প্রসঙ্গ : ঊর্মিমালা বসু !!
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : এমন একটা প্রসঙ্গ নিয়ে কলম ধরতে হচ্ছে বলে নিজেরই খুবই খারাপ লাগছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কয়েকদিন আগে যা ঘটেছে এবং সেখানে ছাত্রছাত্রীদের পাঁচ ঘন্টা ধরে তাণ্ডবের যে চেহারা দেখেছি ও তার প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি’র ছাত্রসংগঠনের কর্মী সদস্যরাও যে প্রলয়নাচন নেচে এসেছে আমি তার কোনটাকেই সমর্থন করি নি। পুরো ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাত এবং অভিমুখ লক্ষ্য করে আমার মনে হয়েছে ওটা ছিল সম্পূর্ণভাবেই পূর্বপরিকল্পিত এমন এক জঘন্য চিত্রনাট্যের নাট্যরূপ যা কিছু কুচক্রীর গভীর ষড়যন্ত্রের ফলশ্রুতি মাত্র। ঘন্টার পর ঘন্টা চলতে থাকা ঐ ঘটনাপ্রবাহে যদি রাজ্যপালের সক্রিয় ভূমিকা না থাকত তাহলে ঐ অসহনীয় পরিস্থিতি আরও কত সময় ধরে চলত বলা কঠিনই ছিল। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ-রাজ্য প্রশাসন-উপাচার্য্য এবং দুই বিবদমান ছাত্রগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যথেষ্ট পরিমাণে কঠোর প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকলেও আমি সে প্রসঙ্গে যাচ্ছি না।
ঘটনার প্রচুর অডিও-ভিডিও ক্লীপিংস রয়েছে--কতটা কি কি ঘটেছিল তা কারুর বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়। প্রচুর পরিমাণে নৌটঙ্কির মালমশলাও চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। সিপিএমের দুই ‘‘বড়’’ নেতার বিবৃতিও ঘটনার দিন এবং পরের দিন সামনে এসেছে।
বাম+উগ্র বামপন্থীরা চিরকালই নিজেদের দেবদূত প্রতিপন্ন করার জন্য নাটকীয় ভাষা ও ভঙ্গির নিয়মিত চর্চা এবং প্রয়োগ করে আসছে। বামবিরোধী প্রতিটি প্রাণীই সাম্রাজ্যবাদের দালাল-সাম্প্রদায়িক-স্বৈরাচারী-ধর্মীয় বিভাজনকারী ইত্যাদি যতকিছু বদগুণ আছে সবকিছুরই অধিকারী। এসব প্র্রমাণের জন্যে তারা কতদূর যেতে পারে তার অসংখ্য নজির বাংলার রাজনীতিতে টকটকে লাল অক্ষরে লেখা আছে। আমি অনেকটাই জানি তাই এসব নিয়ে আমি বিশেষ মাথা ঘামাই না এবং পাত্তাও দিই না। কিন্তু আমি আর রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ তো একই ছাঁচে তৈরি মানুষ নয়--আমার কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা স্বার্থ নেই--কিন্তু দিলীপবাবুর ষোল আনার ওপর আঠারো আনা রয়েছে। তিনি প্রদশে বিজেপি’র সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করার সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গিয়েছিলেন তৃণমূল-বাম-কংগ্রেসের মুখের ভাষাকে বেশ খানিকটা পিছনে ফেলে এগিয়ে না গেলে মানুষ নেতা হিসেবে মান্যতা দেবে না। কাজেই তিনি খুব দ্রুত বোঝাবার চেষ্টা শুরু করে দিলেন--‘হম্ কিসি সে কম নেহি !’
যাদবপুরে ছাত্রছাত্রীদের কাণ্ডারখানা দেখে তিনি দুম্ করে ছাত্রীরা কিসের ব্যবসা করে তা জানতে চাইলেন। তাঁর এই ভাষা এবং বক্তব্য যে কতটা দুর্গন্ধ ছড়ালো বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বাতাবরণে তিনি সেটা বিন্দুমাত্র উপলব্ধি করতে পারেন নি--হয়তো তাঁর অনুভবের শক্তিটা সে জায়গাতেই নেই যেখানে থাকলে এই কথা তাঁর মুখেই আসত না। তিনি বললেন--কিন্তু এই অমার্জনীয় বচনের জন্য কোনও অনুতাপ প্রকাশ করলেন না। সন্তানের মতো ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তাঁর উচ্চারিত ঐ বাক্য রাজ্যের মানুষ ক্ষমা না করলেও তাঁর দলের বেশ কিছু কর্মী-সমর্থক দারুণ উজ্জীবিত বোধ করে কুৎসিত মিম ছড়িয়ে চলেছে--যাকে তাকে শিকার বানাচ্ছে !
নিজের সন্তানের আচরণে তিনি কতদূর ক্ষিপ্ত হলে এ ধরণের কথা বলতে পারতেন আমার জানা নেই--কিন্তু পিতৃতুল্য যে কোন (অবশ্যই অরাজনৈতিক) মানুষ শাসন করতেন--নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করতেন--কিন্তু এই ধরণের কথা নিজের সন্তানকে লক্ষ্য করে উচ্চারণ করতে পারতেন কি?
তিনি পেরেছেন বলেই তাঁর চ্যালা-চামুণ্ডারা কাকে কি বলছে এক সেকেণ্ডও ভেবে দেখছে না। ঊর্মিমালা বসুকে তারা কেউ চেনে না বা বাংলা সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তাঁর অবস্থানটা ঠিক কোথায় তারা কেউ জানে না যদি ধরেও নিই তাহলেও প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে লকেট চট্টোপাধ্যায়-জয় বন্দ্যোপাধ্যায়-শমীক ভট্টাচার্য্য-মুকুল রায়দের কাছে--ঊর্মিমালা বসুকে কি আপনারাও চেনেন না? নাকি তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ বামঘেঁষা বলে তাঁকে কুৎসিত ভাষায় আক্রমণের অধিকার জন্মায় ! সেই কারণেই কি আপনারা এখনও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন? প্রতিবাদ না করে যদি এইভাবে চুপ করে বসে থাকেন তাহলে আপনাদের ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল হয়ে উঠছে বলে আমি মনে করি না। ক্ষমতার দম্ভ এবং ঔদ্ধত্য যদি নির্বিচারে সীমা অতিক্রম করে যায় তাহলে তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে সাধারণ মানুষ কখনো কৃপণতা করে নি। বামপন্থীরা তা হাড়ে হাড়ে টের পেলওে দুর্ভাগ্যবশতঃ তারা তাদের তাত্ত্বিক ধারাপাতের বাইরে থেকে কোন শিক্ষাই এখনও শিখে উঠতে পারছে না।
এখন আর কল্পকথার গল্পে মানুষকে বেকুব বানিয়ে যা খুশি তাই গেলানো যায় না। চারপাশে অসংখ্য চ্যানেলের ক্যামেরা ছাড়াও হাজার হাজার স্মার্ট ফোন সেই সুদিন কেড়ে নিয়েছে--নাটকীয় আঁতলেমী আর মিথ্যাচার দিয়ে নিজেদের মুখের কালি মোছা যাচ্ছে না। মানুষ যা দেখছে তা নিয়ে তারা নিজেরাই নিজেদের মতো করে ভাবছে।
দলমত নির্বিশেষে ঊর্মিমালা বসুর পাশে দাঁড়িয়ে এইসব কুৎসিত আচরণের নিন্দা করছেন অনেকেই। শুধু তাঁকেই নয়--ফেসবুকে আরও অনেককেই এভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে--এর কিন্তু একটা মারাত্মক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে--যার ফল খুব সুখকর না-ও হতে পারে। সব রাজনৈতিক ওস্তাদদেরই এই কথাটা মাথায় রাখা দরকার !









কোন মন্তব্য নেই