধি-ব্যাধির এই প্রকোপ জড় জগত ছাড়িয়ে শরীর-মানস এবং মানস-আধ্যাত্মিক স্তরেরও বিষয় হয়ে ওঠে । সেক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে পজিটিভ মাইক্রোবাইটামের পালসেশন সৃষ্টি করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় থাকে না । আজকের এই আজানা বেয়ারা মাইক্রোবাইটাম যাকে 'কোভিড-19 নভেল করোনা' ভাইরাস বলা হচ্ছে , তা আসলে নেগেটিভ মাইক্রোবাইটাম । মাইক্রোবাইটাম সম্পর্কে যেহেতু প্রচলিত বিজ্ঞান এখনো পর্যন্ত নীরব তাই তাঁরা এই কোভিড করোনা সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত দিতে পারছেন না । এমতাবস্থায় এই ভাইরাসের বা মাইক্রোবাইটামের হাত থেকে বাঁচতে এর থেকে দূরত্ব বজায় রাখাটাকেই নিদানের পথ মনে করছেন । তবে, আশার কথা , এই ভাইরাসকে প্রতিহত করতে সমবেত ভাবে যে প্রচেষ্টা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে । অর্থাৎ একটি গণ সচেতনতার পরিবেশ সৃষ্টি করে সকলকে এর মকবেলায় এগিয়ে আসতে হচ্ছে । একই ভাবে মানসিক এবং আধ্যাত্মিক স্তরে উন্নত মানস-আধ্যাত্মিক সাধনার দ্বারা যদি প্রভূত পরিমাণে পজিটিভ মাইক্রোবাইটামের ভাইব্রেসান সৃষ্টি করা যায় তাহলে হয়তো এই ধরণের বা অন্য কোনো ধরণের নেগেটিভ মাইক্রোবাইটামকে প্রতিহত করা সম্ভব হবে । আর তখনই মানুষ নি:শ্চিন্ত হতে পারবে । এটি উন্নত বিজ্ঞান গবেষণার দ্বারাও সম্ভব । বিজ্ঞানীদের উচিত হবে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের এই মাইক্রোবাইটামিক তত্ত্বটাকে ভালো করে উপলব্ধি করে সেই মতো গবেষণায় এগিয়ে আসা ।

No comments

Powered by Blogger.