Header Ads

অযোধ্যা মামলা--আজ থেকে শেষ দফায় শুনানি শুরু, জেলায় জারি ১৪৪ ধারা, শীঘ্রই ঘোষণা হতে পারে রায় !

বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : ভারতবর্ষ একমাত্র দেশ যেখানে হিন্দুদের আরাধ্য দেবতা শ্রীরামের মন্দির নির্মাণ করতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলে রামভক্তদের ক্ষোভ চরম সীমায় পৌঁছে গেছে। ইসলাম হোক বা খ্রিস্টান কোনো ধর্মেই তাদের ধর্মীয় মসজিদ বা চার্চ নির্মাণ করতে এত লড়াই সংগ্রাম করতে হয় না। একমাত্র রামের জন্মস্থানে মন্দির করার জন্য হিন্দুদের দীর্ঘ সময় ধরে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। তবে সম্ভবত এবার রামজন্মভূমি বিতর্ক সমাপ্ত হবে। অযোধ্যার রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিতর্ক মামলা সোমবার থেকে শেষ দফার বিচার সুপ্রিম কোর্টে শুরু হতে চলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে অযোধ্যায় চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। একটি বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রশাসন অযোধ্যাতে ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করেছে এবং জেলাকে প্রায় দুর্গে পরিণত করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই যে, উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের সরকার চলছে। একইসাথে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর সরকারও ক্ষমতায়। ফলে দেশে শান্তি বজায় রাখার পূর্ণ দায়িত্ব বর্তাচ্ছে এই দুই সরকারের ওপর। দেশে কোনোরকম অশান্তি যাতে না ছড়িয়ে পড়ে তার দিকে খেয়াল রাখার কাজ তাই শুরু হয়ে গেছে।
সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় ধারা ৪৪ কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, দীপোৎসব, চেহলুম ও কার্তিক মেলার সময় এই আদেশ কার্যকর থাকবে। জেলায় বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবে এবং এক মাসের মধ্যে অর্থাৎ ১৭ নভেম্বরের মধ্যে আদালত এই ইস্যুতে অন্তিম রায় জানাতে পারবে।
নিরাপত্তা বাহিনীর প্রথম দলটি ১৮ ই অক্টোবর থেকে জেলায় পৌঁছানো শুরু করবে। এতে পিএসি, সিআরপিএফ এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স সংস্থার সৈন্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। অযোধ্যা সিদ্ধান্ত নিয়ে জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অযোধ্যায় সুরক্ষার ব্যবস্থাপনার জন্য বিপুল সংখ্যক বাহিনী নিযুক্ত করার কাজ চলছে। জেলার 200 টি স্কুল বাহিনীর জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে, পাশাপাশি বিদ্যালয়ের তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রামভক্তরা আশা করছেন সুপ্রিম কোর্ট খুব তাড়াতাড়ি দেশে রামমন্দির নির্মাণের  ঘোষণা করে বিতর্কের অবসান ঘটাবে। শুধু এই নয়, এই বিতর্ক মিটলে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতাকেও নষ্ট করা যাবে। অযোধ্যা বিতর্কে বহুবার দেশে মানুষে মানুষে সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরি হয়। বিতর্ক মিটলে তার অবসান ঘটবে এবং সাম্প্রদায়িক ঐক্য বৃদ্ধি পাবে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.