মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে দিল্লিতে পাশাপাশি বাড়িতে মুকুল-মমতা, ভিড় বিজেপি নেতাদের
বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায় : বাংলার নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক কাজে দিল্লি গিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে রাজ্য নিয়ে নানা দাবিদাওয়া পেশ করবেন তিনি। যে সাক্ষাৎ ঘিরে বাংলার তো বটেই জাতীয় স্তরে আলোচনা চলছে। দেশে প্রবল মোদী বিরোধী বলে পরিচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন আচমকা প্রধানমন্ত্রী সমীপে হাজির হচ্ছে তা নিয়ে নানা মহলে নানা আকাশকুসুম জল্পনা অব্যাহত। তবে ঘটনা হল, মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়ে এগিয়ে এসেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রীই।
সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রের ডাকা একাধিক বৈঠকে রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত থাকেনি। মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে কেন্দ্র যে বৈঠকের আয়োজন করেছিল, তাতেও মমতা থাকেননি। বার্তা স্পষ্ট ছিল, কেন্দ্রের নানা কার্যকলাপে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান হিসাবে তিনি অসন্তুষ্ট। ফলে কেন্দ্র কোনও সহযোগিতা তা করলে রাজ্যও আর হাত বাড়িয়ে দেবে না।
তবে আচমকা মতবদল কয়েকদিনেই। যে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে হরণ করার অভিযোগ এনে কয়েকদিন আগেই টুইট করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী, যে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সারা দেশে সুপার এমার্জেন্সি বলবৎ করার অভিযোগ এনেছিলেন, তারই প্রশাসনিক প্রধানের সঙ্গে দেখা করতে দিল্লি চলে গেলেন মমতা।
দিল্লি গেলে প্রাক্তন সাংসদ মমতা যে বাড়িতে ওঠেন, ঘটনাচক্রে তার পাশের বাড়িটিই প্রাক্তন তৃণমূল সেকেন্ড ইন কম্যান্ড মুকুল রায়ের। ভাইপো অভিষেক, ডেরেক ও'ব্রায়েন সহ একাধিক তৃণমূল সাংসদদের পরপর কটেজ রয়েছে। মুকুল যবে থেকে তৃণমূলে ছিলেন তখন থেকেই তিনি ওই ঘরে থাকতেন। বিজেপিতে দলবদলের পরও ঘর পাল্টায়নি। ফলে মমতা গিয়ে উঠেছেন মুকুলের পাশের ঘরে।
জানা গিয়েছে, বিজেপি নেতারা মুকুলের ঘরে ভিড় করে রয়েছেন। মোদীর সঙ্গে মমতার কী কথা হয়, তার প্রেক্ষিতে কে কোন বার্তা দেন, সেটাও সকলের আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগের দিন থেকেই মুকুল রায়ের বাড়িতে কার্যত ক্যাম্প করে রয়েছেন বিজেপির বিভিন্ন সাংসদেরা। যার মধ্যে তৃণমূল থেকে আগতরাও রয়েছেন। ফলে দিল্লিতে সাংসদদের বাসভবন চত্বর বাংলার সাংসদদের পদচারণায় অন্য মাত্রা পেয়েছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরের মধ্যেই দিল্লিতে রাজ্য বিজেপিরও কর্মসূচি। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফর শুরু সঙ্গেই রাজধানীতে গিয়েছেন মুকুল রায়, অর্জুন সিং এবং সৌমিত্র খান। সূত্রের খবর অনুযায়ী দিল্লিতে তাঁরা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরব হবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাপে রাখতেই এই কৌশল বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা ঘটছে। এমনটাই অভিযোগ বিজেপির। তাদের কর্মী সমর্থকদের হত্যা করা হচ্ছে কিংবা কর্মী সমর্থকদের বিরুদ্ধে মামলার পাহাড় জমছে। সেইসব ঘটনাই সারা দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরতে চায় বিজেপি। যার নেতৃত্বে রয়েছেন এই তিনমূর্তি।
দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লিতে মুকুল রায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলো পাশাপাশি। দিল্লিতে গেলে ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলোতেই ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে দিল্লিতে গিয়ে রাজ্য বিজেপির সাংসদরাই ভিড় জমিয়েছেন মুকুল রায়ের বাংলাতে। ফেল কেউ কেউ বলছেন একেবারে পাশের বাড়ি থেকে মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপরও নজর রাখছে বিজেপি।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, একদিকে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, সেই সময় রাজ্য থেকে নির্বাচিত বিজেপি সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানানোর প্রস্তুতিও নিচ্ছেন। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিজেপি সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে !










কোন মন্তব্য নেই