Header Ads

বাবুল সুপ্রিয় কাণ্ডের পর যাদবপুরের মাটিতে পা দিয়েই ‘বিতর্কে’ রাজ্যপাল

বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত প্রদানকারী 'কোর্ট বৈঠকে’ আচার্য হিসেবে রাজ্যপালের উপস্থিত থাকতে পারে বলে আগেই শোনা গিয়েছিল। এবার সেই বৈঠকে এসেই বিতর্কে জড়ালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। পদাধিকার বলে রাজ্যপালেরই কোর্টের বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা। বৈঠক কিছু দূর গড়ানোর পরই দানা বাঁধতে থাকে বিতর্ক। 
সামনের ডিসেম্বরেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সমাবর্তন পালন হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর। সমাবর্তনে কাদের ডিলিট-ডিএসসি দেওয়া হবে, তা নিয়েই আজ কোর্ট মিটিং সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা। একটি বিশেষ সূত্রে জানা যাচ্ছে ডিলিট-ডিএসসি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মনোনীত প্যানেলের সঙ্গে প্রথমে সহমত হতে পারেননি রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সেই সময় তাকে একাধিক শিক্ষকের সঙ্গে বাদানুবাদেও জড়াতে দেখা যায় বলেও খবর। 
রাজভবনে গিয়ে পরবর্তীতে তিনি তার পছন্দের তালিকা প্রকাশ করতে পারেন বলে ঘনিষ্ঠ মহলে জানান রাজ্যপাল। কিন্তু মিটিং চলাকালীন সময়েই যাতে রাজ্যপাল তার 'পছন্দসই’ নামের তালিকা কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন সেই বিষয়ে রাজ্যপালের কাছে পাল্টা দাবি জানাতে থাকেন বৈঠকের একাধিক সদস্য। এর কিছু সময় অতিবাহিত হতেই সুর নরম করতে দেখা যায় রাজ্যপালকে। বিশ্ববিদ্যালয় মনোনীত চারটি নামই মেনে নেন তিনি। যদিও কারা কারা ওই সাম্মানিক উপাধি পেতে চলেছেন সেই বিষয়ে এখনও সুস্পষ্ট ভাবে কিছু জানা যায়নি। 
প্রসঙ্গত গত মাসে বাবুল সুপ্রিয় কাণ্ডের পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পাওয়ার পর এই প্রথম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেন রাজ্যপাল। নিরাপত্তা বাহিনীর ঘেরাটোপে এদিন দুপুরে ২ নম্বর গেট দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢোকে রাজ্যপালের কনভয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভাগ অরবিন্দ ভবনে তাঁকে অভ্যর্থনাও জানান উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। যদিও রাজ্যপালের আগমনকে ঘিরে কয়েকদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে চড়ছিল উত্তেজনার পারদ। এদিন অরবিন্দ ভবনে অবস্থান-বিক্ষোভের ডাকও দেয় একাধিক বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। 
এদিন ক্যাম্পাস চত্বরে সাদা পোশাকের পুলিশ ঘুরতে দেখা যায় বলে সূত্রের খবর। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে ক্যাম্পাসে পুলিশ ডাকার ক্ষেত্রে তারা আগ বাড়িয়ে কিছু করছে না। পুলিশ স্বতঃ:প্রণোদিত হয়ে কিছু করলে তার দায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। ইতিমধ্যেই নজিরবিহীন ভাবে কোর্ট বৈঠকে শিক্ষকদের সঙ্গে রাজ্যপালের এই বাদানুবাদ ঘিরে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে শিক্ষা-মহলে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.